অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিষিদ্ধ শূকরের মাংস আমদানি করতে চেয়েছিল এবং এ বিষয়ে বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে—এমন একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই তথ্যের সমর্থনে দেশের জনপ্রিয় তিন ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী, শায়খ আহমাদুল্লাহ এবং মুফতি আমির হামজার নামে পৃথক তিনটি ফটোকার্ড প্রচার করা হচ্ছে।
এই দাবিতে পোস্ট আছে এখানে (আর্কাইভ ), এখানে (আর্কাইভ ), এখানে (আর্কাইভ ), এবং এখানে (আর্কাইভ)।
‘Bengali Steam’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ১ ও ২ মে ফটোকার্ডগুলো শেয়ার করা হয়। মিজানুর রহমান আজহারীর নামে প্রচারিত ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, তিনি বলেছেন—‘শূকরের মাংস হারাম হওয়া গরুর মাংস ব্যবসায়ীদের প্রোপাগান্ডা।’ অন্যদিকে, শায়খ আহমাদুল্লাহর নামে প্রচারিত কার্ডে দাবি করা হয়, তিনি শূকরের মাংস হারামের দলিল চেয়েছেন এবং দেশপ্রেমের খাতিরে এই মাংস খাওয়া জায়েজ বলেছেন। মুফতি আমির হামজার নামে প্রচারিত কার্ডে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ জানাতে দেখা যায়।
পোস্টগুলোতে হাজারো রিঅ্যাকশন এবং শতাধিক শেয়ার ও কমেন্ট রয়েছে। এসব পোস্টের কমেন্টে অনেক ব্যবহারকারী পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে এই বক্তাদের সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ কেউ এগুলোকে ‘এডিট করা’ বা ভুয়া বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে শুরুতেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল এবং মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে অনুসন্ধান চালানো হয়। অনুসন্ধানে মিজানুর রহমান আজহারী, শায়খ আহমাদুল্লাহ বা মুফতি আমির হামজার পক্ষ থেকে শূকরের মাংস-সংক্রান্ত এমন কোনো বক্তব্য বা আলোচনার তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইসলামে শূকরের মাংস খাওয়া স্পষ্টভাবে ‘হারাম’ হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা এর বিপরীতে কোনো অবস্থান নিয়েছেন—এমন কোনো প্রমাণ নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তিতে শূকরের মাংস আমদানির সম্মতির বিষয়ে অভিযোগ উঠলেও কোনো দাপ্তরিক তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া এই বিষয়টি নিয়ে ড. ইউনূস বা তাঁর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্যদেরও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীকালে ‘Bengali Steam’ নামের যে ফেসবুক পেজ থেকে ফটোকার্ডগুলো ছড়ানো হয়েছে, সেটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পেজটির ‘বায়ো’ লেখা রয়েছে যে এটি একটি ‘স্যাটায়ার’ বা ব্যঙ্গাত্মক পেজ।
এ ছাড়া যাচাইয়ে দেখা যায়, পেজটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে মনগড়া ও চটকদার তথ্য প্রচার করে থাকে, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের কাস্টমস ও ভ্যাট আইন অনুযায়ী, শূকরের আমদানি নিষিদ্ধ। তবে বিশেষ প্রয়োজনে অত্যন্ত কঠোর নিয়মনীতি মেনে সীমিত পরিমাণে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকে।
মিজানুর রহমান আজহারী, শায়খ আহমাদুল্লাহ ও মুফতি আমির হামজার নামে শূকরের মাংস আমদানির সমর্থনে প্রচারিত বক্তব্যগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।