গত ডিসেম্বরে শুটিং সেটে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। পরে জানতে পারেন ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত তিনি। এরপর টানা চিকিৎসা, একাধিক সার্জারি, এমনকি লাইফ সাপোর্টের মতো কঠিন সময়ও পার করতে হয়েছে তাঁকে। চিকিৎসকদের কড়া নিষেধ সত্ত্বেও অভিনয়ের প্রতি তীব্র ভালোবাসা থেকে দীর্ঘ ৯ মাস পর আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন তানিয়া বৃষ্টি। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শিহাব আহমেদ।
হ্যাঁ, ভারতে আমার দ্বিতীয় সার্জারির আগের কথা এটা। চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালের অনকোলজিস্ট আমার সব রিপোর্ট দেখার পর এ কথা বলেছিলেন। সেদিন জীবনে প্রথম এত বড় ধাক্কা খাই। ডাক্তারের কথা শুনে পাগলের মতো কেঁদেছিলাম।
এখনো আমার কেমোথেরাপি চলছে। ডিসেম্বরে শেষ হবে। এরপর আবার সব টেস্ট করাতে হবে। রিপোর্ট দেখে পরবর্তী চিকিৎসাপদ্ধতি ঠিক করবেন ডাক্তারেরা। তবে এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। সার্জারির পর ঘুমাতে কষ্ট হতো, দুর্বল লাগত, মাথা ঘোরা ও বমি হতো। রেডিওথেরাপির সেই কঠিন সময় শেষে ধীরে ধীরে এখন স্বাভাবিকতার দিকে যাচ্ছি। তার পরও আমি তো গ্লিওব্লাস্টোমা পেশেন্ট, এর কোনো স্থায়ী নিরাময় নেই। তাই টিউমার আবার বাড়তেও পারে। সবার কাছে শুধু দোয়া চাই।
গত ডিসেম্বরে। শুটিংয়ের সময় টানা কয়েক দিন তীব্র মাথাব্যথা হচ্ছিল। মাথাব্যথা নিয়ে কাজ করার সময় একদিন বমি হলে হাসপাতালে ভর্তি হই। পরদিন রিপোর্ট পাওয়ার পর জানতে পারি ব্রেন টিউমার হয়েছে। প্রথমে দেশেই চিকিৎসা শুরু করি। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চেন্নাই যাই। সেখানে দ্বিতীয় সার্জারি হয়। সার্জারির পর লাইফ সাপোর্টেও থাকতে হয়েছিল আমাকে। পুরোটা সময় আমার মা ও বোন আমাকে শক্ত করে ধরে রেখেছেন। ইন্ডাস্ট্রির অনেকে খোঁজখবর নিয়েছেন। সহকর্মীরাও খোঁজখবর নিয়েছেন।
হ্যাঁ, ইকসান রনির ‘অংশীদার’ নাটকের শুটিং করেছি। আমাদের সমাজের বাস্তব চিত্র নিয়ে এই নাটকের গল্প। বাবার মৃত্যুর পর দুই বোনের মাঝে শুরু হওয়া সম্পর্কের টানাপোড়েন, সম্পত্তির ভাগ–বাঁটোয়ারা, চাচা ও তাঁর পরিবারের অন্যায় আচরণ এবং এর বিরুদ্ধে বড় বোনের রুখে দাঁড়ানো—এসব নিয়েই নাটকের গল্প। প্রতিবাদী বড় বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছি আমি। এই নাটক দিয়ে ৯ মাস পর ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালাম। ডাক্তারেরা তো প্রথমে শুটিংয়ের অনুমতি দিতে চাননি। আমাকে একদম না করে দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু অভিনয় আমার শান্তির জায়গা। অনেক দিন কাজ করতে না পেরে আরও হতাশ হয়ে পড়ছিলাম। তাঁদের অনেক অনুরোধ করে শুটিংয়ের অনুমতি নিয়েছি।
ক্যামেরা আর শুটিং ইউনিট তো খুব স্বস্তির বিষয় আমার জন্য। ২০১৩ সালে যখন প্রথম কাজ শুরু করেছিলাম, এদিনও ঠিক সে রকম অনুভূতি হচ্ছিল। নির্মাতা থেকে শুরু করে ইউনিটের সবাই খুব আন্তরিক ছিলেন। সবাই আমার খেয়াল রাখছিলেন, বারবার জানতে চাইছিলেন আমি ঠিক আছি কি না। যেমন আমার পরিবারের সদস্যরা খেয়াল রাখে। মিডিয়ার শিল্পী, সহশিল্পী ও কলাকুশলীরা আমার একটা পরিবার, আমার জীবনের অংশ। এই পরিবারকে খুব মিস করেছি। আল্লাহর প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা যে আবার কাজে ফিরতে পেরেছি।
এই একটি নাটক করতেই তো ডাক্তারকে অনেক অনুরোধ করতে হয়েছে। বারবার তো আর অনুরোধ করা যায় না। কারণ, আমি এখনো শতভাগ সুস্থ নই। তাই আবার কবে নতুন নাটকের শুটিং করব, তা বলতে পারছি না। আবার যদি কোনো গল্প আমাকে টানে, তখন হয়তো করব, ইনশা আল্লাহ। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, মহান আল্লাহ যেন আমাকে দ্রুত সুস্থ করে তোলেন।