হোম > স্বাস্থ্য

চোখের নিয়মিত পরীক্ষা কেন এবং কখন প্রয়োজন

ডা. মো. আরমান হোসেন রনি 

ছবি: সংগৃহীত

চোখ আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এর মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর রং, আকার এবং সবকিছুকে স্বচ্ছভাবে দেখতে পারি। কিন্তু অনেক সময় চোখের স্বাস্থ্যের প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ দিই না। চোখের সমস্যাগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত খুব স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় না। তাই নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কেন চোখের পরীক্ষা জরুরি

  • চোখের নিয়মিত পরীক্ষা নানা কারণে অপরিহার্য,
  • প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা

অনেক সময় চোখের রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা দেয় না। যেমন গ্লুকোমা। এটি ধীরে ধীরে দৃষ্টি নষ্ট করে এবং প্রাথমিক অবস্থায় সাধারণত কোনো ব্যথা বা অসুবিধা প্রকাশ পায় না। নিয়মিত পরীক্ষা করালে চিকিৎসক সময়মতো রোগ শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা শুরু করতে পারেন।

দৃষ্টি সমস্যা চিহ্নিত করা

চশমার প্রয়োজনীয়তা বা দৃষ্টি পরিবর্তন ছোটবেলা থেকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত ঘটতে পারে। নিয়মিত পরীক্ষা না করলে ছোট দৃষ্টি সমস্যা বড় হয়ে উঠতে পারে। সময়মতো চশমা বা লেন্স ব্যবহারে চোখের ক্লান্তি এবং মাথাব্যথা কমানো সম্ভব।

শিশুদের চোখের স্বাস্থ্য

শিশুদের চোখের পরীক্ষা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনার সময় ছোট দৃষ্টির সমস্যা শিশুর শিক্ষাজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করে শিশুদের সঠিক দৃষ্টি নিশ্চিত করা যায়।

বৃদ্ধ বয়সে চোখের রোগ প্রতিরোধ

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের বিভিন্ন সমস্যা; যেমন ক্যাটার‍্যাক্ট বা ছানি, মাকুলার ডিজেনারেশন এবং গ্লুকোমা দেখা দেয়। নিয়মিত পরীক্ষা করলে এসব রোগ প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা সম্ভব এবং উপযুক্ত চিকিৎসা নেওয়া যায়।

ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রোগের প্রভাব নিরীক্ষণ

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে চোখ প্রভাবিত হতে পারে। নিয়মিত পরীক্ষা করালে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি বা রক্তচাপের সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব।

কখন চোখের পরীক্ষা করানো উচিত

শিশুদের জন্য জন্মের পর প্রথম পরীক্ষা: জন্মের ৬ থেকে ১২ মাসেছোট বয়স: ৩ থেকে ৫ বছর বয়সে পুনঃপরীক্ষা

স্কুলজীবন: প্রতিবছর চোখ পরীক্ষা

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য

২০ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে: প্রতি ২ থেকে ৩ বছরে একবার

৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে: প্রতি ১ থেকে ২ বছরে একবার

৬০ বছরের ওপরে: প্রতিবছর

বিস্তারিত পরীক্ষা প্রয়োজন যেসব পরিস্থিতিতে

  • ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে।
  • চোখে নিয়মিত লালচে ভাব, ঝাপসা বা ক্লান্তি অনুভূত হলে।
  • পরিবারে চোখের জটিল রোগের ইতিহাস থাকলে।

চোখের নিয়মিত পরীক্ষার উপকারিতা

দৃষ্টি উন্নয়ন ও বজায় রাখা: সময়মতো সমস্যা চিহ্নিত হলে দৃষ্টি সংরক্ষণ করা সহজ।

প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও চশমা: চোখের সমস্যা অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসা বা চশমা ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

জটিলতা এড়ানো: চোখের গুরুতর সমস্যা; যেমন গ্লুকোমা বা মাকুলার ডিজেনারেশন প্রাথমিক পর্যায়ে থামানো সম্ভব।

সচেতনতা বৃদ্ধি: নিজের চোখের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং সুস্থ অভ্যাস গড়ে তোলা।

হাড় সুস্থ রাখতে যা করবেন

জলাতঙ্ক: আতঙ্ক নয় সচেতনতাই বাঁচার পথ

এই গরমে আরামে থাকতে যা করবেন

আক্কেলদাঁতের ব্যথা কমাতে ঘরোয়া উপায়

পাহাড় আর সীমান্তে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

বাংলাদেশে হামের পরিস্থিতি ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

হাম প্রতিরোধযোগ্য হলেও শিশুরা ঝুঁকিতে—এটি মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন

শয্যা খালি নেই দেখিয়ে হামের রোগী অন্যত্র না পাঠানোর নির্দেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, সন্দেহজনক শনাক্ত ১১৭০