হোম > বিশ্ব > এশিয়া

স্কুলছাত্রীর মৃত্যুতে স্তব্ধ মালয়েশিয়া, কাঠগড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মালয়েশিয়ার পুলিশ এ ঘটনার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দায়ী করেছে। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় একটি হৃদয়বিদারক ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির সেলাঙ্গর প্রদেশের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্র তারই সহপাঠী ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে। ঘটনাটির জন্য পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দায়ী করেছে এবং সরকারও কঠোর নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, মর্মান্তিক ওই ঘটনা ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে কুয়ালালামপুরের কাছাকাছি সেলাঙ্গরের এক স্কুলে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে এক শিক্ষক ছাত্রীটির চিৎকার শুনে ছুটে যান এবং টয়লেটের কাছে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

পুলিশ জানায়, মেয়েটির শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার ৩০ মিনিটের মধ্যে সন্দেহভাজন কিশোরকে আটক করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে দুটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

সেলাঙ্গর পুলিশের প্রধান শাজেলি কাহার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, মানসিক অস্থিরতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব—এই দুটি কারণ কিশোরের আচরণের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এখনো হত্যার স্পষ্ট উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা যায়নি।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর কড়াকড়ি আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার জন্য অনিয়ন্ত্রিত মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারই অনেকাংশে দায়ী। অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের দায়িত্ব যেমন আছে, তেমনি সরকারেরও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা জরুরি।

আনোয়ার ইব্রাহিম আরও জানান, আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়ে আলোচনা হবে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, রক্তে ভেজা স্কুলড্রেস পরে এক কিশোর ছুরি হাতে বিদ্যালয়ের করিডরে হাঁটছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ছাত্রী ও অভিযুক্ত কিশোরের মধ্যে আগে কোনো সম্পর্ক বা কথাবার্তাও হয়নি।

এদিকে অভিযুক্ত কিশোরের বাবা স্থানীয় গণমাধ্যম ‘চায়না প্রেস’কে বলেছেন, ‘আমি ভেঙে পড়েছি। আমার ছেলের এই কাজের কোনো ব্যাখ্যা নেই। আমি জানি, যা-ই বলি না কেন, তাদের মেয়েকে আর ফিরিয়ে আনতে পারব না।’ তিনি জানান, ছেলে স্বভাবতই চুপচাপ ও অন্তর্মুখী ছিল এবং ঘটনার দিন সকালে তার আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেননি।

এ হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক নজরদারি ও অনলাইন সংস্কৃতির প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আমাদের দেশে তেল নেই, আছে বাঘ আর কুমির—ট্রাম্পকে নিয়ে মজা করছেন মালয়েশীয়রা

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের মৃত্যুদণ্ড চাইলেন কৌঁসুলিরা

থাইল্যান্ডে যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর ক্রেন ছিঁড়ে পড়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২

থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত অন্তত ২৫

রোহিঙ্গাদের জীবনকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে মিয়ানমার—আদালতের শুনানিতে গাম্বিয়া

নজিরবিহীন সমুদ্র অভিযানে জাপান, ৬ কিমি গভীর থেকে তুলবে বিরল খনিজ

রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু, অবশেষে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় মিয়ানমার

ভারতে এই প্রথম আফগান দূতাবাসের দায়িত্ব নিচ্ছেন কোনো তালেবান কূটনীতিক

‘নেপালকে বাংলাদেশ হতে দেব না’, নানামুখী চাপে হতাশ সুশীলা কারকি

প্রতিরক্ষা জোট গঠনের পথে পাকিস্তান-সৌদি আরব-তুরস্ক