চেলসি নারী ফুটবল দলের গোলকিপার ছিলেন জাইমা রহমান—ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের এমন মন্তব্য দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। জাইমা রহমানকে নিয়ে এই মন্তব্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট আছে এখানে , এখানে , এখানে এবং এখানে ।
‘BONGO WIKI’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ২২ মার্চ বিকেল ৩টায় একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। ইংরেজি ফটোকার্ডে ক্যাপশনে বলা হয়েছে, জাইমা রহমান এক সময় ইংলিশ ক্লাব চেলসির নারী দলে গোলরক্ষক হিসেবে খেলেছেন বলে জানিয়েছেন আমিনুল হক। আলোচিত দাবিতে এটিই সম্ভাব্য প্রথম পোস্ট এবং এটিই সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। পোস্টটিতে ২৩ মার্চ বেলা ১টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৪৮ হাজার রিয়েকশন, ১ হাজার ৭০০ কমেন্ট এবং ৭৩০ শেয়ার রয়েছে।
ভাইরাল পোস্টগুলোর কমেন্ট যাচাই করে দেখা যায়, অনেক ব্যবহারকারী ফটোকার্ডটিকে সত্য মনে করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কমেন্টের বড় অংশে বিষয়টি নিয়ে হাস্যরসও দেখা যায়। কেউ লিখেছেন, ‘আমি তো বার্সেলোনাতে দেখছিলাম।’ কেউ বলেছেন, ‘যাক, খেলাধুলার মধ্যে রাখছে, অভিনেত্রী বলে নাই।’ আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, ‘তাহলে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলে নিয়ে আসা হোক।’
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
‘BONGO WIKI’ পেজ থেকে শেয়ার করা ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ওপরে ডানদিকে তথ্যসূত্র হিসেবে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ফটোকার্ডে উল্লেখিত সূত্র ধরে অনুসন্ধানে যমুনা টিভির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ২২ মার্চ বিকেল ৩টার দিকে ‘জাইমা রহমান চেলসির নারী দলে গোলকিপার হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন’—শিরোনামের একটি পোস্ট পাওয়া যায়। ওই পোস্টের কমেন্টে ‘Jamuna Sports’ পেজের একটি ভিডিওর লিংক যুক্ত করা হয়। ৩ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওর ১ মিনিট ৪ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট ২৮ সেকেন্ডে আমিনুল হক বলেন, ‘সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, আমাদের জাইমা রহমান চেলসির মেয়েদের ফুটবল টিমে সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি একজন গোলকিপার হিসেবে ছিলেন। তিনি বেশ লম্বা, তাই সেই সুযোগটি পেয়েছিলেন। তবে পরে হয়তো আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সেই সুযোগটি করে দেননি।’
জাইমা চেলসির নারী দলের গোলকিপার ছিলেন ভিডিওতে এমন কোনো দাবি করতে দেখা যায়নি।
এ ছাড়া যমুনা টিভির ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে ২১ মার্চ প্রকাশিত আমিনুল হকের ‘না বলা কথা’ শিরোনামের ১৭ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের একটি সাক্ষাৎকারের ১২ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড থেকে ১৩ মিনিট ০১ সেকেন্ড পর্যন্ত আমিনুল হক জাইমা রহমানের চেলসির নারী ফুটবল দলে সুযোগ পাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। এ ছাড়া ভিডিওতে তিনি লন্ডনে জাইমা রহমানের খেলাধূলা, তাঁর খেলাধূলা নিয়ে তাঁর আগ্রহসহ আরও অনেক বিষয়ে আমিনুল হক কথা বললেও, চেলসির নারী দলের গোলকিপার ছিলেন—এমন কোনো মন্তব্য করেননি।
বিষয়টি নিয়ে জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও (১ , ২ ) জাইমা রহমান চেলসির নারী দলের গোলকিপার হিসেবে খেলেছেন বা ছিলেন—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে আমিনুল হকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ব্যাখ্যামূলক পোস্ট পাওয়া যায়, যেখানে বলা হয়, তাঁর বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, জাইমা রহমান লন্ডনে স্কুলে পড়ার সময় ফুটবল খেলতেন এবং সে সূত্রে চেলসির বয়সভিত্তিক দলে গোলরক্ষক হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান মেয়েকে লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে বলেছিলেন।
সিদ্ধান্ত
জাইমা রহমান চেলসির নারী ফুটবল দলের গোলকিপার ছিলেন—এমন দাবি বিভ্রান্তিকর। বাস্তবে তিনি চেলসির বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।