সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতার রিল ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে অংশগ্রহণকারী এক বিতার্কিককে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলে দাবি করা হচ্ছে। ছড়িয়ে পড়া পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ‘তারেক রহমান বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হলে দেশের পরীক্ষা তুলে দিবে। কথাটা রাইখেন।’ (বানান অপরিবর্তিত)
এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট আছে এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
টিকটকে পোস্ট আছে এখানে।
প্রাসঙ্গিক কি–ওয়ার্ড ব্যবহার করে খোঁজ করলে ইউটিউবে একই দৃশ্যের একাধিক ভিডিও পাওয়া যায়। ‘A.K.H NAHED’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ‘সৈয়দ নাজমুল কবির এবং উম্মে সুহালা বিতর্ক প্রতিযোগিতা’ শিরোনামের একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত ৬ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওর ১ মিনিট ১০ সেকেন্ড থেকে ২৭ সেকেন্ড অংশের সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে।
আরও অনুসন্ধানে ‘Gan Bazna’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ২০২১ সালের ১৬ মে প্রকাশিত ৪৩ মিনিট ০৭ সেকেন্ডের ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওর ২৩ মিনিট ২২ সেকেন্ড ৩৯ সেকেন্ড পর্যন্ত অংশের সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির মিল পাওয়া যায়।
ভিডিও থেকে জানা যায়, ভিডিওটি ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশন আয়োজিত জাতীয় টেলিভিশন স্কুল বিতর্ক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের একটি অংশ। ভাইরাল ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে, তাঁর নাম সৈয়দ নাজমুল কবির। সে সময় তিনি চট্টগ্রাম বিএএফ শাহীন স্কুলের ছাত্র ছিলেন।
এছাড়া মূল ভিডিওর ২১ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে উপস্থাপক সৈয়দ নাজমুল কবির নামের এক বিতার্কিকের নাম ঘোষণা করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তিনি চট্টগ্রাম বিএএফ শাহীন স্কুলের ছাত্র।
অন্যদিকে, তারেক রহমান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬৭ সালের ২০ নভেম্বর। সে হিসাবে ১৯৯৪ সালে তাঁর বয়স ছিল প্রায় ২৬ বছর। কিন্তু ওই বছরের জাতীয় টেলিভিশন স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন স্কুল ও কলেজপর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। বয়স ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এ প্রতিযোগিতায় তাঁর অংশ নেওয়ার দাবির সঙ্গে তথ্যগত অসঙ্গতি দেখা যায়।
এ ছাড়া ভিডিওটিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ সরকারের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
সুতরাং, তারেক রহমানের নামে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি আসলে সৈয়দ নাজমুল কবির নামের এক শিক্ষার্থী।