মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিতর্কিত পশ্চিম সাহারা অঞ্চলে নির্মিত ১,০৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি মহাসড়কের নাম তাঁর নামে রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ এই সম্মান দিচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি মরক্কো সরকার।
সোমবার (২৭ জুলাই) ব্লুমবার্গ জানায়, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে মরুভূমির বিস্তীর্ণ এলাকা এবং প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত ডাকলা-তিজনিত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ দেখানো হয়। ভিডিওতে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প হাইওয়ে’ আফ্রিকার দীর্ঘতম সড়কগুলোর একটি, যা আটলান্টিক উপকূলের প্রায় ৭ শতাংশ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এটি পশ্চিম আফ্রিকাকে মরক্কোর মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ উপকূলের সঙ্গে সংযুক্ত বৃহত্তর সড়ক নেটওয়ার্কের অংশ হবে।
ভিডিও শেয়ার করে ট্রাম্প লেখেন, ‘অত্যন্ত সম্মানিত মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদকে ধন্যবাদ। এটি আমার জন্য বিরাট সম্মানের। আশা করি খুব শিগগিরই পুরো মহাসড়কটি ভ্রমণ করতে পারব।’
তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিষয়ে মরক্কো সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। দেশটির সরকারের মুখপাত্রও সংবাদমাধ্যমের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।
১৯৭৫ সালে স্পেনের উপনিবেশ প্রত্যাহারের পর থেকে পশ্চিম সাহারা মরক্কো এবং আলজেরিয়া-সমর্থিত স্বাধীনতাকামী পলিসারিও ফ্রন্টের মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে রয়েছে। বর্তমানে অঞ্চলটির অধিকাংশ অংশ মরক্কোর নিয়ন্ত্রণে।
২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম সাহারার ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয়। এর বিনিময়ে মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করে। পরে ফ্রান্স ও স্পেনও মরক্কোর অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানায়। এর ফলে ওই অঞ্চলে গভীর সমুদ্রবন্দর, পর্যটনকেন্দ্র ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পসহ বড় ধরনের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
ট্রাম্পের প্রকাশিত ভিডিওতে বলা হয়, ‘রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঐতিহাসিক সাহসিকতার কারণে মরক্কোর সাহারা অঞ্চল শান্তি, সংলাপ ও সমৃদ্ধির নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।’ তবে পশ্চিম সাহারার চূড়ান্ত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে।