এই পূর্বাভাস ওয়াশিংটনে এতটাই আলোচনার জন্ম দেয় যে, এটি ‘ডেভিডসন উইন্ডো’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। এর পরপরই কংগ্রেস নতুনভাবে গঠিত প্যাসিফিক ডিটারেন্স ইনিশিয়েটিভের জন্য ৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন দেয়, যার উদ্দেশ্য ছিল চীনের সামরিক আগ্রাসন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়ানো।
একই সঙ্গে মার্কিন নীতিনির্ধারণী মহলে চীনের সামরিক হুমকি মোকাবিলায় নানা কৌশল তৈরির তোড়জোড় শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাইওয়ানকে কূটনৈতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহায়তা এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে, তাইওয়ান নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা কিছু অভিজ্ঞ বিশ্লেষক মার্কিন নীতিনির্ধারকদের স্মরণ করিয়ে দিতে শুরু করেন—চীনকে আশ্বস্ত করা জরুরি যে, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না।
তবে গত কয়েক বছরে অনেক পর্যবেক্ষকই ‘ডেভিডসন উইন্ডো’ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। তাঁদের মতে, চীনা সেনাবাহিনী এত কঠিন অভিযানের জন্য এখনো প্রস্তুত নয় এবং এর পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। উভচর হামলা চালিয়ে পাহাড়ি ভূখণ্ডে ঘেরা তাইওয়ানের মতো একটি দ্বীপ দখল করা সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত কঠিন। পাশাপাশি চীনের সেনাবাহিনী একের পর এক শুদ্ধি অভিযানে জর্জরিত, যেখানে বহু শীর্ষস্থানীয় জেনারেলকে অপসারণ করা হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ দেখিয়েছে, কোনো ভূখণ্ড দখল কতটা কঠিন এবং নিষেধাজ্ঞার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। এই বাস্তবতায় অনেকেই মনে করেন, চীনের সামনে আরও অনেক অগ্রাধিকার রয়েছে, ফলে এই মুহূর্তে তাইওয়ান হয়তো শীর্ষ তালিকায় নেই।
কিন্তু এই বিশ্লেষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষা করছে—২০২৫ সালে তাইওয়ান নিয়ে চীনের দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। গত এক বছরে চীন জোরালোভাবে বলে আসছে যে, তাইওয়ানের সঙ্গে তাদের তথাকথিত ‘পুনরেকত্রীকরণ’ অনিবার্য এবং অস্বীকারযোগ্য। যদিও সংশয়বাদীরা বলবেন, চীন সব সময়ই এমন দাবি করে এসেছে, কিন্তু এবার পরিস্থিতি আলাদা। এবার চীন নিজেই তা বিশ্বাস করছে। চীনের নীতিনির্ধারণী মহলে ক্রমেই এই বিশ্বাস জোরালো হচ্ছে যে, তাইওয়ানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ একসময় হবেই এবং তাইওয়ান যদি বেইজিংকে উসকানি দেয়, তাহলে তা যেকোনো সময়ই ঘটতে পারে।
এই নতুন মূল্যায়নের প্রধান চালিকাশক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং এই ধারণা যে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানকে সামরিকভাবে রক্ষা করতে খুব একটা আগ্রহী নন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের একগুঁয়ে পুনরেকত্রীকরণ লক্ষ্য এবং তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের জনপ্রিয়তা হ্রাস। সব মিলিয়ে চীন মনে করছে, এমন একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আর নাও আসতে পারে।
ইতিহাসে এমন মুহূর্ত আসে, যখন অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নানা উপাদান একসঙ্গে কাজ করে একটি নির্দিষ্ট পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়—যাকে বলা যায় ‘পারফেক্ট স্টর্ম।’ বর্তমান পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের জন্য তেমনই একটি ঝড় হয়তো মানুষের ধারণার চেয়েও দ্রুত আসছে।
