হোম > বিনোদন > সিনেমা

বাংলাদেশে কাজ করার জন্য দরখাস্ত দিয়েছি: অনির্বাণ ভট্টাচার্য

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য। ছবি: সংগৃহীত

২০০৪ সালে মেদিনীপুর থেকে কলকাতায় পাড়ি জমিয়েছিলেন এক সাধারণ তরুণ। উদ্দেশ্য ছিল অভিনয়। দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে এসে সেই অনির্বাণ ভট্টাচার্য আজ বাংলা থিয়েটার ও সিনেমার অন্যতম এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তবে কেবল অভিনয়ের অভিনবত্বেই নয়, সমাজ, রাজনীতি ও ভাষা নিয়ে স্পষ্ট এবং আপসহীন মন্তব্যের জন্যও তিনি বারবার চর্চায় আসেন। সম্প্রতি বিবিসি বাংলা নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অতীত, বাংলা ভাষার বর্তমান সংকট, ওপার বাংলায় কাজ করার তীব্র ইচ্ছা এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য।

সাক্ষাৎকারে অনির্বাণের কথায় বারবার উঠে এসেছে ভাষা ও দেশপ্রেমের প্রসঙ্গ। তাঁর মতে, বর্তমানে বাঙালি সমাজের একাংশের মধ্যে ভাষা নিয়ে এক ধরনের হীনমন্যতায় ভোগার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। নিজের মাতৃভাষাকে প্রকাশ করতে গিয়েও অনেকে কুণ্ঠাবোধ করছেন।

দেশপ্রেমের মেকি ধারণাকে খণ্ডন করতে গিয়ে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত উপন্যাস ‘ঘরে বাইরে’ থেকে একটি উদ্ধৃতি টেনে আনেন। অনির্বাণ বলেন, যাদের কেবল তীব্র সম্মোহন বা উত্তেজনার প্রয়োজন হয়, তাদের ভালোবাসা আসলে দেশের প্রতি নয়, বরং এক ধরনের অন্ধ নেশার প্রতি। প্রকৃত দেশপ্রেম মানুষকে শ্রদ্ধা করতে শেখায়, উন্মাদনা ছড়াতে নয়।

২০০৪ সালে যখন অনির্বাণ মেদিনীপুর থেকে কলকাতায় এসেছিলেন, তখনকার সময়ের সঙ্গে বর্তমানের এক বিশাল ফারাক দেখতে পান তিনি। তাঁর মতে, তখনকার সমাজে আজকের মতো তথ্য ও মতামতের এতো উপচে পড়া ভিড় বা আধিক্য ছিল না। সময়টা অনেক শান্ত ও সরল ছিল।

ছোটবেলায় আর পাঁচটা বাঙালি ছেলের মতো ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন অনির্বাণ। তবে নিজেই স্বীকার করেছেন, মাঠে কোনো ‘এক্সট্রা-অর্ডিনারি’ বা অসাধারণ দক্ষতা তাঁর ছিল না। ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ৯০-এর দশকের পরবর্তী সময়ে বাঙালিদের মধ্যে এক ধরনের পণ্য ও লোভের তীব্র আকাঙ্ক্ষা জন্ম নিতে শুরু করে। বন্ধুদের দেখাদেখি বাইক কেনার হিড়িক এবং দেখনদারির উদাহরণ দিয়ে তিনি এই সামাজিক বদলটিকে ব্যাখ্যা করেন।

ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে অত্যন্ত বাস্তববাদী অনির্বাণ। তিনি মনে করেন, পারিবারিকভাবেই তাঁদের মধ্যে বড় কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষার কিছুটা খামতি রয়েছে। নিজের শিল্পসত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি একটি রূপক ব্যবহার করেন, আমি নিজেকে একজন ‘ট্রেকার’ বা অভিযাত্রী হিসেবেই দেখতে পছন্দ করি। কোনো ‘সামিট’ বা পর্বতের চূড়ায় পৌঁছানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য আমার কোনোদিনই ছিল না।

অভিনয়, গান বা ছবি পরিচালনা—যা-ই তিনি করেছেন, তা কোনো বাণিজ্যিক ইঁদুর দৌড়ে জেতার জন্য নয়, বরং কেবল ভালোবাসার টানেই করেছেন। বাংলা ভাষা এবং থিয়েটারকেই তিনি নিজের মনের ভাব প্রকাশের একমাত্র বাহন বলে মনে করেন।

