হোম > বিশ্ব > ভারত

হিন্দু-শিখ-বৌদ্ধরাই শুধু তফসিলি জাতি, ধর্মান্তরিত হলে হারাবে মর্যাদা: ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: এনডিটিভি

শুধু হিন্দু, শিখ এবং বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরাই তফসিলি জাতি হিসেবে সুযোগ-সুবিধা দাবি করতে পারবেন বলে দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের আগের একটি সিদ্ধান্ত বহাল রেখে আজ মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত জানায়, কোনো ব্যক্তি যদি খ্রিষ্টান বা অন্য কোনো ধর্মে ধর্মান্তরিত হন, তবে তিনি আর তফসিলি জাতির জন্য নির্ধারিত আইনি সুবিধা বা সংরক্ষণ ভোগ করতে পারবেন না।

বিচারপতি পি. কে. মিশ্রের নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ ১৯৫০ সালের সংবিধান (তফসিলি জাতি) আদেশের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে এই রায় দেয়। আদালত জানায়, ওই আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে—হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণকারী ব্যক্তিকে তফসিলি জাতির সদস্য হিসেবে গণ্য করা যাবে না। আদালতের মতে, এই বিধিনিষেধই শেষ কথা এবং এর কোনো ব্যতিক্রম নেই।

শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করে, ‘সংবিধান বা সংসদের কোনো আইন বা রাজ্য বিধানসভার অধীনে কোনো সংবিধিবদ্ধ সুবিধা, সুরক্ষা বা সংরক্ষণ এমন কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যিনি ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তফসিলি জাতির সদস্য হিসেবে বিবেচিত হন না।’

এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল একজন ব্যক্তির মাধ্যমে, যিনি খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে যাজক হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন’-এর অধীনে মামলা করেছিলেন তিনি।

আদালত এই মামলায় রায়ে বলেছে, তফসিলি জাতির কোনো সদস্য খ্রিষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হলে তিনি আর ‘তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন’-এর অধীনে সুরক্ষা দাবি করতে পারবেন না। আদালত স্পষ্ট করে বলেছে, একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে ১৯৫০ সালের আদেশে উল্লেখ নেই এমন ধর্ম পালন এবং তফসিলি জাতির সদস্য হওয়ার দাবি—এই দুই কাজ একসঙ্গে করতে পারেন না।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায় দলিত খ্রিষ্টানদের দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্যের দলিত খ্রিষ্টানরা দীর্ঘদিন ধরে তফসিলি জাতির মর্যাদার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু শীর্ষ আদালতের এই কঠোর অবস্থানের ফলে এখন এটি স্পষ্ট যে, হিন্দু, শিখ ও বৌদ্ধ ধর্মের বাইরে অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করলে জাতিগত সংরক্ষণের যাবতীয় অধিকার ও আইনি সুরক্ষা তাৎক্ষণিকভাবে বিলুপ্ত হবে।

এর আগে এলাহাবাদ হাইকোর্টও উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল যাতে যারা ধর্মান্তরিত হয়েও তফসিলি জাতির সুবিধা নিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন সারা দেশে এই সংক্রান্ত আইনি বিতর্কের অবসান ঘটাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে একাধিকবার ফোন করেছেন সৌদি যুবরাজ

আলোচনা অনিশ্চিত—পাল্টাপাল্টি আঘাত করেই যাচ্ছে ইরান ও ইসরায়েল

ইরানে যুদ্ধবিরতির বাজিতে গোপন তথ্য ব্যবহার, ট্রাম্পের ছেলেকে সন্দেহ

আলী লারিজানির স্থলাভিষিক্ত হলেন মোহাম্মদ বাঘের

ইসরায়েলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ইরানের

ট্রাম্পের ঘোষণার আগমুহূর্তে শেয়ারবাজারে ১০ কোটি ডলার মুনাফা রহস্যময় ব্যক্তির

নিজ ঘরে আগুন রেখে যেভাবে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান

সাগরতলের মানচিত্র বানাচ্ছে চীন, সাবমেরিন যুদ্ধের প্রস্তুতি

ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে স্পিকার গালিবাফকে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

দক্ষিণ লেবানন দখল করে নিজেদের মানচিত্রে সংযুক্ত করতে চান ইসরায়েলি মন্ত্রী