হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের টেলিকনফারেন্সের প্রস্তাব এরদোয়ানের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিকনফারেন্সের প্রস্তাব দিয়েছেন এরদোয়ান। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে টেলিকনফারেন্স আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। লক্ষ্য—দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমানো। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক দিনের মধ্যে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলেছেন। সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে এরদোয়ান তাঁকে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দেন।

তুরস্কের ওই কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প এই উদ্যোগে আগ্রহ দেখালেও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এখনো এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। আঙ্কারার অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর ধারণা, চলতি সপ্তাহে ইস্তাম্বুল সফরে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তেহরানের প্রতিক্রিয়া পৌঁছে দিতে পারেন।

ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক আব্বাস আরাগচি আজ শুক্রবার তুরস্কে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। তবে এই আলোচনার প্রস্তাব সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে পারবে কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। কর্মকর্তারা জানান, জুন মাসে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের সময়ও তুরস্ক ইরানকে একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তেহরান সে প্রস্তাব গ্রহণ করেনি এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।

আঙ্কারা বারবার বলে আসছে, তারা ইরানে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে। বুধবার হাকান ফিদান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচিত ধাপে ধাপে, ‘ফাইল বাই ফাইল’ বা ধারাবাহিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধান করা।

ইরান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে ইসরায়েলের প্রভাব গভীর বলে মনে করা হয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং পারমাণবিক গবেষণাকে হুমকি হিসেবে দেখছেন এবং তা শেষ করতে আগ্রহী।

উত্তেজনা প্রশমনের অংশ হিসেবে হাকান ফিদান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক ফোনালাপ ও বৈঠক করেছেন। একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশ। তুরস্কের দৈনিক হুররিয়াত পত্রিকার কলাম লেখক হান্দে ফিরাত গতকাল বৃহস্পতিবার লেখেন, আঙ্কারা কূটনীতিকেই একমাত্র পথ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তিনি লেখেন, ‘আঙ্কারার লক্ষ্য ছিল ক্রমবর্ধমান সংকট কমানো, পক্ষগুলোকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ ঠেকানো।’

হান্দে ফিরাত আরও লেখেন, ‘কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, এসব উদ্যোগ না থাকলে আজ অঞ্চলটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে পারত। সংকট আপাতত স্থগিত হয়েছে, কিন্তু সমাধান হয়নি।’ ফিরাত উল্লেখ করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি নেতানিয়াহু চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য চাপ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, তেহরান যদি ইরানের তেল সম্পদ বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতার প্রস্তাব দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবার আলোচনায় ফিরতে পারে।

বুধবার ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এক ‘বিশাল আর্মাডা বা নৌবহর’ ইরানের দিকে এগোচ্ছে। তেহরান কোনো চুক্তিতে রাজি না হলে ‘ব্যাপক দ্রুত সহিংস’ হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে অপহরণে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেন। তবে তিনি বলেন, ইরানের দিকে পাঠানো বহরটি দক্ষিণ আমেরিকায় পাঠানো বহরের চেয়েও ‘বড়।’

ট্রাম্প লেখেন, ‘ভেনেজুয়েলার মতোই এটি প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং প্রয়োজনে দ্রুতগতি ও সহিংসতার সঙ্গে নিজের লক্ষ্য পূরণে সক্ষম।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আশা করি, ইরান দ্রুত আলোচনায় বসবে এবং একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক চুক্তি করবে, কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়, যা সব পক্ষের জন্য ভালো হবে।’ ট্রাম্প বলেন, ইরানের জন্য ‘সময় ফুরিয়ে আসছে।’ তিনি জুন ২০২৫ সালে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো বিমান হামলার কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি লেখেন, ‘আমি ইরানকে আগে একবার বলেছিলাম—চুক্তি করো। তারা করেনি, আর তখন হয়েছিল ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’, যা ইরানের বড় ধরনের ধ্বংস ডেকে আনে। পরের হামলা আরও ভয়াবহ হবে। এটা আবার ঘটতে দিয়ো না।’

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মিডল ইস্ট আই সোমবার জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরানের ‘উচ্চমূল্যের’ কর্মকর্তা ও কমান্ডারদের বিরুদ্ধে নির্ভুল হামলার কথা ভাবছেন। অভিযোগ রয়েছে, চলতি মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের জন্য এসব কর্মকর্তা ও কমান্ডাররা দায়ী।

বুলেটের বদলে বই—সিরিয়ার শিশুদের মুখে হাসি ফেরাচ্ছে ‘সাংস্কৃতিক বাস’

মার্কিন হামলা হলে এবার ইরানের প্রতিক্রিয়া কেন ভিন্ন হতে পারে

ঋতুকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নারীর ‘মৌলিক অধিকার’—ভারতে ঐতিহাসিক রায়

সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত হচ্ছে বিদ্রোহী কুর্দিরা, চুক্তি স্বাক্ষর

মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কানাডার আলবার্টা প্রদেশের স্বাধীনতাকামীদের বৈঠক

ইরানে কমান্ডো অভিযানের কথাও ভাবছেন ট্রাম্প

মদ্যপান ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, যুগলকে ১৪০ বার দোররা

নেতার মৃত্যুর পর মহারাষ্ট্রে একীভূত হচ্ছে এনসিপির দুই অংশ

আধিপত্য নয়, মধ্যপ্রাচ্যের প্রয়োজন অন্তর্ভুক্তিমূলক নিরাপত্তা চুক্তি: তুরস্ক

প্রযুক্তিভিত্তিক বহুমাত্রিক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী: আসিম মুনির