হোম > ফ্যাক্টচেক > বিদেশ

কাতার নিজ ভূখণ্ড থেকে মার্কিন সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে—দাবিটি সঠিক নয়

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক

কাতার তাদের ভূখণ্ড থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দাবিতে পোস্ট। ছবি: স্ক্রিনশট

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে—উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম দেশ হিসেবে কাতার তাদের ভূখণ্ড থেকে মার্কিন সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট আছে এখানে, এখানে এবং এখানে

Salahuddin নামের একটি ফেসবুজ পেজ থেকে গতকাল (২ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। আলোচিত দাবিতে এটিই সম্ভাব্য প্রথম পোস্ট এবং সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। এই পেজে শেয়ার করা পোস্টটিতে আজ বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ৬৪ হাজার রিয়েকশন পড়েছে। এ ছাড়া পোস্টটিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কমেন্ট এবং ৩ হাজার ৬০০ শেয়ার রয়েছে।

পোস্টের কমেন্ট যাচাইয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়—কেউ দাবিটিকে সত্য মনে করেছেন, আবার কেউ একে ভুয়া তথ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

আলোচিত দাবির সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যেখানে কাতার সরকার মার্কিন সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে উল্লেখ আছে।

বরং, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি গালফ নিউজ -এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র কাতারের আল-উদেয়িদ ঘাঁটি এবং বাহরাইন থেকে তাদের কয়েকশ সেনাকে সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নেয়।

গলফ নিউজের প্রতিবেদন। ছবি: স্ক্রিনশট

প্রতিবেদন আরও বলা হয়, ইরান স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তাদের ওপর হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক কর্মী ও সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়, যা সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত।

এ বিষয়ে আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আঞ্চলিক উত্তেজনা’ বিবেচনায় আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু সদস্যকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কাতার কর্তৃপক্ষ।

অনুসন্ধানে সিএনএন-এ প্রকাশিত ২০২৪ সালের জানুয়ারির ‘US reaches deal to extend military presence at Qatar base for 10 more years’ একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার গোপনে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার মাধ্যমে কাতারের আল-উদেয়িদ বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও ১০ বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে। এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটিটি ২০৩৪ সাল পর্যন্ত সচল থাকার আইনি নিশ্চয়তা পেল।

সিএনএন-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন। ছবি: স্ক্রিনশট

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কাতারসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে জানায় যে, তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানো যাবে না। তবে এই অবস্থান সামরিক ঘাঁটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার কূটনৈতিক অবস্থান।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বজায় রাখলেও তারা চায় না তাদের ভূখণ্ড কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানের লঞ্চপ্যাড হিসেবে ব্যবহৃত হোক।

সিদ্ধান্ত

কাতার উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম দেশ হিসেবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এই দাবি সঠিক নয়। বাস্তবে, যুক্তরাষ্ট্র কাতার থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার কোনো স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেয়নি; বরং আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সীমিত ও সাময়িক পুনর্বিন্যাস করেছে এবং উভয় দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বহাল রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা factcheck@ajkerpatrika.com

মুসলিম ঐতিহ্যবাহী পোশাকে কিমের পরিবারের ঈদ শুভেচ্ছা— ছবিটি এআই-নির্মিত

জম্মু-কাশ্মীরের ঘটনা ইরানের বলে প্রচার

ফুটবলার হালান্ডের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের দাবিতে ভাইরাল ছবি-ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন উপপ্রধানমন্ত্রী লেভিন—দাবিটি সঠিক নয়

এক কিশোরের সংস্পর্শে দুই কিশোরী গর্ভবতী— ভাইরাল ভিডিওটি সাজানো

নেতানিয়াহুকে জীবিত প্রমাণে বারবার ছবি-ভিডিও প্রকাশ সন্দেহ বাড়াচ্ছে

ইরানের পরাজয় মানে ভারতের সাফল্য—সেনা কর্মকর্তার নামে ছড়ানো ভিডিওটি ডিপফেক

তেল আবিব বিমানবন্দরে ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি এআই নির্মিত

দিল্লির মাছ বাজারে আগুনের ঘটনাকে ভারত-ইসরায়েল ড্রোন কারখানায় হামলা দাবিতে প্রচার

ইরানের হামলার ভয়ে ‘ঈশ্বরকে লেখা চিঠি’ সরাচ্ছে ইসরায়েলিরা—দাবিটি সঠিক নয়