নাটকের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। গানটাও ভালো করেন তিনি। আগে নাটক ও ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে দুটি গান করেছেন। এবার ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে হিমির নতুন মৌলিক গান। এ প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন শিহাব আহমেদ।
ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আপনার গাওয়া নতুন গান ‘দুজন দুজনার’ প্রকাশ পেয়েছে। কেমন সাড়া পেলেন?
এই সময়ের শ্রোতারা যে ধরনের বিট বা মিউজিক অ্যারেজমেন্টের গান পছন্দ করেন, এটা সেই ধরনের গান নয়। কিছুটা নব্বইয়ের দশকের ফ্লেভারে ফিল্মি টাইপের গান। তাই অনেকেই বলেছেন, এটা তো পুরোনো দিনের গানের মতো লাগছে! আসলে আমরা পরিকল্পিতভাবেই এমন গান করেছি। সব মিলিয়ে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। আমি তো গানের মানুষ না। গান গাইতে সব সময় ভয়ে থাকি—মানুষ ট্রল না করে দেয় কিংবা যদি পছন্দ না করে! এ গান শ্রোতারা পছন্দ করেছেন, এটা আমার জন্য বড় পাওয়া। তা ছাড়া গানটি নিয়ে আমি সন্তুষ্ট ছিলাম কি না, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্যক্তিগতভাবে পুরো গানের আয়োজন আমার খুব ভালো লেগেছে।
দুজন দুজনার গানের পরিকল্পনা কীভাবে শুরু হয়েছিল?
এটি আমার তৃতীয় গান। তিনটি গান তিন রকমভাবে প্রকাশ পেল। প্রথম গানটি ব্যবহার হয়েছে নাটকে, দ্বিতীয় গানটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে গেয়েছিলাম। দুটোই মৌলিক গান, কিন্তু কোনোটার আলাদা করে মিউজিক ভিডিও নেই। গান শোনার সঙ্গে এখন ভিজ্যুয়াল বিষয়টিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গা থেকে আমার পরিকল্পনা ছিল একটা প্রোপার মিউজিক ভিডিও প্রকাশের। চিন্তা করছিলাম ফ্রি সময়ে এটা নিয়ে ভাবব, কিন্তু কাজের প্রেশারে হয়ে উঠছিল না। কবির বকুল (গীতিকার) ভাই আমার কাজটা সহজ করে দিয়েছেন। তিনি এই গানটি মোটামুটি রেডি করে আমার কাছে পাঠিয়েছিলেন। শোনার পর মনে হলো, গানটি করা যায়।
বেশির ভাগ নাটকে আপনার সঙ্গে নিলয় আলমগীরকে দেখা যায়। তবে এই গানের ভিডিওতে দেখা গেছে তৌসিফ মাহবুবকে। অথচ, নাটকে তাঁর সঙ্গে আপনাকে খুব কম দেখা গেছে। মিউজিক ভিডিওতে তৌসিফের যুক্ত হওয়ার গল্পটা কী?
আপনি যখন অভিনয় করতে যাবেন, সেখানে চরিত্রের ওপর ভিত্তি করে কাস্টিং করা হয়। লুক তেমন মেটার করে না। হিরোইজমের বিষয়টা নাটকের ক্ষেত্রে তেমন প্রয়োজন হয় না, যদি আপনার অভিনয় ভালো হয়। দেখতে কেমন, হাইট কেমন, নায়িকার সঙ্গে মানাচ্ছে কি না—এসব কোনো কিছুই ম্যাটার করে না। কিন্তু মিউজিক ভিডিওর ক্ষেত্রে বিষয়গুলো খুব প্রাসঙ্গিক। তা ছাড়া আমরা ভিন্ন কিছু চাচ্ছিলাম। অনেক আগে নিলয় ভাইয়ের সঙ্গে বেলাল খানের একটি মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছিলাম। তাই আমার গানের ভিডিওতে এমন কাউকে চাচ্ছিলাম, যার সঙ্গে আমার কাজ খুব কম হয়েছে। সব মিলিয়েই এই ভিডিওতে তৌসিফ ভাইকে নেওয়া হয়েছে।
ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে অনেকেই লিখেছেন, নাটকেও আপনাদের আবার একসঙ্গে দেখতে চায়। এ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে?
এমনিতেই আমরা অভিনয়শিল্পীরা কাজের ক্ষেত্রে অনেক হস্তক্ষেপ করি। যেমন, এ ধরনের গল্পে আগে কাজ করেছি, এখানে একটু পরিবর্তন করতে হবে, এই সংলাপটা অন্য রকম হলে ভালো হতো। তবে সহশিল্পী নিয়ে কথা বলা আমি পছন্দ করি না। অনেকে আবার ভাবতে পারেন, তাহলে নিলয় ভাইয়ের সঙ্গে এত কাজে আমাকে দেখা যায় কেন? সত্যি বলতে, তাঁর সঙ্গে করা নাটকগুলো অনেক ভিউ হয়, তাই নির্মাতারা আমাদের নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ দেখান। সহশিল্পী হিসেবে তৌসিফ ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করার বিষয়টা তাই আমার হাতে নেই। আরেকটা ব্যাপার হলো, পর্দায় দুজনের মধ্যে কেমিস্ট্রি বিল্ডআপ হতে অনেক কাজ নিয়মিত করতে হয়। সেই ঝুঁকিটা অনেকে নিতে চান না। সব প্রযোজক দিন শেষে চিন্তা করেন লগ্নিকৃত টাকাটা ফেরত কীভাবে আসবে।
নতুন আর কোনো গানের পরিকল্পনা আছে?
আমি মনে করি, গান নিয়ে পরিকল্পনা সাজানোর মতো অবস্থান এখনো তৈরি হয়নি আমার। কারণ গানে আমি নিয়মিত নই, হওয়ার ইচ্ছাও নেই। তবে গানটা কনটিনিউ করার ইচ্ছা আছে। কারণ আমি গান গাইতে পছন্দ করি, আর ছোটবেলা থেকে অনেকটা সময় দিয়েছি গানের পেছনে। কচি-কাঁচার মেলা ও ছায়ানটে গান শেখা, বাসায় সাধনা মিত্র ও ফেরদৌস আরা ম্যামের কাছে গান শেখা হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে বিশেষ দিনগুলোতে নতুন গান করতে চাই, তবে নিয়মিত না। অভিনয়টাই নিয়মিত করতে চাই। এখন পর্যন্ত এটাই ভাবনা। সামনের কথা বলতে পারছি না। এমনও হতে পারে পরিস্থিতির কারণে পুরোদস্তুর শিল্পী হয়ে গেলাম। কিছুই বলা যায় না।
বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?
নাটকে অভিনয় নিয়েই পুরো ব্যস্ততা। সামনে ঈদ। রোজার প্রতিদিন শুটিং আছে। চাঁদরাত পর্যন্ত শুটিংয়ের জন্য শিডিউল দেওয়া আছে। ঈদে দুই দিন গ্যাপ, এরপর আবার শুটিং শুরু।