ফিলিপাইনের জনগণকে ‘বানর’ হিসেবে উপস্থাপন করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও প্রচার করায় চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম চায়না ডেইলির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিপাইন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিডিওটিকে বর্ণবাদী, অপমানজনক এবং মানসিকভাবে কষ্টদায়ক বলে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ম্যানিলা।
চায়না ডেইলির ফেসবুক পেজে গত ১০ জুলাই প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ফিলিপাইনের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা একটি বানরকে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের প্রতীকী দুটি হাত কী গান গাইতে হবে তা নির্দেশ দিচ্ছে। পরে ‘দক্ষিণ চীন সাগর সালিশি রায়’ লেখা একটি কাগজ বের করতেই বানরটিকে সমুদ্রে ছুড়ে ফেলা হয় এবং জলকামান দিয়ে আক্রমণ করা হয়।
ভিডিওটি প্রকাশ করা হয় দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি ট্রাইব্যুনালের ঐতিহাসিক রায়ের দশম বার্ষিকীর দিন। ২০১৬ সালের ওই রায়ে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের বিস্তৃত দাবিকে আইনগতভাবে ভিত্তিহীন ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে বেইজিং সেই রায় বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং স্কারবরো শোল (চীনের ভাষায় হুয়াংইয়ান দ্বীপ) ও আশপাশের জলসীমার ওপর নিজেদের ‘অবিসংবাদিত সার্বভৌমত্ব’ দাবি করে।
ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরো ভিডিওটিকে ‘আঞ্চলিক নেতৃত্বের দাবি করা কোনো রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষায়—যুক্তি, প্রমাণ ও আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে চীন এখন বর্ণবাদ, ভয়ভীতি ও ঘৃণার আশ্রয় নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই ভিডিও ফিলিপাইনের জনগণ ও সেনাদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে মহিমান্বিত করেছে এবং চীনের প্রচারযন্ত্রের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করেছে।
দক্ষিণ চীন সাগরে প্রবেশাধিকার ও মাছ ধরার অধিকার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সম্প্রতি স্কারবরো শোলের প্রবেশমুখে চীন একটি প্রতিবন্ধক স্থাপন করলে ফিলিপাইনের প্রতিবাদের মুখে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ফিলিপিনো জেলেদের অভিযোগ, চীনা কোস্টগার্ড এখনো তাদের নৌকায় জলকামান ব্যবহার করছে এবং নোঙরের দড়ি কেটে দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করছে। এ ছাড়া স্কারবরো শোলের কাছে প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকা গঠনের চীনা পরিকল্পনাকেও ফিলিপাইন কার্যত ওই অঞ্চলে দখলদারির কৌশল হিসেবে দেখছে।
এ ঘটনায় চীনা কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।