হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

গাজায় ট্রাম্প জামাতার ৬ ধাপের পরিকল্পনা, ডেটা সেন্টার–উৎপাদনকেন্দ্রসহ আরও যা আছে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

জ্যারেড কুশনার গাজাকে যেভাবে গড়ে তোলার চিত্র প্রকাশ করেছেন। ছবি: ভিডিও থেকে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার গাজাকে যুক্তরাষ্ট্রের আদলে ‘মুক্তবাজার অর্থনীতির নীতিতে’ গড়ে তোলার একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। পরিকল্পনায় উপকূলজুড়ে উঁচু ভবন, ব্যবসায়িক জেলা এবং আধুনিক নগর অবকাঠামোর কথা বলা হয়েছে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বোর্ড অব পিসের সনদ স্বাক্ষরের সময় এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার ইউটিলিটি ও জনসেবা খাত উন্নয়নে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হয়েছে।

এই পরিকল্পনায় ৬ ধাপের উন্নয়ন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে গাজার দক্ষিণাঞ্চল থেকে এবং ধাপে ধাপে উত্তরের দিকে এগোবে। প্রথম ধাপে রাফাহ এবং খান ইউনিসের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দ্বিতীয় ধাপে খান ইউনিসের অন্যান্য অংশে উন্নয়ন হবে। তৃতীয় ধাপে মধ্য গাজার শরণার্থীশিবিরগুলো উন্নয়নের আওতায় আনা হবে। চতুর্থ ধাপে গাজা সিটিতে পুনর্গঠনের ওপর জোর দেওয়া হবে।

প্রস্তাবে একটি নতুন বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, মালবাহী রেললাইন ও লজিস্টিকস করিডর, রাফাহে একটি নতুন ত্রিপক্ষীয় সীমান্ত ক্রসিং এবং গাজার বিভিন্ন শহরকে সংযুক্ত করতে নতুন সড়ক নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া গাজার উপকূলজুড়ে ‘কোস্টাল টুরিজমের’ জন্য নির্দিষ্ট এলাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে ১৮০টি মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

গাজার কেন্দ্রীয় এলাকায় আবাসিক পাড়া ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে। এসব শিল্পাঞ্চলে ‘ডেটা সেন্টার এবং উন্নত উৎপাদন সুবিধা’ থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসা ও উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে বাণিজ্যিক অঞ্চল, ব্যবসায়িক জেলা এবং অনুদানের জন্য অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ তহবিল রাখার কথাও বলা হয়েছে।

কুশনারের উপস্থাপিত নিউ রাফাহ—শিরোনামের একটি স্লাইডে বলা হয়, দক্ষিণের শহর রাফাহে ১ লাখ আবাসন ইউনিট নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি সেখানে ২০০ টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৭৫টি চিকিৎসাকেন্দ্র এবং ১৮০টি ‘সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও কারিগরি কেন্দ্র’ গড়ে তোলা হবে। আরেক স্লাইডে বলা হয়, ২০৩৫ সালের মধ্যে গাজার সম্ভাব্য জিডিপি হবে ১০ বিলিয়ন ডলার। ওই সময় গড়ে প্রতিটি পরিবারের বার্ষিক আয় হবে ১৩ হাজার ডলারের বেশি।

ফিলিস্তিনি-আমেরিকান লেখক সুসান আবুলহাওয়া এই পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হলো ‘গাজার নিজস্ব আদিবাসী চরিত্র মুছে ফেলা, অবশিষ্ট জনগণকে তাদের ‘শিল্পাঞ্চল’ পরিচালনার জন্য সস্তা শ্রমশক্তিতে পরিণত করা এবং পর্যটনের জন্য একটি একচেটিয়া উপকূল গড়ে তোলা।’ তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘এই ভূমির আদিবাসী ঐতিহ্য ও সামাজিক কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।’

কুশনার বলেন, গাজায় ‘মুক্তবাজার অর্থনীতির নীতি’ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে হোয়াইট হাউস। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প যে ‘একই মানসিকতা, একই পদ্ধতি’ প্রয়োগ করছেন, সেটিই গাজায় প্রতিফলিত করতে চাওয়া হচ্ছে।

ভাষণের আরেক অংশে কুশনার হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, হামাসের ভারী অস্ত্রগুলো তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্ক্রিয় করা হবে। ছোট অস্ত্রগুলো ধাপে ধাপে নিষ্ক্রিয় করা হবে একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশের মাধ্যমে। তাঁর দাবি, সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে না।

উপস্থাপনার একটি স্লাইডে বলা হয়, হামাস সদস্যদের ‘ক্ষমা ও পুনর্বাসন’ অথবা ‘নিরাপদে অন্যত্র চলে যাওয়ার সুযোগ’ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বলা হয়, ‘কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের’ পর তাদের একটি অংশকে নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। কুশনার বলেন, নিরস্ত্রীকরণ শেষ হলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা ঘিরে একটি নিরাপত্তা পরিধিতে সরে যাবে। তিনি জানান, গাজায় বিনিয়োগ নিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটনে একটি সম্মেলন আয়োজন করা হবে।

সন্দেহভাজন রুশ ট্যাংকারের ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে আটক করল ফ্রান্স

আমাদের শিশুদের মস্তিষ্ক বিক্রির জন্য নয়—সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের ঘোষণা মাখোঁর

বিদায়, স্যার মার্ক টালি—যাঁর কণ্ঠে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে জেনেছিল বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের আতঙ্কের নাম এখন গ্রেগরি বোভিনো

এগোচ্ছে মার্কিন নৌবহর, যেকোনো হামলাকে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে দেখবে ইরান

কুকি নারীর প্রেমে করুণ পরিণতি—মণিপুরে আবারও বিভাজনের শঙ্কা

চীনের তাইওয়ান দখলের উপযুক্ত সময় কি এসে গেছে

মানালির ৬৮৫ সড়কে বরফে ঢাকা হাজারো গাড়ি, আটকে পড়েছেন লাখো পর্যটক

‘১৫ মিনিটের মধ্যে রাজি হও, নয়তো মৃত্যু’, মাদুরোকে আটকের পর দেলসিকে বলেছিল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন পুলিশের গুলিতে ফের একজন নিহত