চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবন সিটিক টাওয়ারে একটি ছোট স্পোর্টস বিমান আঘাত হেনেছে। আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেলের এই দুর্ঘটনায় পুরো বাণিজ্যিক এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বহুতল ভবনটি থেকে দ্রুত মানুষদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় সময় বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে একটি ছোট বিমান ৫২৮ মিটার (১০৮ তলা, প্রায় ১ হাজার ৭৩২ ফুট) উঁচু সিটিক টাওয়ারের ওপরের দিকের তলাগুলোতে সরাসরি ধাক্কা দেয়। আঘাতের পরপরই বিমানের ধ্বংসাবশেষ ও ভবনের ভাঙা অংশ চারপাশের ফুটপাত এবং নিচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়তে থাকে।
ভবনটিতে কর্মরত লিন নামের এক নারী সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁদের অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে ভবন থেকে বের করে আনা হয়। তিনি বলেন, ‘আমি এতটা আতঙ্কিত ছিলাম যে আমার আইডি কার্ড বা ব্যাগ কোনো কিছুই সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ পাইনি, ওভাবেই দৌড়ে বের হয়ে এসেছি।’
দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ সিটিক টাওয়ারের চারপাশের সব রাস্তা বন্ধ করে দেয় এবং উৎসুক জনতাকে সরিয়ে দিয়ে পুরো এলাকা অবরুদ্ধ করে রাখে। ভবনের নিচে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে এই দুর্ঘটনায় বিমানের আরোহী বা ভবনের ভেতরে থাকা কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবিতে এর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ‘বি-১২ পিপি’ দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার ২৪-এর রেকর্ড অনুযায়ী, বিমানটি ছিল একটি ‘সানওয়ার্ড এসএ ৬০ এল অরোরা’। এটি চীনের স্টারএয়ার এয়ারক্রাফট কোম্পানির তৈরি দুই আসন ও একক ইঞ্জিনের একটি হালকা স্পোর্টস বিমান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বিমানটি স্থানীয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের। এরা মূলত ব্যক্তিগত পাইলট প্রশিক্ষণ, আকাশভ্রমণ (সাইটসিয়িং) ও বিমান ব্যবস্থাপনার কাজ করে। তবে এ বিষয়ে শুক্রবার রাতে চীনের সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। উল্টো দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত সব ভিডিও এবং পোস্ট চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দ্রুত মুছে ফেলা (সেন্সর) হচ্ছে।
বেইজিংয়ের আকাশে যেকোনো ধরনের হালকা বিমান ওড়ানোর জন্য সিভিল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব চায়না এবং পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ারফোর্সের অনুমতির প্রয়োজন হয়। গত মাসে বেইজিং তাদের আকাশসীমায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিনোদনমূলক উড্ডয়ন এবং ড্রোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
এমন এক কঠোর নিয়মের মধ্যে কীভাবে একটি বিমান রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে ঢুকে বেইজিংয়ের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় বহুজাতিক সংস্থা চায়না ইন্টারন্যাশনাল ট্রাস্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের সদর দপ্তরে আঘাত হানল, তা নিয়ে বড় ধরনের রহস্য ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ২০১৮ সালে নির্মিত এই সিটিক টাওয়ারটি বেইজিংয়ের আগের সর্বোচ্চ ভবন চায়না ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারকে প্রায় ১৯০ মিটার পেছনে ফেলে রাজধানীর বুকে সর্বোচ্চ ল্যান্ডমার্ক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।