সি চিন পিং চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মিকে (পিএলএ) ২০২৭ সালের মধ্যে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাইওয়ান দখলের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিলেও ওই বছরেই চীন কোনো পদক্ষেপ নেবে—এমনটি কল্পনা করা কঠিন। কারণ, ২০২৭ সালের শরতে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ২১তম পার্টি কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। চীনা রাজনীতিতে পার্টি কংগ্রেসের বছর মানেই সর্বোচ্চ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। ওই সময় যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রথমেই বিবেচনা করা হয়, তা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সামান্যতম ঝুঁকিও তৈরি করবে কি না। সিসিপি মৌলিকভাবে রক্ষণশীল একটি সংগঠন। তারা দলীয় ক্ষমতার ভারসাম্য নড়বড়ে করতে পারে—এমন বড় সিদ্ধান্ত সাধারণত এড়িয়ে চলে।
তবে ২০২৭ সাল আরেকটি কারণেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি সি চিন পিংয়ের তৃতীয় মেয়াদের শেষ বছর। ওই সময় সির বয়স হবে ৭৪ বছর। তাঁর উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা নীরবে চললেও তা থেমে নেই। অনেক পর্যবেক্ষকের ধারণা, সি একবারে সব ক্ষমতা ছাড়বেন না। ২০২৭ সাল থেকে তিনি তিনটি শীর্ষ পদের মধ্যে একটি ছাড়তে পারেন—প্রেসিডেন্ট, পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের চেয়ারম্যান। এরপর ধাপে ধাপে অন্য পদগুলো ছাড়ার সুযোগ থাকবে, আবার চাইলে প্রক্রিয়াটি থামিয়েও দিতে পারবেন।
১৯৪৯ সালের পর থেকে এই তিন পদের উত্তরাধিকার নিয়ে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাও সে তুং ১৯৫৯ সালে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়লেও পার্টি নেতৃত্ব ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন। দেং জিয়াওপিং ১৯৮৯ সালে জিয়াং জেমিনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় তিনটি পদই ছাড়েন, কিন্তু পার্টির প্রবীণদের নিয়ে গঠিত সেন্ট্রাল অ্যাডভাইজরি কমিশনের মাধ্যমে পর্দার আড়ালে বিপুল প্রভাব বজায় রাখেন। ২০০২ সালে জিয়াং প্রেসিডেন্ট ও পার্টিপ্রধানের পদ ছাড়লেও আরও তিন বছর সামরিক নেতৃত্ব ধরে রাখেন। হু জিনতাও আবার তিনটি পদই একসঙ্গে সির হাতে তুলে দেন।
যদি সির উত্তরাধিকার বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়, তবে ধারণা করা হয় যে, তিনি প্রথমে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়বেন। কারণ, এটি তুলনামূলকভাবে কম ক্ষমতার জায়গা। তবে তাঁর যেকোনো পদ ছাড়াই ক্ষমতার কেন্দ্রীভূতকরণপ্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়বে আর তখন তাইওয়ান দখলের মতো সামরিক পরিকল্পনা পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
অবশ্য এটিও সম্ভব যে, ২০২৭ সাল পার হয়ে যাবে এবং সি চতুর্থ মেয়াদেও পূর্ণ ক্ষমতা ধরে রাখবেন। সির ক্ষমতা ছাড়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই আর তাইওয়ান দখল করাও তাঁর জন্য কোনো নির্ধারিত কর্মক্ষমতার সূচক নয়—যেমনটি তাঁর পূর্বসূরিদের ক্ষেত্রেও ছিল না। কিন্তু আগের যেকোনো নেতার তুলনায় সিই তাইওয়ানকে বশে আনতে সবচেয়ে বেশি চাপ দিয়েছেন। সুযোগ পেলে তিনি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন বলেই ধারণা।
এখন পর্যন্ত সি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগ করেননি। তার একটি বড় কারণ হলো এই অনিশ্চয়তা যে, অভিযানটি সফল হবে কি না। এই সফলতা সব সময় নির্ভর করেছে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তার ওপর। এখন চীন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে তাইওয়ান রক্ষায় কম আগ্রহী ও সামরিক হস্তক্ষেপে অনিচ্ছুক কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাওয়া কঠিন।
