যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ–পূর্ব ইংল্যান্ডের একটি বন্যপ্রাণী পার্কে নিজেদের মধ্যে মারাত্মক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার পর পুরো একটি নেকড়ে দলকে হত্যা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রাণীগুলোর কষ্ট কমানোর জন্যই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে কেন্টের ক্যান্টারবেরির কাছাকাছি অবস্থিত ওয়াইল্ডউড ট্রাস্ট নামের একটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ পার্কে। সেখানে ওডিন, নুনা, মিনিমাস, টিবেরিয়াস ও ম্যাক্সিমাস নামে পাঁচটি ইউরোপীয় ধূসর নেকড়ে একসঙ্গে থাকত।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে থাকার পর হঠাৎ করে নেকড়েদের দলগত কাঠামো ভেঙে যায় এবং তারা একে অপরের ওপর আক্রমণ শুরু করে। এতে তিনটি নেকড়ে গুরুতর ও প্রাণঘাতী আঘাত পায়। পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে থাকায় পশুচিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে শেষ পর্যন্ত পুরো দলটিকেই হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওয়াইল্ডউড ট্রাস্টের মহাপরিচালক পল হুইটফিল্ড এক বিবৃতিতে বলেছেন—নেকড়ে অত্যন্ত সামাজিক প্রাণী এবং তারা জটিল পারিবারিক কাঠামোর মধ্যে বাস করে। যখন সেই কাঠামো ভেঙে পড়ে, তখন সংঘর্ষ ও আক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘হত্যার সিদ্ধান্ত কখনোই সহজ নয়, কিন্তু প্রাণীদের কল্যাণ আর বজায় রাখা সম্ভব না হলে কখনো কখনো এটিই সবচেয়ে মানবিক পথ।’
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, নেকড়েগুলোকে আলাদা করে দীর্ঘদিন রাখা সম্ভব ছিল না। কারণ এতে তাদের মানসিক ও শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ত। অন্য কোনো নেকড়ে দলের সঙ্গে স্থানান্তর করাও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কারণ এতে নতুন সংঘর্ষ সৃষ্টি হতে পারত।
এই ঘটনার পর পার্কটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং কর্মীরা তাঁদের ‘হৃদয় ভেঙে গেছে’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে এই নেকড়েদের দেখাশোনা করেছেন, তাই এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের।
উল্লেখ্য, ওয়াইল্ডউড ট্রাস্ট ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ পার্ক। এখানে মূলত ব্রিটেনের স্থানীয় বা বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী সংরক্ষণ ও পুনর্বাসনের কাজ করা হয়।