অনেকেই আছেন, যাদের কোনো কারণ ছাড়াই সারাক্ষণ দুর্বল লাগে। কেউ কেউ আবার ভুগছেন বিষণ্নতায়। কারও ক্ষেত্রে দেখা যায়, শরীরে বারবার সংক্রমণ হচ্ছে। এ ধরনের সমস্যার পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে খুব পরিচিত একটি ভিটামিনের ঘাটতি। সেটি হলো ভিটামিন ডি।
ছোট-বড় বেশির ভাগ মানুষ জানে, সূর্যের আলোয় থাকলে শরীরে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। কিন্তু এত সহজে যে ভিটামিন পাওয়া যায়, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ সেই ভিটামিনের ঘাটতিতেই ভোগেন। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের একটি গবেষণা বলছে, বিশ্বের ১০০ কোটির বেশি মানুষের, অর্থাৎ পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ৮ ভাগের এক ভাগেরও বেশি মানুষ ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে ভোগেন।
শরীরে ভিটামিন ডি-এর সঠিক মাত্রার অভাব হলে নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এর প্রধান লক্ষণ ও ক্ষতিকর দিকগুলো হলো:
ক্লান্তি ও দুর্বলতা: সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভব হয়, শরীর ও পেশিতে ব্যথা বা দুর্বলতা দেখা দেওয়া।
হাড় ও পেশির তীব্র ব্যথা: হাড় ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া এবং পেশিতে অসহ্য যন্ত্রণা হওয়া।
হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি: সামান্য আঘাতেই হাড়, বিশেষ করে পা, শ্রোণিচক্র (কোমরের হাড়ের নিচের অংশ) এবং নিতম্বের হাড়ে ফাটল ধরা বা ভেঙে যাওয়া।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া: ঘন ঘন সংক্রমণ বা ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়া এবং অটোইমিউন রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া।
মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি: বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া।
মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, সূর্যের আলোতে গেলেই যে ভিটামিন শরীরে তৈরি হয়, তার আবার ঘাটতি হয় কী করে? উত্তরটা লুকিয়ে আছে এই প্রশ্নের মধ্যেই। আরও কিছু কারণ রয়েছে—
ভিটামিন ডি তিনটি প্রধান উপায়ে পাওয়া যায়—
১. সূর্যের আলো (প্রধান উৎস): সূর্যের আলো ত্বকে সরাসরি লাগলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই ভিটামিন ডি তৈরি করে।
২. খাবার: প্রাকৃতিকভাবে এবং ফর্টিফায়েড (অতিরিক্ত ভিটামিন যুক্ত করা) খাবারের মাধ্যমে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
৩. সাপ্লিমেন্ট: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা যায়।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক চাহিদার সিংহ ভাগ ভিটামিন ডি-ই পাওয়া যায় সূর্যের আলো থেকে। এ ছাড়া কিছু খাবার থেকেও ভিটামিন ডি পাওয়া যায়—
ভিটামিন ডি-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ নিয়ন্ত্রণ করা, যা হাড় ও দাঁতের স্বাভাবিক গঠন ও মজবুত রাখার জন্য অপরিহার্য। এর অন্যান্য মূল উপকারিতাগুলো হলো—
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: এই ভিটামিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, টাইপ-১ ডায়াবেটিস এবং অন্ত্রের প্রদাহের মতো অটোইমিউন রোগের ঝুঁকি কমায়।
গুরুতর রোগ থেকে সুরক্ষা: গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ফ্লু ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা কমায়।
মানসিক স্বাস্থ্য ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণ: ভিটামিন ডি মেজাজ ঠিক রাখতে এবং বিষণ্নতা বা দুশ্চিন্তা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা: পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি ক্ষুধামন্দা তৈরি করে পরোক্ষভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে।
তথ্যসূত্র: হেল্থলাইন