সম্প্রতি প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলপত্রে পশ্চিম গোলার্ধকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং ‘হস্তক্ষেপ না করার প্রবণতা’র কথা বলা হয়েছে। সেখানে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি বা চ্যালেঞ্জ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়নি।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাইওয়ান ঘিরে চীনের সামরিক মহড়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীরব প্রতিক্রিয়াও বেইজিংকে উৎসাহিত করেছে। এরপর জানুয়ারির শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম গোলার্ধকেন্দ্রিক মনোযোগ আরও স্পষ্ট করে।
তবে এই কৌশলগত পরিবর্তন হয়তো মাত্র তিন বছর স্থায়ী হবে। চলতি বছরের নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেয়, তবে এই প্রবণতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই সুযোগের সময় সীমিত। ওয়াশিংটন তাইওয়ান রক্ষায় এতটা অনিচ্ছুক—চীন হয়তো আর কখনো এমন একটি মুহূর্ত পাবে না।
ঐতিহাসিকভাবেই চীন দীর্ঘমেয়াদি কৌশল অনুসরণ করেছে—অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ান থেকে দূরে রাখা যাবে। এই আত্মবিশ্বাসের চূড়ান্ত প্রকাশ দেখা গিয়েছিল কোভিড-১৯ মহামারির প্রথম বছরে, যখন চীনে প্রচলিত স্লোগান ছিল—‘পূর্ব উত্থানশীল, পশ্চিম পতনশীল’। কিন্তু গত ছয়-সাত বছরে বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা দেখিয়েছে—চীনের প্রত্যাশিত শেষ পরিণতি এত দ্রুত আসছে না। তাই অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা না করে ওয়াশিংটনের বর্তমান অনাগ্রহকে কাজে লাগানোর চিন্তা করছে বেইজিং।
ইউক্রেন যুদ্ধও চীনের জন্য এই সুযোগের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মনোযোগকে বিভ্রান্ত করেছে। বাইডেন প্রশাসন চীনকে যতটা গুরুত্ব দিতে চেয়েছিল, ততটা পারেনি। দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও পশ্চিম গোলার্ধে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। যত দিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে আটকে থাকবে, তত দিন প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের মুখোমুখি হতে ওয়াশিংটনের আগ্রহ কম থাকবে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হলে চীনের জন্য এই সুবিধা হারিয়ে যেতে পারে।
ট্রাম্পের নীতির প্রভাব তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়েছে। ২০২৫ সালে তিনি তাইওয়ানের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। পরে বাণিজ্য চুক্তির আওতায় তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রে ২৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয়, বিনিময়ে শুল্ক কমে ১৫ শতাংশে নেমে আসে। চীনের প্রতি ট্রাম্পের সমঝোতামুখী মনোভাব এবং গণতান্ত্রিক তাইওয়ানের প্রতি উদাসীনতা তাইওয়ানে এই আশঙ্কা তৈরি করেছে যে, ট্রাম্প হয়তো চীনের সঙ্গে একটি বড় সমঝোতায় যেতে পারেন, যেখানে তাইওয়ানের প্রশ্নে ছাড় দেওয়া হতে পারে।
এতে তাইওয়ানে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) ও তাদের নেতা লাই চিং-তে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত গ্রীষ্মে লাই বিরোধী কুওমিনতাং দলের এমপিদের প্রত্যাহারের উদ্যোগকে সমর্থন করেছিলেন, কিন্তু তা ব্যর্থ হয় এবং তাঁর জনপ্রিয়তা আরও কমে যায়। জনমতের এই পরিবর্তন বেইজিংকে আশাবাদী করছে যে, তাইওয়ানের জনগণ হয়তো স্বাধীনতাপন্থী ডিপিপি থেকে সরে এসে একীভূতকরণ মেনে নিতে পারে।
