হোম > বিশ্ব > আফ্রিকা

মালিতে হামলা চালানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

জেএনআইএম–এর একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিনের (জেএনআইএম) বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিষয়টি বিবেচনা করছে। আলোচনার সঙ্গে পরিচিত বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা এমনটাই জানিয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনা অনুমোদন পেলে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে যে দেশগুলোতে সামরিক হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, মালি হবে সেই তালিকার অষ্টম দেশ। অথচ দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তাঁর প্রেসিডেন্সির এই অধ্যায়ের লক্ষ্য হবে বৈশ্বিক সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ আমেরিকান জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা।

তবে জেএনআইএমের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হবে কি না, তা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক শক্তি ব্যবহারের জোরালো সমর্থকদের একজন হলেন ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সন্ত্রাসবাদবিরোধী কার্যক্রমবিষয়ক সিনিয়র পরিচালক সেবাস্টিয়ান গোরকা। সামরিক পরিকল্পনার মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় এসব কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

গোষ্ঠীটির পূর্ণ নাম জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন। তারা মালিতে শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলীয় দেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান হারে হামলা চালাচ্ছে। বর্তমানে এটি ওই অঞ্চলের সবচেয়ে সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন এবং বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মালির সরকারের একজন মুখপাত্রের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। সেবাস্টিয়ান গোরকাও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশাসনের এক কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, তা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেন, উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোকে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও সেবা কেনার আহ্বান জানিয়ে আসছে ওয়াশিংটন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, সাহারার দক্ষিণে বিস্তৃত আধা-শুষ্ক অঞ্চল সাহেলে সন্ত্রাসবাদ একটি ‘বহুজাতিক সমস্যা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক অংশীদার এবং ন্যাটো মিত্রদের আহ্বান জানাই, যাতে তারা অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটসকে জেএনআইএম ও আইএসআইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সমর্থন দেয়।’

অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস গঠিত হয়েছে মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজারকে নিয়ে। পশ্চিম আফ্রিকার এই তিন দেশেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারগুলোকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। এরপর তারা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক অনেকটাই ছিন্ন করে নিরাপত্তা সহায়তার জন্য রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে। তবে ওই মার্কিন কর্মকর্তা দোষ চাপিয়েছেন দেশগুলোর সরকারের ওপর নয়, বরং তাদের রুশ অংশীদারদের ওপর। তাঁর ভাষায়, ‘মস্কো মালির জন্য একটি অকার্যকর নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যর্থতা থেকে আফ্রিকার অন্য দেশগুলো শিক্ষা নেবে বলে আমরা আশা করি।’

প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের স্থলবেষ্টিত দেশ মালি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর সহিংসতায় জর্জরিত। একই সঙ্গে মালির সামরিক জান্তা সরকার এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের ভাড়া করা রুশ ভাড়াটে যোদ্ধাদের কর্মকাণ্ডও দেশটিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশেষ করে জেএনআইএম ক্রমেই আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। যার ফলে মালি এবং সাহেল অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলো এখন বিশ্বের সন্ত্রাসবাদের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

গত বছর আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট এই গোষ্ঠীটি জ্বালানি অবরোধ গড়ে তোলে, যার ফলে কার্যত দেশের বড় অংশ অচল হয়ে পড়ে। চলতি বসন্তে তারা দেশজুড়ে সমন্বিত হামলা চালায়। এসব হামলার মধ্যে ছিল রাজধানী বামাকোর রাস্তায় জঙ্গিদের প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা, উত্তরের একটি কৌশলগত শহর মালির সেনাবাহিনী ও রুশ বাহিনীর কাছ থেকে দখল করে নেওয়া এবং আত্মঘাতী হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে হত্যা করা।

এদিকে ইসলামিক স্টেটের সহযোগী সংগঠন এবং জেএনআইএমের প্রতিদ্বন্দ্বী আইএস সাহেল মালির নাইজার সীমান্তবর্তী এলাকায় নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও সুসংহত করেছে। গত বছর তাদের সদস্যরা মার্কিন খ্রিস্টান মিশনারি কেভিন রাইডআউট কে অপহরণ করে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বর্তমানে মালিতেই বন্দি রয়েছেন। সহিংসতা মোকাবিলায় মালির সামরিক জান্তা সরকার প্রথমে ওয়াগনার গ্রুপ এবং পরে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত আফ্রিকা কর্পসের ভাড়াটে যোদ্ধাদের নিয়োগ দেয়।

