বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) কেন্দ্রীয় মাঠ যেন এক দিনের জন্য রূপ নেয় শিল্প ও শিক্ষার মিলনমেলায়। চাকরি, ইন্টার্নশিপ, করপোরেট অভিজ্ঞতা আর ক্যারিয়ার পরিকল্পনার আলোচনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। ২৩ এপ্রিল দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো সেন্ট্রোর পরিবেশনায় আইটিইটি—বুটেক্স ক্যারিয়ার ফেয়ার ২০২৬। বুটেক্স ক্যারিয়ার ক্লাবের আয়োজনে এবং ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টসের (আইটিইটি) সহযোগিতায় আয়োজিত এই মেলার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থী ও শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন।
সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যারিয়ার ফেয়ারের উদ্বোধন করেন। এর পর থেকে হাতে সিভি নিয়ে শিক্ষার্থীরা মুখর করে তোলেন স্টলগুলো। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রায় ২৭টি টেক্সটাইল ও সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয় এই আয়োজনে। এগুলোর মধ্যে ছিল সেন্ট্রো টেক্স, সুইস ক্রোমা, ব্যাবিলন গ্রুপ, হা-মীম গ্রুপ, অকো-টেক্স গ্রুপ, ঊর্মি গ্রুপ, পূর্বাণী গ্রুপ, এপিলিয়ন, এ কে এইচ গ্রুপ, প্যাসিফিক জিনস, চরকা টেক্সটাইলস লিমিটেড, বিটপী গ্রুপ, সামিট ডাই কেমিক্যালস লিমিটেড, ফ্লোরেন্স গ্রুপ, ইউনিক কালার কেমিক্যালস, বেন-টেক কেমিক্যালসসহ অনেকে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সরাসরি অন-স্পট ইন্টারভিউর মধ্য দিয়ে প্রার্থীদের মূল্যায়নও করে।
মেলার অন্যতম অংশ ছিল প্যানেল ডিসকাশন। বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত এই ডিসকাশনে আলোচক ছিলেন টেক্সটাইল টুডে ইনোভেশন হাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও তারেক আমিন, সুইস ক্রোমা বাংলাদেশ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শাহেদ সিকদার, ফ্যাশন পাওয়ার গ্রুপের মার্চেন্ডাইজিং বিভাগের এজিএম মো. নূর হোসাইন, ব্যাবিলন গ্রুপের অর্গানাইজেশনাল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান মাহমুদুল হাসান ভূঁইয়া এবং সেন্ট্রোর মার্চেন্ডাইজিং বিভাগের জিএম মো. জাফর ইকবাল। তবে আলোচনার বিষয় ছিল ‘ভূরাজনীতি কীভাবে বস্ত্রশিল্পকে বদলে দিচ্ছে এবং নতুন স্নাতকদের জন্য নতুন পদক্ষেপ’।
দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় ওয়ার্কশপ সেশন। এতে সেন্ট্রো গ্রুপের এজিএম জাইদুর রহমান শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন এবং শিল্প খাতের বাস্তব চাহিদা তুলে ধরেন।
সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইটিইটির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী এহসানুল করিম কায়সার, সদস্যসচিব প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন এবং র্যাডিক্যাল ডিজাইন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী এ কে এম মহসিন আহমেদ।
সমাপনী বক্তব্যে আইটিইটির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী এহসানুল করিম কায়সার বলেন, ‘গত বছরের আয়োজনের চেয়ে কোনো অংশে কম হয়েছে বলে মনে হয়নি। এই গরমে এত অল্প সময়ের মাঝে এত বড় আয়োজন সম্পন্ন করায় ক্যারিয়ার ক্লাবের সকলকে ধন্যবাদ জানাই।’
আইটিইটির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্যসচিব প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন বলেন, ‘ক্যারিয়ার ফেয়ার সরাসরি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের উপকারে আসবে। এক দিনে ২৭টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ সত্যিই বড় এক অর্জন।’
অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘ক্যারিয়ার ফেয়ার প্রতিবছর যেন অনুষ্ঠিত হয় এবং সে জন্য আরও বড় পরিসরে আয়োজনের ব্যবস্থা করা হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা অনুযায়ী উন্নত বেতনে চাকরির সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানাই।’
বুটেক্স ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি মো. তানবীরুল ইসলাম জীয়ান বলেন, ‘এই আয়োজন স্বপ্নের মতো ছিল। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আমরা সফলভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে এটি আরও বড় পরিসরে আয়োজনই আমাদের লক্ষ্য।’
সাধারণ সম্পাদক মো. শাহরিয়ার আলম পাভেল বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ এবং ক্যারিয়ার প্রস্তুতি উন্নত করা। এবারের ফেয়ারে সিভি রাইটিং, এইচআর পারস্পেকটিভ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন সেশন যুক্ত করা ছিল বিশেষ দিক।’
দিন শেষে ক্যাম্পাসে তারা রেখে যায় এক নতুন উদ্দীপনা—শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে বাস্তব কর্মজীবনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়।