হোম > বিশ্ব > এশিয়া

অস্ট্রেলিয়ার সৈকতে ভেসে এল রহস্যময় ৬ গোলাকার বস্তু, কী সেগুলো

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে ভেসে আসা গোলাকার বস্তুগুলোর একটি। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার নর্থ কুইন্সল্যান্ডের সৈকতে ভেসে এসেছে সন্দেহজনক ৬ গোলাকার বস্তু। বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, এগুলো মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ এবং সম্ভবত ‘স্পেস বল’ হতে পারে। এক বিশেষজ্ঞের মতে, রকেট উৎক্ষেপণের পর এ ধরনের বস্তু প্রায়ই অবশিষ্ট থেকে যায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি আজ রোববার নিশ্চিত করেছে, রহস্যময় এসব বস্তুর প্রকৃতি ও উৎস নির্ধারণে তারা কাজ করছে। এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, বস্তুগুলোতে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, টাউনসভিলের ফরেস্ট বিচ এলাকায় সৈকতে ভেসে আসা বস্তুগুলো দেখতে বড় আকারের গোলকের মতো।

কুইন্সল্যান্ড ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানায়, সৈকতে মোট ছয়টি গোলাকার বস্তু পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটিকে নিরাপদে ড্রামের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আর ষষ্ঠ বস্তুটিকে রোববার নিরাপদ করার কাজ চলছিল বলে বিভাগের এক মুখপাত্র জানান।

এদিকে স্থানীয় একটি খাবারের দোকান ফরেস্ট বিচ টেকঅ্যাওয়ে ঘটনাটিকে ঘিরে ইতোমধ্যেই ‘স্পেস জাঙ্ক স্ন্যাক বক্স’ নামে একটি খাবারের প্যাকেজ বিক্রি শুরু করেছে। দোকানের সামনে থাকা একটি চকবোর্ডে লেখা হয়েছে, * ‘আমাদের সৈকতে ভেসে আসা কিছু জিনিসের মতো নয়, অন্তত এগুলো কী তা আপনি চিনতে পারবেন।’

পুলিশ জানিয়েছে, ‘স্থানীয় জনগণের জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই এবং এ ঘটনায় পুলিশ কোনো তদন্ত চালাচ্ছে না।’

ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আগামী কয়েক দিনে এ এলাকায় আরও ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসতে পারে।’ তারা আরও জানায়, ‘বর্তমানে স্থানীয় জনগণের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই।’ তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির দেওয়া তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ধ্বংসাবশেষগুলোর প্রকৃতি এবং এগুলোর উৎস এখনো নির্ধারণ করা হচ্ছে।’

পুলিশ এবং ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে কাজ করা অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির এক মুখপাত্রও নিশ্চিত করেছেন, বস্তুগুলোকে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ বলে মনে করা হচ্ছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ‘নর্থ কুইন্সল্যান্ডের ফরেস্ট বিচে পাওয়া সন্দেহভাজন মহাকাশের ধ্বংসাবশেষের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি। আমরা ধ্বংসাবশেষগুলোর প্রকৃতি এবং এগুলোর উৎস নির্ধারণে কাজ করছি।’

ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির মহাকাশ প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং মহাকাশের আবর্জনা বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক অ্যালিস গোরম্যান সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওচিত্র পর্যালোচনা করে বলেছেন, বস্তুগুলোর গায়ে আগুনে পোড়া বা দগ্ধ হওয়ার কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘এটি ইঙ্গিত করে যে এগুলো সম্ভবত কোনো রকেটের একটি ধাপের অংশ, হয়তো প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপের। রকেটের বাকি অংশ যখন মহাকাশে পেলোড পৌঁছে দিতে এগিয়ে যায়, তখন এই অংশটি পৃথিবীতে ফিরে আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে এগুলো রকেটের জ্বালানি সিস্টেমের অংশ। এগুলো চাপযুক্ত জ্বালানি সংরক্ষণের পাত্র, যা টাইটেনিয়াম অ্যালয়ের তৈরি এবং যার গলনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি।’ তিনি বলেন, ‘এগুলো আসলে স্পেস বল নামে পরিচিত। উৎক্ষেপণের বহু বছর পরও এগুলো খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। সম্ভবত কেউ এগুলোকে আকাশ থেকে পড়তে দেখেনি।’