ওয়াশিংটনে রাশিয়ার দূতাবাসের কাছেও মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি।

আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা প্রকল্পের পশ্চিম আফ্রিকাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হেনি এনসাইবিয়া বলেন, মালির সেনাবাহিনী এবং তাদের রুশ মিত্ররা মিলিতভাবে জেএনআইএম ও আইএস সাহেলের তুলনায় বহু বেশি বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে। এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মালির সেনাবাহিনী ও তাদের রুশ অংশীদারদের হাতে ৯২৫ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন, যেখানে ইসলামপন্থী জঙ্গিদের হাতে নিহত হন ২৩২ জন।

তিনি বলেন, ‘মালি, বুরকিনা ফাসো এবং নাইজারের মতো যেসব সরকারের বৈধতা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ এবং যেগুলো অত্যন্ত ভঙ্গুর ও দমনমূলক, সেসব সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো পশ্চিমা অংশীদারের সমর্থন দেওয়া অত্যন্ত সমস্যাজনক।’

তবুও, গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন মালির সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশটির সরকারের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছিল বলে সে সময় বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। সেই গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে মালির সেনাবাহিনী বিভিন্ন হামলা চালায়। বাইডেন প্রশাসন গণতান্ত্রিক নির্বাচনে ফিরে যাওয়ার সময়সূচি নির্ধারণে অস্বীকৃতি এবং রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার কারণে মালির সামরিক সরকারের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেছিল।

এখন পর্যন্ত এ ধরনের সহযোগিতা সীমিত পর্যায়েই রয়েছে। গত বছর থেকে দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-নাইজেরিয়া নিরাপত্তা অংশীদারত্বের মতো ব্যাপক নয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা এবং একটি স্থল অভিযান অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওই অভিযানে আফ্রিকায় ইসলামিক স্টেটের শীর্ষ নেতাদের একজন নিহত হয়। মালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা ওই অঞ্চলে অবস্থানরত রুশ বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি, ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় যে ধরনের সামরিক সমন্বয় (ডিকনফ্লিকশন) ব্যবস্থা ছিল, তেমন ব্যবস্থারও প্রয়োজন হতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মালিতে সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যায়। তারা শুধু জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ‘মালিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে দ্ব্যর্থহীনভাবে নিন্দা জানায়।’ পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন ‘সন্ত্রাসী হুমকির বিরুদ্ধে আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও সহযোগিতা জোরদার করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের প্রতি সম্ভাব্য হুমকির ইঙ্গিত ও সতর্কসংকেত পর্যবেক্ষণে’ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জেএনআইএম-এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালালে, মালি সেই দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হবে যেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছে ইয়েমেন, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইরান, ইরাক, নাইজেরিয়া এবং ভেনেজুয়েলা। পাশাপাশি, ট্রাম্প প্রশাসন ক্যারিবীয় অঞ্চল ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে কথিত মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে একটি বিতর্কিত সামরিক অভিযানও পরিচালনা করেছে, যাতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

সাহেল অঞ্চলবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং দ্য সাউফান সেন্টারের জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো ওয়াসিম নাসর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা হতে পারে ‘সংঘাতের সমাধান’ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়া। তাঁর মতে, মালির সামরিক জান্তা সরকারকে জেএনআইএমের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য করা উচিত। কারণ, জেএনআইএমের লক্ষ্য বৈশ্বিক জিহাদ নয়; বরং স্থানীয় প্রশাসনে ইসলামী আইন প্রয়োগ করা। একই সঙ্গে জান্তা সরকার যেসব রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কার্যত স্তব্ধ করে দিয়েছে, তাদের সঙ্গেও সংলাপ হওয়া প্রয়োজন।

নাসর বলেন, ‘আরেকবার সামরিক সমাধানের পথ বেছে নিলে সমস্যার সমাধান হবে না। ফ্রান্স ১০ বছর ধরে সেটাই করেছে। রাশিয়া পাঁচ বছর ধরে চেষ্টা করছে। কিন্তু পরিস্থিতি শুধু আরও খারাপ থেকে খারাপতর হয়েছে।’

