হোম > স্বাস্থ্য > চিকিৎসকের পরামর্শ

অতিরিক্ত ওজন ডেকে আনে বিপদ

ডা. মো. মাজহারুল হক তানিম

সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে বিএমআই ২৫-এর বেশি হলে অতিরিক্ত ওজন এবং ৩০-এর বেশি হলে তাকে স্থূলতা বা ওবেসিটি বলা হয়। তবে দক্ষিণ এশিয়ার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে বিএমআই ২৩-এর বেশি হলে অতিরিক্ত ওজন বলা হয়।

স্থূলতার কারণ

অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ ও কম শারীরিক পরিশ্রম: প্রয়োজনের বেশি ক্যালরি খাবার হিসেবে গ্রহণ করলে এবং সে অনুপাতে শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম না করলে অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে জমা হয়ে স্থূলতা সৃষ্টি করে। বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়া এবং সে অনুপাতে শারীরিক পরিশ্রম না করা স্থূলতার অন্যতম কারণ।

হরমোনজনিত সমস্যা: জেনেটিক, মেটাবলিক বা হরমোনজনিত সমস্যায় স্থূলতা হতে পারে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খাওয়া এবং কম শারীরিক পরিশ্রম এর জন্য দায়ী।

ঘুম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ: রাতে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমালে ক্ষুধা বাড়ার হরমোন নির্গমন বাড়ে এবং লেপটিন হরমোন কমে যায়। এর ফলে ক্ষুধা বেড়ে গিয়ে ওজনও বেড়ে যায়। এ ছাড়া পর্যাপ্ত না ঘুমালে শরীর অতিরিক্ত কর্টিসল হরমোন তৈরি করে, যা ওজন কমাতে বাধা দেয়।

মানসিক চাপ: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ স্থূলতার জন্য দায়ী।

স্থূলতা থেকে যেসব সমস্যা বা জটিলতা হতে পারে

  • অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা অনেক জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, যেমন—
  • ডায়াবেটিস: ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগ: উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
  • লিভারের রোগ: ফ্যাটি লিভারের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
  • স্লিপ অ্যাপনিয়া: ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা বা দম বন্ধ হয়ে আসার মতো সমস্যা হতে পারে।
  • পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম: নারীদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত মাসিক, বন্ধ্যাত্ব বা গর্ভধারণে সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
  • জয়েন্টে ব্যথা: হাঁটু ব্যথা, কোমর ব্যথা ও হাড়ের জয়েন্টের সমস্যা সৃষ্টি করে।
  • ক্যানসার: অতিরিক্ত ওজন ব্রেস্ট ও কোলন ক্যানসারের মতো কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • অন্যান্য রোগ: গর্ভাবস্থায় ওজন বেশি থাকলে মা ও শিশুর জটিলতা বাড়ে। এ ছাড়া অনেক সময় স্থূলতার কারণে হাঁটার সময় শ্বাসকষ্ট হয়।

শিশুদের স্থূলতা

বর্তমানে শিশুদের মধ্যে স্থূলতা একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। খেলাধুলা বা শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং ফাস্ট ফুড বেশি খাওয়ার ফলে বা কম ঘুমানোর কারণে শিশুদের মধ্যে স্থূলতা দ্রুত বাড়ছে।

স্থূলতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার করণীয়

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: খাবারে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে প্রোটিন, শাকসবজি, আঁশ ও স্বাস্থ্যকর চর্বি বেশি পরিমাণে খেতে হবে। ফাস্ট ফুড, তেল-চর্বিযুক্ত খাবার ও অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়া বাদ দিতে হবে।

জীবনযাত্রার পরিবর্তন: নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, ব্যায়াম ও জীবনধারায় পরিবর্তন আনতে হবে।

পর্যাপ্ত ঘুম: রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে এবং দিনে ঘুমানো কমাতে হবে।

সময়মতো রোগ নির্ণয় বাঁচাতে পারে জীবন

এড়িয়ে চলুন কফি পানের ৬ ভুল

প্রদাহ কমাতে সহায়ক যেসব খাবার

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে দরকার সচেতনতা

চশমার বিকল্প আইসিএল সার্জারি, যা জানা জরুরি

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

ভয় নয়, সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসা রক্ষা করবে জীবন

আপনার চোখ নিরাপদে রাখুন

প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা পর্যাপ্ত খাওয়াদাওয়া ও ঘুমানো সত্ত্বেও কেন অপুষ্টিতে ভোগেন

ডেঙ্গুতে অন্ধবিশ্বাস নাকি বিজ্ঞানসম্মত পুষ্টি