বিশ্ব সিনেমা
ঐতিহাসিক ও মহাকাব্যিক গল্পের ক্ষেত্রে হলিউড পরিচালকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় লোকেশন মরক্কোর ওয়ারজাজাত শহর। রিডলি স্কটের সাম্প্রতিক সৃষ্টি ‘গ্ল্যাডিয়েটর ২’সহ অসংখ্য ব্লকবাস্টার সিনেমার সেট পড়েছে সেখানে। এবার সেই ওয়ারজাজাতকে কেন্দ্র করে ফিল্ম সিটি নির্মাণের বড় উদ্যোগ নিয়েছে মরক্কো সরকার। সেখানে তৈরি হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের এক বিশাল ফিল্ম প্রোডাকশন হাব, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল সিনেমা সিটি’।
মরক্কোর যুব, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্টের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে গত ২৭ জুন। ওয়ারজাজাত শহরের মূল প্রবেশদ্বারে ২৪ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে এই সুবিশাল সিনেমা সিটি। মরক্কো সরকার এই প্রকল্পে ২৪০ মিলিয়ন মরোক্কান দিরহাম বিনিয়োগ করছে।
অ্যাটলাস পর্বতমালা ও সাহারা মরুভূমির মধ্যবর্তী এই সিনেমা সিটি মূলত একটি ‘ওয়ান-স্টপ-শপ’ হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ একটি সিনেমা বা সিরিজের প্রি-প্রোডাকশন থেকে শুরু করে শুটিং, ভিএফএক্স এবং মুক্তি পর্যন্ত যা যা প্রয়োজন, তার সবই মিলবে এক ছাদের নিচে।
এই সিনেমা সিটিতে থাকবে বিশ্বমানের একাধিক সাউন্ড স্টেজ, এডিটিং ও স্ক্রিনিং রুম। এ ছাড়া চলচ্চিত্র নির্মাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক ইমারসিভ প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য রাখা হচ্ছে আলাদা ডেডিকেটেড স্পেস। স্থানীয় কলাকুশলী ও নতুন প্রতিভার ব্যক্তিদের বিভিন্ন কারিগরি ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে থাকবে বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং দেশি-বিদেশি শুটিং টিমের আবাসের জন্য আধুনিক হোটেল সুবিধা।
বর্তমানে হলিউডে সিনেমা নির্মাণের খরচ দিন দিন বাড়তে থাকায় সেখানকার বড় বড় স্টুডিও এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো কম খরচে উন্নত সুবিধার খোঁজে মরক্কোর মতো দেশের দিকে ঝুঁকছে। মরক্কো সরকারও এই সুযোগ লুফে নিতে আন্তর্জাতিক নির্মাতাদের জন্য ৩০ শতাংশ ক্যাশ রিবেট, সম্পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি, শুটিংয়ের যন্ত্রপাতি ভাড়ার ওপর ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট এবং হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে।
গত কয়েক বছরে ওয়ারজাজাত শহরে ইন্ডিয়ানা জোন্স ফ্র্যাঞ্চাইজির ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য ডায়াল অব ডেসটিনি’, নিকোলাস কেজের ‘লর্ড অব ওয়ার’-এর সিকুয়েল, ফরাসি ঐতিহাসিক এপিক ‘ডি গল: রেজিস্ট্যান্স’সহ অনেক আলোচিত সিনেমার শুটিং হয়েছে। এর বাইরেও বিশ্বখ্যাত সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এর কিছু অংশ এবং মার্টিন স্করসেসির ‘দ্য লাস্ট টেম্পটেশন অব ক্রাইস্ট’-এর মতো ইতিহাস কাঁপানো প্রজেক্টের সেটও বসেছিল সেখানে।
মরক্কো সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৫ সালে মরক্কোয় শুটিং হওয়া বিদেশি প্রজেক্টগুলো থেকে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে। নতুন সিনেমা সিটি চালু হলে এই বিনিয়োগের পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।