হোম > বিশ্ব > ভারত

ভারতে গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রেস্তোরাঁ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

নয়ডার একটি রেস্তোরাঁর ভেতরের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ সংকুচিত হয়ে আসছে ভারতজুড়ে। এ কারণে, দেশটিতে রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলো আজ মঙ্গলবার সম্ভাব্য বিঘ্ন এবং এমনকি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্পখাতের অনুরোধগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এতে জ্বালানির দাম এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে। ফলে কাতার ও সৌদি আরবের মতো উপসাগরীয় উৎপাদকদের রপ্তানি ও উৎপাদনও হুমকির মুখে পড়েছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানিকারক ভারত গত সপ্তাহে জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে পরিশোধনাগারগুলোকে অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পেয়ে বিপাকে পড়েছে আতিথেয়তা শিল্প।

ভারতে মেক্সিকান খাবারের চেইন ক্যালিফোর্নিয়া বুরিতোর প্রতিষ্ঠাতা বার্ট মুলার বলেন, ‘আমাদের কাছে মাত্র দুই দিনের এলপিজি মজুত আছে। আমরা বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।’ ভারতের দক্ষিণের বেঙ্গালুরু ও চেন্নাই থেকে শুরু করে উত্তরের দিল্লি ও নয়ডা পর্যন্ত শতাধিক আউটলেট রয়েছে এই ব্র্যান্ডটির। তিনি বলেন, ‘আমরা গ্যাস সাশ্রয় করছি এবং কিছু আউটলেটে ইনডাকশন চুলা বসাচ্ছি।’

ভারতের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন শিল্পখাতে এলপিজি সরবরাহের অনুরোধগুলো পর্যালোচনা করতে একটি প্যানেল গঠন করা হয়েছে। দুটি শিল্পসংগঠনের আবেদন পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পাঁচ লাখের বেশি রেস্তোরাঁর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (এনআরএআই) সোমবার ভারতের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ মন্ত্রণালয়কে জানায়, ‘রেস্তোরাঁ শিল্প মূলত তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় বাণিজ্যিক এলপিজির ওপর নির্ভরশীল।’

চিঠিতে তারা সতর্ক করে বলে, ‘এই সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা বিপর্যয়করভাবে রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করবে।’ এ দিকে আরেক সংগঠন ফেডারেশন অব হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশনস অব ইন্ডিয়াও সরকারের সহায়তা চেয়েছে।

ভারতের কোম্পানিগুলো প্রায় এক বছর পর প্রথমবারের মতো এলপিজির দাম বাড়িয়েছে। কারণ যুদ্ধের কারণে আমদানির দাম বেড়ে গেছে, যা ভারতের বার্ষিক এলপিজি ব্যবহারের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জোগান দেয়।

ভারতে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের সবচেয়ে বড় উৎস কাতার গত সপ্তাহে উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। কারণ ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ভারতের দক্ষিণের প্রযুক্তিনগরী বেঙ্গালুরু—যাকে প্রায়ই ভারতের ‘সিলিকন ভ্যালি’ বলা হয়—সেখানকার কয়েকটি রেস্তোরাঁ জানিয়েছে—গ্যাস সরবরাহ হঠাৎ করেই অনেক কমে গেছে। এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে দ্রুত সমাধান না হলে রান্নাঘরগুলো থেমে যেতে পারে।

বেঙ্গালুরুর উদুপি ফুড হাব রেস্তোরাঁ চেইনের মালিক মানিশ ভি শেট্টি রয়টার্সকে বলেন, ‘আজ আমাদের একটি রেস্তোরাঁ কোনো গ্যাস সিলিন্ডারই পায়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভাগ্যক্রমে আমাদের এক পুরোনো সরবরাহকারী সাহায্য করেছেন।’ কারণ তাদের রেস্তোরাঁ চেইনটি সপ্তাহ বা মাসের ঋণ শর্তের বদলে তাৎক্ষণিক অর্থ পরিশোধ করে থাকে। তিনি জানান, ‘রান্নায় ব্যবহৃত সূর্যমুখী তেলের দামও হঠাৎ বেড়ে যেতে দেখছি।’

বেঙ্গালুরু হোটেলস অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বীরেন্দ্র কামাত বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে খুব কম রেস্তোরাঁই এলপিজি সিলিন্ডার মজুত করে রাখে। ফলে তারা ঘন ঘন নতুন সিলিন্ডার সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। এনআরএআইয়ের বেঙ্গালুরু শাখার অনন্ত নারায়ণ বলেন, ‘পরিস্থিতি খুবই গুরুতর। অধিকাংশ গ্যাস কোম্পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেসব রেস্তোরাঁ কিছু গ্যাস মজুত করে রেখেছে, সেগুলোরও মজুত এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যেতে পারে।’

ফের বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো যায়

জ্বালানি আশঙ্কায় থাইল্যান্ডে লিফটে না চড়া ও ঘরে বসে কাজের নির্দেশ

ঘণ্টায় ঘণ্টায় সুর পাল্টাচ্ছেন ট্রাম্প, ইরান যুদ্ধের শেষ কোথায়

ইরান যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়াকে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

নিহত হওয়ার গুঞ্জন উড়িয়ে নেতানিয়াহু বললেন, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ১ লিটার তেলও বের হতে দেব না—ইরানের হুঁশিয়ারি

ইরান থেকে ট্রাম্পকে বেরিয়ে আসতে পরামর্শ দিচ্ছেন উপদেষ্টারা

জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি কর্মীদের হোম অফিস দিচ্ছে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম

ইরানের ৫ নারী ফুটবলারকে অস্ট্রেলিয়ার আশ্রয়

নেতানিয়াহু নিহত বা গুরুতর আহত হওয়ার দাবি ইরানি গণমাধ্যমের, ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল