গ্রীষ্মকালের প্রচণ্ড গরম, ধুলোবালি, রোদের অতিবেগুনি রশ্মি এবং ঘামের কারণে চোখে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। চোখ লাল হয়ে যাওয়া, জ্বালাপোড়া করা, শুষ্কতা, অ্যালার্জি কিংবা সংক্রমণের ঝুঁকি এ সময় তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই গরমে চোখের বিশেষ যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শতভাগ অতিবেগুনি রশ্মি সুরক্ষাযুক্ত সানগ্লাস ব্যবহার করুন। এটি সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে চোখ রক্ষা করে। দীর্ঘ মেয়াদে ছানি ও রেটিনার ক্ষতির ঝুঁকি কমায়।
ঘাম ও ধুলোবালির কারণে হাতে জীবাণু থাকতে পারে। অপরিষ্কার হাতে চোখ ঘষলে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। বিশেষ করে ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস কিংবা চোখ ওঠা ছড়ানোর ঝুঁকি অনেকটা বেড়ে যায়।
বাইরে বের হলে সানগ্লাস বা প্রটেকটিভ চশমা ব্যবহার করুন। মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেটের ভিসর ব্যবহার করুন। ধুলাবালি চোখে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
পুলের পানিতে থাকা ক্লোরিন চোখে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকিও রয়েছে। তাই সাঁতারের সময় সুরক্ষামূলক গগলস ব্যবহার করা ভালো।
গরমে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে। শরীরে পানির ঘাটতি হলে চোখ শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় থাকে।
অ্যালার্জি বা চুলকানি হলে অনেকে চোখ ঘষেন। এতে কর্নিয়ার ক্ষতি হতে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তবে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে আই ড্রপ ব্যবহার করুন।
দীর্ঘ সময় এসিতে থাকলে চোখ শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। প্রয়োজনে কৃত্রিম অশ্রু ব্যবহার করা যেতে পারে। পর্যাপ্ত বিরতি নিয়ে চোখকে বিশ্রাম দিন।
লেন্স ব্যবহারের আগে ও পরে হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের বেশি লেন্স ব্যবহার করা যাবে না। চোখ লাল হলে কিংবা ব্যথা হলে লেন্স খুলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডা. মো. আরমান হোসেন রনি
কনসালট্যান্ট (চক্ষু), দীন মোহাম্মদ আই হসপিটাল, সোবহানবাগ, ঢাকা