রাজধানীর তিনটি ভেন্যুতে এ মাসে চারটি প্রদর্শনী নিয়ে ফিরছে নিনাদ নাট্যদলের প্রথম প্রযোজনা ‘দ্য হিউম্যান ভয়েস’। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার সহযোগিতায় নির্মিত মঞ্চনাটকটি প্রথম মঞ্চে আসে গত অক্টোবরে। ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তন ও মিরপুরের বিবলিওন বুকস্টোর ক্যাফেতে নাটকটির মোট সাতটি প্রদর্শনী হয়।
আজ রোববার ও আগামীকাল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হল, ২৩ জানুয়ারি বনানীর সাতোরি একাডেমি অব আর্টস এবং ৩০ জানুয়ারি তেজগাঁওয়ের আলোকিতে অবস্থিত নেইবারহুড আর্ট স্পেসে রয়েছে দ্য হিউম্যান ভয়েস নাটকের চারটি প্রদর্শনী। প্রতিটি প্রদর্শনী শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়।
ফরাসি নাট্যকার জঁ কক্তো রচিত দ্য হিউম্যান ভয়েস নাটকটি বাংলায় অনুবাদ ও রূপান্তর করেছেন প্রজ্ঞা তাসনুভা রুবাইয়াৎ। নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। একক অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী সাদিকা স্বর্ণা। মঞ্চে উপস্থিত একটিমাত্র চরিত্র, একটি টেলিফোন ও একটি ঘর—এই সংযত বিন্যাসেই কক্তো মঞ্চনাটকের ভাষাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, উন্মোচন করেছেন মানুষের গভীরতম ভঙ্গুরতা ও অসহায়তাকে।
১৯৩০ সালে প্রথম মঞ্চস্থ হওয়া একাঙ্কিকা ও একক চরিত্রের এই নাটকটি একজন নারীর গল্প, যে তার প্রেমিকের সঙ্গে শেষবারের মতো টেলিফোনে কথা বলছে। প্রেমিকটি পরদিনই অন্য একজনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছে। তাই প্রেমিকের সঙ্গে এই শেষ টেলিফোন আলাপে ফুটে ওঠে নারীটির হৃদয়ভঙ্গ ও পরিত্যক্ত হওয়ার অস্ফুট আর্তনাদ এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার বেদনা সহ্য করতে না পেরে গভীর মানসিক অস্থিরতার চিত্ররূপ।
দ্য হিউম্যান ভয়েস নাটকের নির্দেশক প্রজ্ঞা তাসনুভা রুবাইয়াৎ বলেন, ‘এখন নাটককেই দর্শকের কাছে যেতে হবে। দর্শককে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় এসে নাটক দেখার জন্য বেঁধে রাখলে মঞ্চনাটকের বিস্তার ঘটবে না। বিভিন্ন বাস্তবতার কারণেই থিয়েটার চর্চা এখন একটা ছোট সার্কেলের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। নাটক নিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছাতে না পারলে কয়েক দিন পরে দর্শকেরও সংকট হবে। সেই ভাবনা থেকেই আমরা দ্য হিউম্যান ভয়েস নাটকটি এমনভাবে ডিজাইন করেছি, যাতে এটি অডিটরিয়ামে যেমন মঞ্চস্থ করা যায়, তেমনি গ্যালারি বা বিকল্প পরিসরেও পরিবেশন করা সম্ভব হয়।’