২০১৩ সালে মালির তৎকালীন সরকারের অনুরোধে ফ্রান্স সাহেল অঞ্চলে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। ফরাসি বাহিনী মালিতে বিদ্রোহ দমন করে এবং কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়। পরে সেই প্রাথমিক অভিযানের ধারাবাহিকতায় ‘অপারেশন বারখানে’ শুরু হয়, যার মাধ্যমে কয়েকজন শীর্ষ জঙ্গি নেতা নিহত হলেও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিস্তার শেষ পর্যন্ত ঠেকানো যায়নি।

সেবাস্টিয়ান গোরকা দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রাসী সন্ত্রাসবিরোধী নীতিকে তাঁর আদর্শিক অবস্থানের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে নীতিনির্ধারণে তাঁর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান। বিষয়টি তাঁর কঠোর অবস্থানের সমালোচকদের জন্য স্বস্তির, আর সমর্থকদের জন্য হতাশার কারণ।

বসন্তকালে, জো কেন্ট প্রশাসন ছেড়ে যাওয়ার পর ট্রাম্পের পরবর্তী ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের পরিচালক হওয়ার বিষয়ে গোরকার সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে কেন্ট প্রশাসন ত্যাগ করেছিলেন। তবে সেই আলোচনা শেষ পর্যন্ত গোরকার আনুষ্ঠানিক মনোনয়নে রূপ নেয়নি।

বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, বন্দি খ্রিস্টান মিশনারি রাইডআউটকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় গোরকা গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। এক সাবেক কর্মকর্তার মতে, গত বছর প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল মালির আকাশসীমায় ‘ওভারফ্লাইট’ অধিকার অর্জন করা, যাতে মার্কিন কর্মকর্তারা বিমান ও অন্যান্য নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করে মালির আকাশে উড়ে তাঁর গতিবিধি আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

ওভারফ্লাইট অধিকার পাওয়ার সেই আগ্রহ থেকেই প্রশাসন মালির জান্তা সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারা, যিনি মালিতে রুশ হস্তক্ষেপের অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিলেন এবং ২৫ এপ্রিল জেএনআইএমের হামলায় নিহত হন।

বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলজেরিয়াভিত্তিক আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের নেতা আবু উবায়দাহ ইউসুফ আল-আনাবিকে হত্যার প্রচেষ্টাতেও গোরকা বিশেষভাবে আগ্রহী ছিলেন। ওয়াশিংটন পোস্ট আগে জানিয়েছিল, গত গ্রীষ্মে মার্কিন কর্মকর্তারা আশাবাদী ছিলেন যে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় পরিচালিত মালির একটি হামলায় আল-আনাবি নিহত হয়েছেন। তবে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি কখনোই নিশ্চিত করা যায়নি।

সাহেল অঞ্চলের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কোরিন ডুফকা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তাহলে জেএনআইএম পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বা ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে, যদিও এখন পর্যন্ত তারা তা করেনি। এছাড়া এতে জেএনআইএম আবার মূল আল-কায়েদা সংগঠনের আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠতে পারে, যেখান থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা তুলনামূলকভাবে স্বায়ত্তশাসিত হয়ে উঠেছিল।

গায়ানায় শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবল ফেরি, বহু প্রাণহানির আশঙ্কা

তেলের রাজ্যের রানি বললেন—মানুষই বড় সম্পদ

কঙ্কালে মিলল প্রাচীন মিসরের যোদ্ধা রাজকন্যাদের সংগ্রামের ইতিহাস

কঙ্গোর জঙ্গলে কমলা ঠোঁটের নতুন বানর প্রজাতির সন্ধান

গাঁজা বৈধ করতে রাস্তাফারিয়ানদের আবেদন খারিজ কেনিয়ার আদালতে

উত্তরাখন্ডের মন্দিরে পলাতক ভারতীয় ব্যবসায়ীর সঙ্গে জ্যাকব জুমার বৈঠক, খেপেছে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার

এবার আফ্রিকায় ‘সফল অভিযান’ শেষে সৈন্যদের ফিরিয়ে নিলেন ট্রাম্প, বাস্তবতা ভিন্ন

কেপ ভার্দে: আগুন থেকে জন্ম নিয়েছে যে দ্বীপের মানুষেরা

হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে গেলেন দ. আফ্রিকার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ফিরোজ

স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাস নেই উগান্ডার সেনাপ্রধানের, বন্ধ করলেন ৩ টিভি ও সংবাদপত্র