জাপান সরকার জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নাগাসাকি প্রিফেকচারের উপকূলবর্তী বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইইজেড) অবৈধভাবে অবস্থান করা একটি চীনা মাছ ধরার নৌকা জব্দ করা হয়েছে। জাপানের মৎস্য সংস্থার পরিদর্শক নৌকাটিকে থামার নির্দেশ দিলে সেটি পালানোর চেষ্টা করেছিল। পরে জাপানি কর্তৃপক্ষ নৌকাটি আটক করে এবং এর ৪৭ বছর বয়সী চীনা ক্যাপ্টেনকে গ্রেপ্তার করে।
জাপানের মৎস্য সংস্থা জানিয়েছে, নৌকাটিতে মোট ১১ জন আরোহী ছিলেন। জাপানি গণমাধ্যমে এটিকে উচ্চ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ‘টাইগার নেট’ ফিশিং বোট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ২০২২ সালের পর এই প্রথম কোনো চীনা মাছ ধরার নৌকা জব্দ করা হলো।
ঘটনার পর জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা এক বিবৃতিতে বলেন—বিদেশি নৌযানের অবৈধ মাছ ধরার কার্যক্রম প্রতিরোধে আইন প্রয়োগ কার্যক্রম জোরদার ও কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। তবে এই বিষয়ে এখনো বেইজিং আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেছিলেন, চীন যদি বলপ্রয়োগে তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করে, তবে টোকিও সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে। এই বক্তব্যে বেইজিং তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় এবং একে ‘চরম আপত্তিকর’ বলে আখ্যা দেয়।
শুধু তাই নয়, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাপানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এবং নাগরিকদের জাপানে ভ্রমণ ও পড়াশোনার বিষয়ে সতর্ক করে। এর ফলে জাপানে চীনা পর্যটকের সংখ্যা কমে যায় এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট শেয়ারে প্রভাব পড়ে। এমনকি চীনে সফররত জাপানি শিল্পীদের অনুষ্ঠান বাতিল ও জনপ্রিয় জাপানি সিনেমার মুক্তিও স্থগিত করা হয়।
সবশেষে, জাপানের শেষ দুই পান্ডাকেও গত মাসে চীনে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাটিকে দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।