জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরতে পেতে হাইকোর্টে রিট করছেন অমর্ত্য রায় জন।
আজ সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অমর্ত্য রায় এই রিট জমা দেবেন বলে জানা গেছে।
এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন স্থগিত চেয়ে অমর্ত্য রায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন— গণমাধ্যমে আসা এমন খবর ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন অমর্ত্য রায়।
তিনি বলেন, তিনি রিট করেননি। তবে রিট করলে প্রার্থিতা ফেরত পেতে রিট করবেন। তবে এখনো রিট ফাইল করেননি।
গত শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে নির্বাচন কমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে অমর্ত্য রায়ের প্রার্থিতা বাতিল করে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু), হল সংসদ নির্বাচনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় ভোটার ও প্রার্থী তালিকা থেকে অমর্ত্য রায় জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি সম্প্রীতির ঐক্য প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী।
এদিকে এই রিট আবেদনের মধ্যেই জাকসু নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সিনেট হলে এক সংবাদ সম্মেলনে জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. এ কে এম রশিদুল আলম এই তথ্য জানান। এ সময় কমিশনের অপর সদস্য অধ্যাপক মাফরুহি সাত্তার ও অধ্যাপক ড. খ. লুৎফুল এলাহী উপস্থিত ছিলেন।
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা: কে কোন পদে
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পদে মোট ১৭৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জন সহসভাপতি (ভিপি) এবং ৯ জন সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদের জন্য লড়বেন।
অন্যান্য পদে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা:
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) : ৬ জন
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) : ১০ জন
শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক: ৯ জন
পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সম্পাদক: ৬ জন
সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক: ৮ জন
সাংস্কৃতিক সম্পাদক: ৮ জন
সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক: ৮ জন
নাট্য সম্পাদক: ৫ জন
ক্রীড়া সম্পাদক: ৩ জন
সহক্রীড়া সম্পাদক (নারী ও পুরুষ) : ৬ জন করে
তথ্যপ্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক: ৭ জন
সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক: ৮ জন
সহসমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক (নারী ও পুরুষ) : ৭ জন
স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা সম্পাদক: ৭ জন
পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক: ৭ জন
এ ছাড়া, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ৩টি নির্বাহী সদস্য পদের জন্য ১৬ জন এবং পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য ৩টি নির্বাহী সদস্য পদের জন্য ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই নির্বাচনে মোট ৪৬ জন নারী প্রার্থী বিভিন্ন পদে লড়ছেন, যার মধ্যে জিএস পদের জন্য দুজন প্রার্থী রয়েছেন।
নির্বাচনের সময়সূচি
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া প্রচারণা চলবে ৯ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত। এরপর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
রিট আবেদনের ফলে নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে হবে কি না, তা নিয়ে এখন সংশয় তৈরি হয়েছে। সকলের দৃষ্টি এখন হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের দিকে।