সাক্ষাৎকার

হাততালিটা যখন বাংলাদেশের জন্য হয়ে গেল, তখন খুব আনন্দ হচ্ছিল: আজমেরী হক বাঁধন

‘মাস্টার’ নিয়ে নেদারল্যান্ডসের ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যামের ৫৫তম আসরের শুরু থেকেই উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত ও তিন অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম ও নাসির উদ্দিন খান। উৎসবের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও ছিলেন তাঁরা। আজ দেশে ফেরার কথা তাঁদের। অভিনেত্রী বাঁধনের কাছে রটারড্যামের অভিজ্ঞতা শুনলেন শিহাব আহমেদ

রটারড্যামে বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশনে মাস্টার সিনেমাকে সেরা ঘোষণার পর কেমন অনুভূতি হয়েছিল?

সে সময়ের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। ভীষণ ভালো লাগছিল। এটা বাংলাদেশের সিনেমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। সেই প্রাপ্তির একটা অংশ আমি হতে পেরেছি, এটা আমার জন্য অনেক সম্মানের। নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত একজন সৎ মানুষ। সেই সততার মূল্য আল্লাহ তাঁকে দিয়েছেন।

পুরস্কার জেতার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী ছিলেন?

আমাদের মনে হচ্ছিল, একটা অ্যাওয়ার্ড পেলে ভালো লাগত। কিন্তু বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড জিতে যাব, সেটা ভাবিনি। এটা অনেক প্রেসটিজিয়াস অ্যাওয়ার্ড। বিজয়ী হিসেবে ঘোষণার পর আমরা সবাই চিৎকার করে উঠেছিলাম, কী করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কারণ, আমরা খুব ক্যাজুয়ালি গিয়েছিলাম, সবাই পুরস্কার পাবে, আমরা হাততালি দেব—এমনটাই ভেবেছিলাম। সেই হাততালি যখন বাংলাদেশের জন্য হয়ে গেল, সেটা খুব আনন্দের ছিল।

প্রথম প্রদর্শনী থেকেই আপনারা উপস্থিত ছিলেন। সিনেমা দেখে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

বাংলাদেশের যাঁরা নেদারল্যান্ডসে থাকেন, তাঁদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। সাপ্তাহিক কর্মদিবসেও আমাদের সিনেমার প্রদর্শনী ছিল। তারপরেও তাঁরা উৎসবে এসে সিনেমা দেখেছেন। আর এখানকার দর্শকেরা তো অসাধারণ। সিনেমা দেখার সময় কেউ কথা বলে না, মোবাইল দেখে না। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, সবাই মাস্টার সিনেমার গল্পের সঙ্গে কানেক্ট করেছে। একটা ইউনিয়ন পরিষদের গল্প হওয়া সত্ত্বেও এটা ইউনিভার্সেল হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়া অসম্ভব ভালো ছিল। আমার মনে হয়, নির্মাতা সুমিতের এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

মাস্টার সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদেশি প্রযোজনা সংস্থা। বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন?

অবশ্যই এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তার চেয়ে বড় কথা, এটা অনেক সম্মানের। তারা আমাদের সিনেমাটিকে যোগ্য মনে করেছে বলেই যুক্ত হয়েছে।

মাস্টার সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

ভীষণ ভালো। দারুণ একটা টিমের সঙ্গে কাজ করেছি, খুব গোছানো। নির্মাতা হিসেবে সুমিত কতটা ভালো, সেটা বলে বোঝানো কঠিন। আমি প্রচুর মানুষের সঙ্গে কাজ করেছি, অনেক হিপোক্রেটদের সঙ্গেও কাজের অভিজ্ঞতা আছে। সুমিতের মতো এতটা সততার সঙ্গে কাজ করতে কম মানুষকেই দেখেছি। সেদিন সুমিতকে আমি বলছিলাম, বিশাল ভরদ্বাজের পর আমি যদি সত্যিকার ভদ্র নির্মাতা দেখে থাকি, সেটা তুমি। বিশাল ভরদ্বাজকে দেখেছি, যেমন অসাধারণ নির্মাতা, তেমনি অসাধারণ এক মানুষ, সুমিতও তা-ই।

‘রেহানা মরিয়ম নূর’ নিয়ে কান ফেস্টিভ্যালসহ অনেক উৎসবে গিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি কি মনে পড়ছিল?

