হোম > পরিবেশ

বিশ্বের অন্যতম বিরল মাছ আবিষ্কার—যার চোখ নেই

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

নতুন আবিষ্কৃত ডেমন কেভফিশ। ছবি: সিএনএন

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার একটি গুহায় এমন এক অদ্ভুত মাছের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যাকে বিশ্বের অন্যতম বিরল মাছ বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন আবিষ্কৃত এই মাছের কোনো চোখ নেই, স্বচ্ছ শরীরে নেই কোনো রঞ্জক পদার্থও। এর স্বচ্ছ চামড়ার ভেতর দিয়ে তাই মস্তিষ্ক পর্যন্ত দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা মাছটির নাম দিয়েছেন ‘ডেমোগর্গোনিকথিস আরকেনাস’, প্রচলিত নাম ‘ডেমন কেভফিশ’।

রোববার (২ আগস্ট) সিএনএন জানিয়েছে, আলাবামার হান্টসভিলের কাছে অবস্থিত ববক্যাট কেভে গত বছর জরিপ চালাতে গিয়ে জীববিজ্ঞানী ড. ম্যাথিউ নিমিলার প্রথম মাছটির সন্ধান পান। ওই গুহায় বিপন্ন আলাবামা কেভ শ্রিম্প, দুই প্রজাতির গুহাবাসী ক্রেফিশ এবং সাউদার্ন কেভফিশ রয়েছে—মূলত এগুলোই খুঁজে পাওয়ার আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু জরিপের সময় এমন এক মাছের দেখা পান, যা আগে বিজ্ঞানের কাছে অজানা ছিল।

মাছটির বৈশিষ্ট্য অন্য গুহাবাসী অন্যান্য মাছের তুলনায় একেবারেই আলাদা। এর চোখ নেই, পিঠ কিছুটা কুঁজো, শরীরে কাঁটার মতো স্পাইনি রে রয়েছে এবং মুখের সামনের অংশের গঠনও স্বতন্ত্র। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, মাছটির শরীরে কোনো রং নেই। ফলে এর প্রায় স্বচ্ছ শরীরের ভেতর দিয়ে মস্তিষ্ক দেখা যায়।

প্রথমে নিমিলারও নিশ্চিত ছিলেন না, এটি নতুন কোনো প্রজাতি কি না। কারণ গুহার অন্ধকার পরিবেশে বসবাসকারী মাছের শারীরিক গঠনে অনেক বৈচিত্র্য দেখা যায়। তাই মাছটি সাউদার্ন কেভফিশেরই ভিন্ন কোনো রূপ হতে পারে বলে ধারণা করেছিলেন তিনি। পরে ড. জোনাথন আর্মব্রাস্টার ও ড. পামেলা হার্টের সঙ্গে মিলে নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হয়। সিটি স্ক্যান, জেনেটিক পরীক্ষা ও অন্যান্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাছটির কঙ্কালগত বৈশিষ্ট্যও পরিচিত গুহাবাসী মাছগুলোর চেয়ে আলাদা। এর ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা এটিকে নতুন একটি গণ ও প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করেন।

মাছটির নামকরণে জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর দানব ‘ডেমোগর্গন’-এর প্রভাব রয়েছে। গবেষক আর্মব্রাস্টার সিরিজটির দীর্ঘদিনের ভক্ত। চোখহীন, সাদা ও অদ্ভুত চেহারার এই প্রাণীর জন্য ‘ডেমোগর্গন’ নামটিকেই উপযুক্ত মনে করেন তিনি।

তবে ডেমন কেভফিশ সম্পর্কে এখনো অনেক কিছুই অজানা। বিজ্ঞানীরা জানেন না এর প্রজনন কীভাবে হয় কিংবা পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে কীভাবে আলাদা করা যায়। কী খায়, সে সম্পর্কেও ধারণা সীমিত; সম্ভবত মুখে ঢোকে এমন যে কোনো ছোট প্রাণীই এর খাদ্য।

গবেষকদের ধারণা, এই মাছের সংখ্যা অত্যন্ত কম। এখন পর্যন্ত এটি শুধু একটি স্থানেই পাওয়া গেছে। শেষবার ববক্যাট কেভে গিয়ে নিমিলার ২৭টি মাছ দেখেছিলেন। তবে এই সংখ্যা তাদের পুরো জনসংখ্যার প্রকৃত চিত্র নয়। গুহাটির ভূগর্ভস্থ পানির সরবরাহের উৎসও খুব ছোট হওয়ায় মাছটি সম্ভবত চরমভাবে বিপন্ন।

গত ৬ জুলাই ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, এই আবিষ্কার প্রমাণ করে, ব্যাপকভাবে গবেষণা করা এলাকাতেও এখনো অজানা প্রাণী প্রজাতি লুকিয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে সামরিক স্থাপনার মতো মানুষের প্রবেশ সীমিত এমন এলাকাগুলোতে আরও অজানা প্রজাতির সন্ধান মিলতে পারে।

ঢাকায় হতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি

আরও ৫ দিন বৃষ্টি

ভয়াবহ দাবানলে যেভাবে হাজারো বন্যপ্রাণীকে অক্ষত রাখল স্পেন

৭ অঞ্চলের ঝড়ের আভাস, ঢাকায় হবে কি

আগামী কয়েকদিন বাড়বে বৃষ্টি, বিপৎসীমার ওপরে কুশিয়ারার পানি

মানুষের মতো প্রাণীরাও কি প্রতিশোধপরায়ণ হয়

কীটনাশক দেওয়া টমেটো খেয়ে কেনিয়ায় ১৫ হাতির মৃত্যু

বৃষ্টির পরিমাণ কমেছে, বাড়বে তাপমাত্রা

প্রচণ্ড গরমে বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি ১.৮ বিলিয়ন ডলার: বিশ্বব্যাংক

সারা দেশে টানা বর্ষণের আভাস, ঢাকার তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা