‘প্রিন্স’ সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনীর একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে শাকিব খানকে ঘিরে চলছে সমালোচনা। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শাকিব খান তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা টালিউড অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুর কোমরে হাত দিচ্ছিলেন বারবার। অনেকের ধারণা, শাকিবের আচরণে জ্যোতির্ময়ী অস্বস্তিবোধ করছিলেন। এবার এই বিতর্ক নিয়ে কথা বললেন জ্যোতির্ময়ী। সংবাদমাধ্যমে তিনি জানান, মিডিয়ার সামনে যেভাবে বিষয়টি অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে, সেটা খুবই হতাশাজনক।
জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু বলেন, ‘আমি খুব হতাশ। এই বিষয়টিকে এমনভাবে ছড়ানো হচ্ছে। ওখানে প্রচুর ক্রাউড ছিল। আমরা ঠিকমতো দাঁড়ানোর জায়গা পাচ্ছিলাম না। সে সময় মিডিয়া থেকে বলা হয় তিনজনকে একসঙ্গে ছবি তুলতে হবে। সেই মুহূর্তে শাকিব খান আমাদের গার্ড করছিলেন, প্রটেক্ট করার চেষ্টা করছিলেন। এই বিষয়টি মিডিয়ার সামনে যেভাবে অতিরঞ্জিতভাবে বলা হচ্ছে, সেটা খুব হতাশ করার মতো।’
জ্যোতির্ময়ী আরও বলেন, ‘কারও যদি ইনটেনশনালি এমনটি করার ইচ্ছা থাকত, তাহলে সে ৩০০টি ক্যামেরার সামনে এমন করবে? আমার তো মনে হয় না পৃথিবীতে এমন কোনো বোকা মানুষ আছে যে এতগুলো ক্যামেরার সামনে এটা করবে।’
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে শাকিব খানের বিরুদ্ধে ‘ব্যাড টাচ’-এর অভিযোগও তুলেছেন। বিষয়টি নজরে এসেছে জ্যোতির্ময়ীর। অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি দেখেছি, অনেকে ব্যাড টাচের কথাও বলছেন। আচ্ছা, আমি কি বাচ্চা? আমাকে যদি ব্যাড টাচ করা হতো, আমি কি প্রতিবাদ করতাম না? যারা সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ, তারা বুঝতে পারবে ওটা কী টাচ ছিল। শুধু আমাদের প্রোটেক্ট করার চেষ্টা করেছেন উনি। শুধু আমার নয়, তাসনিয়া ফারিণের কোমরেও হাত ছিল। আমারটা দেখা গেছে। এটা কখনোই ব্যাড টাচ কিংবা খারাপ ইনটেনশন ছিল না।’
অস্বস্তির প্রসঙ্গে জ্যোতির্ময়ীর উত্তর, ‘অস্বস্তির তো প্রশ্নই আসে না। সেখানে এত ভিড় ছিল যে দাঁড়ানোই কঠিন ছিল। কো-আর্টিস্ট হিসেবে একজন আরেকজনকে প্রোটেক্ট করা স্বাভাবিক।’
ভিউ ও নেতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করা হচ্ছে বলে জানান জ্যোতির্ময়ী। তিনি বলেন, ‘যারা এটা করছে, তারা কিন্তু প্রত্যেকে সেখানে উপস্থিত ছিল। তারা নিজেরা দেখেছে, সেখানে কী পরিস্থিতি ছিল। তারপরেও বাজেভাবে প্রেজেন্ট করা হচ্ছে। এগুলো তো শিল্পীদের জন্য নরমাল বিষয়। আমার মনে হয় ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু ভিও ও নেতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এটা করা হচ্ছে। তারা জেনেবুঝেই কাজটি করছে। কাজেই তাদের তো আর আটকানো যাবে না, এটা আমার হাতে নেই। শুধু এটুকু বলতে পারি, এগুলো করবেন না দয়া করে। এত মসলাদার গল্পের দরকার নেই জীবনে, একটু নিজেদের মতো করে সবাইকে থাকতে দিন।’