হোম > বিশ্ব > আফ্রিকা

হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে গেলেন দ. আফ্রিকার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ফিরোজ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ফিরোজ খান। ছবি: বিবিসি

দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ফিরোজ খান হত্যাচেষ্টার শিকার হলেও প্রাণে বেঁচে গেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় জোহানেসবার্গে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি আহত হন। পরে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, এই হামলার ঘটনা ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন কয়েক দিনের মধ্যেই ফিরোজ খানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য তদন্ত কমিশনের সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে গঠিত ওই কমিশনে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিল।

তবে পুলিশের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার অ্যাথলেন্দা ম্যাথে সোমবার (২৯ জুন) এক বিবৃতিতে মত দেন, হামলার কারণ সম্পর্কে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তিনি বলেন, ‘ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নিয়ে জল্পনা করা বা ঘটনাটি কমিশনে তার নির্ধারিত সাক্ষ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধরে নেওয়া সময়ের আগেই করা হয়ে যাবে এবং এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন হবে।’

ম্যাডলাঙ্গা কমিশন নামে পরিচিত এই তদন্ত কমিশন গঠন করা হয় গত বছরের জুলাইয়ে। সে সময় জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল নলানহলা মখওয়ানাজি অভিযোগ করেছিলেন, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করেছে।

২০২১ সালে জোহানেসবার্গে ব্যর্থ হওয়া একটি মাদকবিরোধী অভিযানের ঘটনায় ফিরোজ খানের নাম একাধিকবার আলোচনায় আসায় তাঁকে কমিশনে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করা হয়েছিল। স্থানীয় অনলাইন প্রকাশনা ‘ডেইলি ম্যাভেরিক’ জানিয়েছে, বিতর্কিত রাজনীতিক জুলিয়াস মালেমা এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্রাউন মোগোৎসির সঙ্গে তাঁর কথিত সম্পর্ক নিয়েও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারত। এই বিষয়ে ফিরোজ কোনো মন্তব্য করেননি।

গত মে মাসে ফিরোজ খান, পুলিশের আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং এক ব্যবসায়ীকে অবৈধভাবে স্বর্ণ লেনদেন ও মূল্যবান ধাতু রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলাটি ২০২১ সালের একটি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। সে সময় জোহানেসবার্গের ওআর ট্যাম্বো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওই ব্যবসায়ীর কাছে প্রায় ৭৫ দশমিক ৯ গ্রাম অপরিশোধিত স্বর্ণ পাওয়া যায়।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় ব্যবসায়ী দাবি করেছিলেন, তিনি জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের হয়ে গোপন অভিযানের অংশ হিসেবে কাজ করছিলেন। কিন্তু তদন্তকারীরা পরে জানান, সে সময় মূল্যবান ধাতু নিয়ে কোনো অনুমোদিত গোপন অভিযান চলছিল না। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ফিরোজ খান এবং আরেক কর্মকর্তা ওই ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে ফিরোজ খান এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে গ্রেপ্তারের পর তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। হামলার ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।