একেকটা আসলে একেক রকম অভিজ্ঞতা। কান উৎসব আমার জন্য ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা ছিল। এর আগে কখনো ফেস্টিভ্যালে যাইনি। প্রথমবার ফেস্টিভ্যালে যাওয়া অন্য রকম স্মৃতি। তখন অনেক ডিফিকাল্টিস ছিল, এখনো আছে। এবারের ট্রিপেও অনেক ডিফিকাল্টি হয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো আবহাওয়া। এখানে প্রচুর ঠান্ডা। মাইনাস হয়ে যায় তাপমাত্রা। এক কিলোমিটার হেঁটে ফেস্টিভ্যাল ভেন্যুতে যেতে হতো। এটা খুব কষ্টকর ছিল। সবাই বারবার শুকরিয়া আদায় করেছি, আমরা বাংলাদেশের মতো এত সুন্দর এক দেশে জন্মেছি। তবে ফেস্টিভ্যালের সবাই খুব আন্তরিক ছিল। ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টর আমাদের সবার সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন।

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অংশগ্রহণ বাড়ছে। এবার রটারড্যামে ছিল আমাদের তিন সিনেমা। বিষয়টি কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

এটা খুব ইতিবাচক দিক। আমি মনে করি, কোভিডের পর বাংলাদেশের সিনেমা শক্ত একটি জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে। রেহেনা থেকে শুরু করে যেসব সিনেমা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গেছে, সবগুলোই বাংলাদেশের সিনেমাকে সমৃদ্ধ করছে। আর এটা খুব সম্মানের বিষয়, এবার রটারড্যামে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা ছিল। মনে হয়েছে, ফেস্টিভ্যালটা আমাদের। একই সঙ্গে আমরা তিনটি টিম নেদারল্যান্ডসে এসেছি। সবার সঙ্গে সবার দেখা হচ্ছে, সিনেমা নিয়ে কথা হচ্ছে।

উৎসবের এই জার্নি কেমন উপভোগ করছেন?

পুরো জার্নিটাই আমরা ভীষণ উপভোগ করছি। স্পেশালি আমি, মম আর নাসির ভাই। মমর সঙ্গে আমার ২০ বছরের সম্পর্ক। লাক্স প্রতিযোগিতা থেকে আমাদের পরিচয়। আমরা কোথাও গেলে রুম শেয়ার করি। আমাদের অনেক বিষয়ে অনেক সিমিলারিটিও আছে। আর নাসির ভাইয়ের কথা কী বলব! তিনি বড় ভাইয়ের মতো সব সময় আমাদের টেক কেয়ার করছেন। যেকোনো জায়গায় আমরা তিনজন একসঙ্গে। তিনজন মিলে বেলজিয়াম গিয়েছিলাম ঘুরতে।

মাস্টার ছাড়াও আপনার একাধিক সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় আছে। সেগুলো নিয়ে কিছু বলুন।

রোজার ঈদে মুক্তি পাবে তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। অসাধারণ একটি সিনেমা হয়েছে। আমার ধারণা, সাফল্য ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে ‘উৎসব’কে ছাড়িয়ে যাবে বনলতা এক্সপ্রেস। আর রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ এ বছর হয়তো মুক্তি পাবে না, বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হবে।

১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। এবারের নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

একটি সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হোক। একটি নির্বাচিত সরকার আমাদের খুব দরকার। তারা বেটার কাজ করতে পারবে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক একটি সরকার গঠিত হবে। জনগণ যাদের চাইবে, তারা সরকার গঠন করবে। বাংলাদেশ যে অস্থিতিশীল অবস্থায় আছে, সেই পরিস্থিতি থেকে সবাই মুক্ত হোক।

জন্মদিনে রকস্টার লুকে হাজির হলেন শাকিব খান

সিনেমার প্রচারে ঢাকায় এলেন শাকিবের নায়িকা জ্যোতির্ময়ী

ঢালিউডের নয়া ভিলেন সোহেল মণ্ডল

প্রিন্সের শো নিয়ে কাটছে না জটিলতা

সমুদ্রসৈকতে আজ শুরু হচ্ছে সিনেমার উৎসব

ঈদে ঢালিউড সিনেমায় অভিষেক হলো যাঁদের

সংসার ভাঙল অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদের

জটিলতা কাটিয়ে সিনেপ্লেক্সে প্রিন্সের প্রদর্শনী চালু, নতুন সিনেমার শুটিং শুরু করলেন শাকিব খান

দর্শকের সঙ্গে ‘রাক্ষস’ দেখে সুস্মিতা বললেন, ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলাম

‘প্রেশার কুকার’ বানিয়ে নিজেকে সার্থক বলছেন নির্মাতা রাফী