হোম > পরিবেশ

২৭ দিনে ১০ বার কেঁপে উঠল দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

ফাইল ছবি

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান আবারও কেঁপে উঠল ভূমিকম্পে। গতকাল শুক্রবার বেলা ১টা ৫২ মিনিটের দিকে ৫ দশমিক ৪ মাত্রার এই কম্পন অনুভূত হয়। এ নিয়ে চলতি মাসের ২৭ দিনেই দেশে ১০ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। এগুলোর মাত্রা মৃদু থেকে মাঝারি ছিল। তবে গত ২১ নভেম্বর ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে গতকালের ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪। আর এর উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা।

অন্যদিকে ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দপ্তর (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, খুলনা থেকে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল ভূমিকম্পটির কেন্দ্র। ইউএসজিএসের প্রাথমিক তথ্যে এর মাত্রা ৫ দশমিক ৩ উল্লেখ করা হয়। সংস্থা দুটির তথ্যমতে, ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার নিচে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা শ্মশানঘাটের একটি দেয়াল, তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামের কয়েকটি কাঁচা ঘরবাড়ি এবং অর্ধশতাধিক বাড়ির দেয়ালে ফাটলসহ ছোটখাটো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার বলেন, মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক ফারজানা সুলতানা বলেন, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলাকেই উৎপত্তিস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাতক্ষীরার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, বেলা ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে কম্পনটি অনুভূত হয়।

কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এ ভূমিকম্পে সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ ঘরবাড়ি দুলতে শুরু করলে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকে ভবন থেকে নেমে খোলা স্থানে অবস্থান নেন।

সাতক্ষীরার কাটিয়া এলাকার গৃহবধূ রোকসানা আক্তার বলেন, তিনি ঘরের কাজ করছিলেন, হঠাৎ মনে হয় একবার ডান দিকে, আবার বাঁদিকে ঢলে পড়ছেন। আতঙ্কিত হয়ে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।

একই এলাকার বাসিন্দা জাহারুল ইসলাম টুটুল জানান, জুমার নামাজ চলাকালে দোতলা মসজিদটি দুলতে শুরু করলে মুসল্লিরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন।

ভূমিকম্পের কেন্দ্র সাতক্ষীরা জেলা হওয়ায় সীমান্তবর্তী ভারতের কলকাতা শহরেও কম্পন অনুভূত হয়। শহরটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে; অনেকে বাড়ি ও অফিস থেকে বেরিয়ে খোলা স্থানে অবস্থান নেন। পশ্চিমবঙ্গের টাকি এলাকা ভূমিকম্পের উৎসস্থল থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে বলে জানায় দেশটির সংবাদ মাধ্যম।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ থেকে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত মাঝারি মাত্রার হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের কম্পনে দুর্বল অবকাঠামোতে ফাটল বা আংশিক ক্ষতি হতে পারে। তাই ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প সহনশীল নকশা ও বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তাঁরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল টেকটোনিক সক্রিয়তার কারণে মাঝেমধ্যে কম্পনের ঝুঁকিতে থাকে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করাই ক্ষয়ক্ষতি কমানোর প্রধান উপায়।

দেশে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা

আগামী সপ্তাহেই বৃষ্টির পূর্বাভাস

রাজধানী ঢাকায় সকালে উঠেছে ঝলমলে রোদ, কমেছে তাপমাত্রা

সিকিমে ৪.২ মাত্রার ভূমিকম্প

১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশে আবারও ভূমিকম্প

আগামী ৫ দিন তাপমাত্রা কমবে কি না—জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

ঢাকায় আরও বাড়বে তাপমাত্রা

মিয়ানমারে ৫ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প, ঢাকায়ও মৃদু কম্পন

বিলুপ্তি থেকে ফিরে আসছে উড়তে না পারা একমাত্র তোতা পাখি ‘কাকাপো’

বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা দীর্ঘ হবে, গরম আরও বাড়বে