বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও মেডিকেল কলেজে কর্মরত ‘এন্ট্রি-লেভেল’ চিকিৎসকদের জন্য একটি যৌক্তিক ও সম্মানজনক বেতনকাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ থেকে আজ মঙ্গলবার জারি করা পৃথক দুটি চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে।
বেতনকাঠামো প্রণয়নের বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সঞ্জীব দাশ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় ইন্টার্ন ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর বেসরকারি খাতে এন্ট্রি-লেভেল চিকিৎসকদের বেতনকাঠামো নির্ধারণে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে রয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কমিটিকে ২০ কার্যদিবসের মধ্যে বিদ্যমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পর্যালোচনা করে একটি যৌক্তিক বেতনকাঠামোর খসড়া প্রণয়ন এবং সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
আজ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়ে একটি সুপারিশপত্র পাঠান।
চিঠিতে বলা হয়, ৮ জুন অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সভার সিদ্ধান্ত নং ৪ অনুযায়ী গৃহীত হয়েছে। ওই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানায়, ইন্টার্ন ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকদের ছয় দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠকের পর এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আলোচনায় বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতনকাঠামো, ভাতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন, ভর্তি পরীক্ষার ফি যৌক্তিকীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে নীতিগত অগ্রগতি হয়েছে।
ছয় দফা দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শুরু করা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠকের পর সোমবার রাতে প্রত্যাহার করা হয়।