তবে গোরম্যান বলেন, বস্তুগুলো মহাকাশ শিল্পের অংশ নাও হতে পারে। এগুলোর উৎস সামুদ্রিকও হতে পারে। তাঁর ভাষ্য, যদি এগুলো সত্যিই ‘স্পেস বল’ হয়, তাহলে এর ভেতরে কিছু পরিমাণ হাইড্রাজিন থেকে যেতে পারে, যা অত্যন্ত বিষাক্ত রকেট জ্বালানি। তিনি ধারণা প্রকাশ করেন, এগুলো রাশিয়ার ফ্রেগাট রকেটের অংশও হতে পারে। কারণ ওই রকেটের জ্বালানি ধাপে একই ধরনের চাপযুক্ত জ্বালানি পাত্র ব্যবহার করা হয়।

গোরম্যান বলেন, ১৯৮০-এর দশকের মার্কিন বিজ্ঞান কল্পকাহিনিভিত্তিক কমেডি চলচ্চিত্র স্পেস বলসে সঙ্গে যেন কেউ বিভ্রান্ত না হন। বাস্তবের এই স্পেস বলই হলো ‘সবচেয়ে বেশি পাওয়া মহাকাশীয় বর্জ্যের অংশ।’ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের বস্তু পাওয়া গেছে।

বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে ৩০ হাজারেরও বেশি ধ্বংসাবশেষ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে কার্যকর উপগ্রহ থেকে শুরু করে রকেট উৎক্ষেপণের পর অচল হয়ে পড়া বিভিন্ন যন্ত্রাংশও রয়েছে। গোরম্যান বলেন, ‘মহাকাশের আবর্জনা সাধারণত সমুদ্রের ওপর দিয়েই পৃথিবীতে ফিরে আসে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া একটি বিশাল স্থলভাগ হওয়ায় আমাদের দেশেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মহাকাশের আবর্জনা এসে পড়ে।’

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশে উৎক্ষেপণের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় মহাকাশের আবর্জনাও ক্রমেই বড় সমস্যা হয়ে উঠছে। তাঁর ভাষায়, ‘গত পাঁচ বছরে যত মহাকাশ উৎক্ষেপণ হয়েছে, তা মানব ইতিহাসের আগের সব সময়ের মোট উৎক্ষেপণের চেয়েও বেশি। এর অর্থ হলো এখন অনেক বেশি বস্তু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ করছে।’

মাতৃত্বকালীন ছুটিতে মেয়র, জাপানজুড়ে বিতর্কের ঝড়

ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়ায় মার্কিন পাইলটসহ বিমান জ্বালিয়ে দিল বিদ্রোহীরা

টিকটক লাইভে চুমু—শরিয়াহ আইনে বেত্রাঘাতে অচেতন ইন্দোনেশিয়ার নারী

পিকআপের ধাক্কায় থাইল্যান্ডে ৮ বৌদ্ধ ভিক্ষু নিহত, চালক ১১ বছরের শিশু

মিয়ানমারের জান্তার অভ্যুত্থান-পরবর্তী ৫ বছরে গৃহযুদ্ধে নিহত ১ লাখের বেশি

শাহবাজ-মোদিকে চিঠি ভারত-পাকিস্তানের ১১৭ বিশিষ্ট ব্যক্তির, সংলাপের আহ্বান

৪০ বছরের মধ্যে রেকর্ড পতনের মুখে জাপানি ইয়েন

গৃহযুদ্ধ: মিয়ানমারে স্কুলবঞ্চিত ৬৩ লাখ শিশু

থাইল্যান্ডে স্যুটকেসে মিলল কিশোরীর মরদেহ, অস্ট্রেলীয় গ্রেপ্তার

রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ এমএইচ-৩৭০ বিমানের অনুসন্ধান আরও এক বছর বাড়ল