‘বাংলাদেশে টিকটক প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করতে যাচ্ছে সরকার’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী মাহবুব আনামের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রচারিত ফটোকার্ডটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট রয়েছে এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
Live Bangla News নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে চলতি মাসের ২৪ তারিখ দুপুর ২টা ২ মিনিটে সম্ভাব্য প্রথম পোস্টটি শেয়ার করা হয়। এই পোস্টটিতে আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ৩টা পর্যন্ত এতে ৪২ হাজারো রিয়েকশন পড়েছে। পোস্টটি ৫৬৯ বার শেয়ার হয়েছে এবং প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কমেন্ট রয়েছে।
শেয়ার করা পেজ ও অ্যাকাউন্টের পোস্টগুলোর কমেন্ট যাচাই করে দেখা যায়, বেশিরভাগ ব্যবহারকারী দাবিটিকে সত্য ধরে ইতিবাচক কমেন্ট করেছেন। কেউ কেউ দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আহ্বানও জানিয়েছেন।
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রথমে ভাইরাল ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক টিম। দেখা যায়, অধিকাংশ পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত ফটোকার্ডে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রের উল্লেখ নেই।
লাইভ বাংলা নিউজের ফটোকার্ডটি বিশ্লেষণ করে কয়েকটি অসঙ্গতি চোখে পড়েছে। প্রথমত, ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবিতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশন, চ্যানেল ৭১, মাছরাঙা টেলিভিশন, স্টার নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের লোগোযুক্ত মাইক্রোফোন দেখা গেলেও কার্ডে কোনো সংবাদসূত্র উল্লেখ নেই। লোগোগুলো ধরে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে আলোচিত বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন বা ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া ফটোকার্ডে টিকটকের লোগো যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা প্রচলিত সংবাদমাধ্যমে সাধারণত দেখা যায় না।
প্রচারিত ফটোকার্ডের সবচেয়ে বড় অসঙ্গতি হলো, ফটোকার্ডে প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আনাম দাবি করে যে ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, তিনি বর্তমান সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
এছাড়া প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে জাতীয় গণমাধ্যমে খোঁজ করলে টিকটক বন্ধের বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
তবে বিষয়টি নিয়ে আরও যাচাইয়ে জাতীয় দৈনিক আজকের পত্রিকায় ‘এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী’ শিরোনামে চলতি মাসের ১৮ ফেব্রুয়ারির একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেখানে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে ভাইরাল ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির হুবহু মিল রয়েছে।
সিদ্ধান্ত
ভাইরাল ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবি ভিন্ন প্রেক্ষাপটের এবং ভুল পরিচয়ে প্রচার করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘সরকার টিকটক বন্ধ করছে’—এমন কোনো কথা কর্তৃপক্ষের কেউ বলেননি। ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটি বানোয়াট।