উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী শাসক হিসেবে মেয়ে কিম জু আয়েকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন কিম জং-উন। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) আজ বৃহস্পতিবার দেশটির আইনপ্রণেতাদের এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ এই খবর নিশ্চিত করেছে।
এনআইএস জানিয়েছে, কিম জু আয়েকে আগে ‘উত্তরাধিকার প্রশিক্ষণের’ পর্যায়ে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, তাঁকে ‘উত্তরাধিকারী মনোনয়নের’ চূড়ান্ত স্তরে উন্নীত করা হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী বিষয়ে তার মতামত প্রদানের লক্ষণ দেখে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে সিউল।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতা লি সিউং-কোয়েন সাংবাদিকদের বলেন, কিম জু আয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী দিবস এবং কুমসুসান প্যালেস অব দ্য সানের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আয়োজনে যেভাবে উপস্থিত ছিলেন, তাতে স্পষ্ট যে তিনি এখন দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতার মর্যাদা পাচ্ছেন।
কিম জু আয়ের বয়স বর্তমানে ১৩ বছর বলে ধারণা করা হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে সে তার বাবার সঙ্গে চীন সফরে গিয়েছিল, যা ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। সেখানে বেইজিং রেলস্টেশনে কিমের ব্যক্তিগত সাঁজোয়া ট্রেন থেকে নামার সময় তাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহরে পিয়ংইয়ংয়ের মে ডে স্টেডিয়ামে আতশবাজি প্রদর্শনী চলাকালীন কিম জং-উনের গালে তার চুমু খাওয়ার দৃশ্যটি উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ঘটা করে প্রচার করা হয়েছে, যা দেশটির কঠোর প্রটোকল অনুযায়ী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
দেশ হিসেবে উত্তর কোরিয়া অত্যন্ত রক্ষণশীল ও পুরুষতান্ত্রিক। সেখানে কিম জং-উনের বড় ছেলে থাকা সত্ত্বেও কেন এক কিশোরী মেয়েকে উত্তরাধিকারী করা হচ্ছে, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে কিমের বোন কিম ইয়ো জংও বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন, তবে পুরো দেশ শাসনের দায়িত্ব কোনো নারী পাবেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
এনআইএস মনে করে, কিমের আরও দুটি সন্তান রয়েছে, কিন্তু জু আয়ে ছাড়া আর কাউকেই এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আনা হয়নি। তাই ধারণা করা হচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী শাসক হিসেবে কিম জু আয়েকেই আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করবেন কিম জং-উন।