এই সংকটময় মুহূর্তে তাইওয়ানের যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ চীনের বড় প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে। ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের জন্য ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রচুক্তি ঘোষণা করার ১১ দিনের মাথায় চীন তাইওয়ান অবরোধের মহড়া চালায়। চীনের দৃষ্টিতে এই অস্ত্রচুক্তি তাইওয়ান রক্ষার অঙ্গীকার নয়, বরং ট্রাম্পের মার্কিন প্রতিরক্ষাশিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার কৌশল। ডিসেম্বরের মহড়াটি ছিল সবচেয়ে বড় এবং এটি ছিল ২০২২ সালের আগস্টে ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের পর সপ্তম বড় সামরিক মহড়া।
সিসিপি ও এর নেতারা স্বভাবতই ঝুঁকির বিষয়ে ভীত। বিষয় যত বড়, তাঁরা তত বেশি সতর্ক। তাইওয়ানের মতো ইস্যুতে তাঁরা হালকাভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন না। কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে দুটি প্রশ্নের জবাব তাঁদের নিশ্চিতভাবে জানতে হবে—সেনাবাহিনী কি লড়াইয়ে জেতার জন্য প্রস্তুত এবং দেশ কি এর পরিণতি সামাল দিতে পারবে?
প্রচলিত ধারণা হলো, পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নয়। সির পরিচালিত শুদ্ধি অভিযানে বহু শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা অপসারিত হয়েছেন, যা মনোবল ক্ষুণ্ন করেছে। বিশেষ করে, তাইওয়ান অভিযানের বিষয়ে অভিজ্ঞ ৩১তম আর্মি কর্পসের জেনারেলদের অপসারণ ঐতিহাসিক দক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তবে প্রশ্ন হলো, পিএলএ কাদের বিরুদ্ধে লড়বে। যদি যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ না করে, তাহলে পিএলএ সহজেই তাইওয়ানের বাহিনীকে পরাস্ত করতে পারে। চীনের সক্রিয় সেনা ২০ লাখের বেশি, সেখানে তাইওয়ানের সেনা মাত্র ১ লাখ ৭০ হাজার। ২০২৫ সালে চীনের প্রতিরক্ষা বাজেট ছিল ২৪৭ বিলিয়ন ডলার আর ২০২৬ সালে ১৬ শতাংশ বাড়িয়েও তাইওয়ানের বাজেট মাত্র ৩১ বিলিয়ন ডলার। অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ বাজেট থাকলেও তা ২০২৬ থেকে ২০৩৩ পর্যন্ত আট বছরের জন্য। ব্যবধান এত বড় যে, তাইওয়ানের পক্ষে তা পুষিয়ে নেওয়া অসম্ভব।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নেও সবকিছু নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার ওপর। সাম্প্রতিক বাণিজ্যযুদ্ধে বিরল খনিজ ও শুল্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে বেইজিং ওয়াশিংটনকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে। এতে চীন মনে করছে, সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা সামাল দেওয়া যাবে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ভূখণ্ড দখলকে ট্রাম্প যেভাবে মেনে নিয়েছেন, তাতেও চীন উৎসাহ পাচ্ছে, কারণ, তারা তাইওয়ানকে নিজেদের প্রভাববলয়ের অংশ হিসেবেই দেখে।
এ মুহূর্তে চীনের তাৎক্ষণিক হামলার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই। তবে আগের হিসাব বদলাচ্ছে। শান্তিপূর্ণ একীভূতকরণের কৌশল আর আগের মতো কার্যকর মনে হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝতে হবে—বর্তমান পরিস্থিতির সমষ্টিই বেইজিংয়ের চোখে তাইওয়ান দখলের সেরা সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
অনুবাদ করেছেন আজকের পত্রিকার সহসম্পাদক আব্দুর রহমান