বর্তমানে বাংলা ভাষার সঙ্গে হিন্দি বা ইংরেজির যে অদ্ভুত খিচুড়ি মিশ্রণ ঘটছে, তা নিয়ে অনির্বাণ ব্যক্তিগতভাবে বিচলিত না হলেও এর পেছনের কারণগুলো নিয়ে বেশ চিন্তিত। সরকারি স্কুলের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং সমাজব্যবস্থায় ইংরেজি ও হিন্দির ক্রমবর্ধমান আধিপত্যকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।

তবে শহুরে বুদ্ধিজীবী সমাজের ওপর খুব একটা ভরসা রাখতে পারছেন না এই শিল্পী। তাঁর স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ: ‘শহরকেন্দ্রিক তথাকথিত বুদ্ধিজীবী সমাজের চেয়ে গ্রামীণ প্রান্তিক বা নিম্নবিত্ত মানুষেরাই বাংলা ভাষাকে অনেক বেশি আন্তরিকতার সাথে আঁকড়ে ধরে আছেন এবং ভাষাটিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।’

এমনকি রাজনীতির আঙিনাতেও যেভাবে ‘কার্যকর্তা’ বা ‘মন্ডল’-এর মতো হিন্দি শব্দের অবাধ প্রবেশ ঘটছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশী শিল্পীদের কাজের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন অনির্বাণ। চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম এবং জয়া আহসানের মতো অভিনেতাদের কাজের গুণমুগ্ধ অনুরাগী তিনি। অনির্বাণ জানান, বাংলাদেশের ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর ঠিক আগেই তিনি এ দেশ থেকে একটি কাজের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। এখানে কাজ করার জন্য তাঁর প্রবল আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ নির্মাতা নুহাশ হুমায়ুন এবং অভিনেত্রী নিপুনের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। অনির্বাণ বলেন, ‘বাংলাদেশে কাজ করার জন্য দরখাস্ত দিয়েছি।’

টলিউড বা টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তাঁর মূল কাজের জায়গা হলেও, ভালো কাজ এবং সৃজনশীল পরিচালকদের টানেই তিনি বারবার বাংলাদেশে আসতে চান।

বর্তমানে থিয়েটারের প্রতি তরুণ প্রজন্মের অনীহা রয়েছে—এমন ধারণার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন অনির্বাণ। তবে তিনি মনে করেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান ক্রমশ সংকুচিত হয়ে যাওয়ার কারণে থিয়েটার জগতের সার্বিক ক্ষতি হচ্ছে। টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে শাসক দলের বা রাজনীতির যে গভীর মাখামাখি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি বেশ সচেতন।

ব্যক্তিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় না গেলেও নিজের নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে সবসময়ই সরব অনির্বাণ। অতীতে এনআরসি ইস্যুতে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ‘কাগজ দেখাব না’ স্লোগানে শামিল হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি অনির্বাণের নতুন গানের ব্যান্ড ‘হোলিগানিজম’ ইদানীং তরুণ প্রজন্মের কাছে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাঁদের জনপ্রিয় গান ‘পৃথিবীটা ভালো লোকেদের নয়’ প্রসঙ্গে অনির্বাণ বলেন, এই গানটি আসলে বর্তমান সমাজের বেকার যুব সম্প্রদায়ের মনের গভীর হতাশা, মানসিক অবস্থা এবং অপ্রাপ্তির এক বাস্তব প্রতিফলন।

সিনেমার শুটিংয়ে বিশাল আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা সৌদি আরবের

চেহারা পরিবর্তন নিয়ে লুকোচুরি পছন্দ নয় তমা মির্জার

আইনি জটিলতার মধ্যেই ঈদে ‘বনলতা সেন’ মুক্তির ঘোষণা

যুদ্ধের বিপক্ষে নির্মাতা আসগর ফারহাদির সাহসী উচ্চারণ

নতুন ব্যাটম্যানে রহস্যময় চরিত্রে স্কারলেট

জেবার অভিযোগে আটকে গেল ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’

১৬ মে ঢাকায় জাতীয় চলচ্চিত্র সংসদ সম্মেলন

ঘরে বসে দেখা যাবে আফরান নিশোর ‘দম’

আমার সিনেমাগুলো দায়সারাভাবে মুক্তি পাচ্ছে: জিয়াউল রোশান

নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে শুরু হচ্ছে কান চলচ্চিত্র উৎসব