প্রখ্যাত বাউলশিল্পী সুনীল কর্মকার মারা গেছেন। আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার বান্দনাল গ্রামে সুনীল কর্মকার জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র সাত বছর বয়সে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে চোখের আলো হারান। ওই বয়স থেকেই গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। বাবা দীনেশ কর্মকার নিয়ে যান বাউলগায়ক ইসরাইল মিয়ার কাছে। সেখানে সংগীতের তালিমের সঙ্গে সঙ্গে ওস্তাদের কাছে দোতারা বাদনেও পারদর্শী হয়ে ওঠেন। ১৫ বছর বয়সে বেহালা, দোতারা, তবলা, হারমোনিয়াম বাজাতে শিখে পুরোপুরি পেশাদার শিল্পী হয়ে যান।
সুনীল কর্মকার তাঁর ভরাট ও আবেগময় কণ্ঠে যেকোনো আসর একাই মাতিয়ে তুলতেন। তিনি গান ছাড়াও বেহালা, দোতারা, তবলা, হারমোনিয়ামসহ একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারদর্শী ছিলেন। বিখ্যাত বাউলশিল্পী ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর গান শুনেই গানের জগতে নিজেকে সঁপে দেন সুনীল কর্মকার।
ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে সুর করে কণ্ঠও দিয়েছেন সুনীল কর্মকার। এর মধ্যে বহু জনপ্রিয় ও খ্যাতনামা গান রয়েছে। নিজের লেখা গানের সংখ্যা দেড় শ থেকে দুই শর কাছাকাছি। টিভি চ্যানেল, যাত্রা মঞ্চে, সিনেমায় পেশাদার শিল্পী হিসেবে গান গেয়েছেন তিনি।
দৃষ্টহীন এই শিল্পী লোকসংগীতে অবদানের জন্য ২০২২ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রদত্ত শিল্পকলা পদক লাভ করেন।