অনিদ্রা বা ইনসমনিয়া এমন একটি সাধারণ সমস্যা, যেখানে একজন ব্যক্তি ঘুমাতে যেতে দেরি করেন, মাঝরাতে বারবার জেগে ওঠেন অথবা ভোরে উঠে আবার ঘুমাতে পারেন না। দীর্ঘদিন এ সমস্যা থাকলে মনোযোগের ঘাটতি, ক্লান্তি, উদ্বেগ ও বিষণ্নতার মতো শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ফিজিওথেরাপি মূলত শরীরের কার্যক্ষমতা উন্নত করার মাধ্যমে ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে। এটি ওষুধবিহীন একটি নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি।
যেসব থেরাপি নেওয়া যায় রিলাক্সেশন থেরাপি ফিজিওথেরাপিস্টরা বিভিন্ন রিলাক্সেশন টেকনিক শেখান, যেমন—
» ডিপ ব্রিদিং বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস
» প্রগ্রেসিভ মাসল রিলাক্সেশন এগুলো শরীরের টেনশন কমায়, স্নায়ু শান্ত করে এবং ঘুমানোর জন্য শরীর প্রস্তুত করে তোলে।
» ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের নিঃসরণ বাড়ায়যেমন ব্যায়াম করতে হয়
» স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের নিঃসরণ কমায়
» ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের নিঃসরণ বাড়ায় যেমন ব্যায়াম করতে হয়
» হালকা স্ট্রেচিং
» ব্রিস্ক ওয়াকিং
» যোগব্যায়ামপোশ্চার বা সঠিক ভঙ্গি
ভুল ভঙ্গিতে বসা বা কাজ করার কারণে ঘাড় ও পিঠে ব্যথা হতে পারে, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। একজন ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীকে সঠিক পোশ্চার বা ভঙ্গি ও প্রয়োজনীয় ব্যায়াম শেখান, যাতে ব্যথা কমে এবং ঘুম ভালো হয়।
অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, যেমন লো ব্যাক পেইন, স্পন্ডাইলোসিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস ইত্যাদি ঘুম না হওয়ার বড় কারণ। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে ব্যথা কমিয়ে ঘুমের মান উন্নত করা যায়। যেমন বিভিন্ন থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ, ম্যানুয়াল থেরাপি, ইলেকট্রোথেরাপি ইত্যাদি।
শ্বাসপ্রশ্বাস ও অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেমের ভারসাম্য শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সিমপ্যাথেটিক রেসপন্স কমিয়ে প্যরাসিমপ্যাথেটিক রেসপন্স বাড়ানো হয়। ফলে শরীর ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয়।
» প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠা
» ঘুমানোর আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমানো
» ক্যাফেইন ও ভারী খাবার এড়ানো
» শান্ত ও অন্ধকার পরিবেশে ঘুমানো মাইন্ড-বডি থেরাপি
কিছু ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপিস্টরা চিকিৎসায় যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন অন্তর্ভুক্ত করেন, যা মানসিক চাপ কমায় এবং ঘুম উন্নত করে।
ইনসমনিয়া শুধু ঘুমের সমস্যা নয়, এটি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা; যা শারীরিক, মানসিক ও জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত। ফিজিওথেরাপি একটি হোলিস্টিক পদ্ধতিতে কাজ করে ব্যথা কমায়, শরীর শিথিল করে এবং স্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস তৈরি করতে সহায়ক।
নিয়মিত ফিজিওথেরাপি সেশন এবং সঠিক জীবনযাপন অনুসরণ করলে অনিদ্রা অনেকাংশে ওষুধ ছাড়াই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ডা. এম ইয়াছিন আলী , ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ, চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা