আবারও বড়সড় আইনি জটিলতায় জড়ালেন বলিউডের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ ও ‘কুরুচিকর’ মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে গুজরাটের সুরাত আদালত জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
আদালতের পক্ষ থেকে একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও তিনি হাজিরা না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা আইনজীবী কমলেশ রাভাল সুরাত আদালতে অনুরাগ কাশ্যপের বিরুদ্ধে এই মামলাটি করেন। তাঁর অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা অনুরাগের মন্তব্যটি সরাসরি গোটা ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে আঘাত ও অপমান করেছে। এই ধরনের মন্তব্য সমাজে বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এবং বিদ্বেষ ছড়াতে পারে।
অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১৯৬,৩৫২ এবং ৩৫৩ (২) ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
আইনি জটিলতার সূত্রপাত ঘটে মূলত ২০২৫ সালে সমাজসংস্কারক জ্যোতিরাও ফুলের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ফুলে’-র ফার্স্ট লুক বা ট্রেলার প্রকাশের পর। সে সময় ‘অল ইন্ডিয়া ব্রাহ্মণ সমাজ’ ছবিটির কিছু বিষয় নিয়ে তীব্র আপত্তি ও বিরোধিতা প্রকাশ করে।
এই বিরোধিতার পরিপ্রেক্ষিতে চলচ্চিত্র নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পাল্টা মন্তব্য করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে করা অনুরাগের সেই মন্তব্যটি অত্যন্ত কুরুচিকর ও উসকানিমূলক ছিল। পোস্টটি ভাইরাল হতেই নেট দুনিয়ায় তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে।
এটিই প্রথম নয়, এর আগেও গত বছর অনুরাগের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন আশুতোষ জে দুবে নামের এক আইনজীবী। তিনি মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসকে ট্যাগ করে মুম্বাই পুলিশের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।
সে সময় আশুতোষ তাঁর পোস্টে লিখেছিলেন, ‘ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই মন্তব্যে অত্যন্ত মর্মাহত। এটি স্পষ্টতই জাতিবিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ এবং সমাজে হিংসা ছড়ানোর একটি চেষ্টা। আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।’
তবে সেই অভিযোগে মুম্বাই পুলিশ কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ না নেওয়ায়, পরবর্তীতে নতুন করে গুজরাটের সুরাত আদালতে মামলা করেন কমলেশ রাভাল। আদালতের একের পর এক সমন উপেক্ষা করায় এবার সরাসরি জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মুখোমুখি হতে হলো পরিচালককে।