বর্তমান ব্যস্ত জীবন, পারিবারিক দায়িত্ব, কর্মক্ষেত্রের চাপ, সামাজিক প্রত্যাশা এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন সংকটের কারণে নারীদের মধ্যে উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটি দিন দিন বাড়ছে। অনেক সময় এটি সাময়িক দুশ্চিন্তা হিসেবে শুরু হলেও ধীরে ধীরে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। তাই অ্যাংজাইটি সচেতনতা মাস নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা ও সচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
অ্যাংজাইটি হলো অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, ভয়, অস্থিরতা বা মানসিক চাপের অনুভূতি; যা দৈনন্দিন কাজ, ঘুম, সম্পর্ক ও শারীরিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। সামান্য উদ্বেগ স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
হাঁটা, যোগব্যায়াম, হালকা ব্যায়াম বা মেডিটেশন শরীরে ‘ফিল-গুড’ হরমোন বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন, জাঙ্ক ফুড ও অনিয়মিত খাবার অ্যাংজাইটি বাড়াতে পারে। ফল, শাকসবজি, পানি ও পুষ্টিকর খাবার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
প্রতিদিন কিছু সময় নিজের পছন্দের কাজ করুন। বই পড়া, বাগান করা, নামাজ/প্রার্থনা, গান শোনা অথবা সৃজনশীল যেকোনো কাজ মন শান্ত রাখে।
অন্যের জীবন দেখে নিজের জীবনের সঙ্গে তুলনা করলে উদ্বেগ বাড়তে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত ব্যবহার ভালো।
নিজের অনুভূতি পরিবার, বন্ধু বা বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে ভাগ করলে মানসিক চাপ অনেক কমে যায়।
ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়া, মাইন্ডফুলনেস ও মেডিটেশন উদ্বেগ কমাতে কার্যকর।
সব দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালন করতে হবে, এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। নিজের সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের অংশ।
যদি উদ্বেগ দীর্ঘদিন থাকে, দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত করে
বা আতঙ্কজনিত সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কিংবা কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পরিবার এবং সমাজের সহানুভূতিশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘এটা কিছু না’ বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, মানসিকভাবে সমর্থন দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। মানসিক স্বাস্থ্যও শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাংজাইটি লুকিয়ে রাখার বিষয় নয়; বরং সচেতনতা, নিজের যত্ন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। মানসিকভাবে সুস্থ একজন নারী পরিবার ও সমাজকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারেন।
তাই নিজের যত্ন নিন, নিজের মনের কথা শুনুন।
ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমি
প্রসূতি, স্ত্রীরোগ ও বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