মো. শাকিল আহাম্মেদ সরকারি তিতুমীর কলেজের বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রক্তদানের মধ্য দিয়ে। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়েই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন মানবতার পথে।
২০১৯ সালে ঢাকা মেডিকেলে প্রথমবার রক্ত দেন। সেই অভিজ্ঞতায় তিনি উপলব্ধি করেন, অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর দায়িত্ব। এরপর থেকে শুধু নিজে রক্তদানই নয়, অন্যের জন্য রক্ত সংগ্রহও শুরু করেন। বন্ধুর পরামর্শে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ব্ল্যাড ফাইটার ফর হিউম্যানিটি’। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি অনেক রোগীকে সাহায্য করেছে। করোনাকালে তারা এক হাজারের বেশি রক্ত ও প্লাটিলেট সরবরাহ করে এবং ডেঙ্গুর সময়ও বহু রোগীকে সাহায্য করেছে।
এখন পর্যন্ত শাকিল আহাম্মেদ নিজেই ৭২ বার রক্ত দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ বার হোল ব্লাড। তাঁর রক্তের গ্রুপ ও পজিটিভ। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে গেলে বোঝা যায়, আল্লাহ আমাদের কত নিয়ামতের মধ্যে রেখেছেন। অসহায় রোগীদের দেখে আমি সব সময় রক্তদান ও রক্ত ম্যানেজ করতে অনুপ্রাণিত হয়েছি।’
শুধু রক্তদানেই নয়, তিনি নিজস্ব অর্থায়নে ২০টির বেশি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্প পরিচালনা করেছেন। তাঁর সংগঠন এত দিনে ৭৫টির বেশি বিনা মূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি তিনি ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বড় স্বেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন ‘বাঁধন’-এর বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ মেয়াদে তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক।
রক্তদানে সবচেয়ে আনন্দঘন মুহূর্ত ছিল পরীক্ষার আগের রাতে প্লাটিলেট দান করে একজন রোগীর জীবন রক্ষা করা। এক মাস পর সেই রোগী এবং তার পরিবার এসে কৃতজ্ঞতা জানায়।
শাকিল মনে করেন, সমাজে এখনো রক্তদান নিয়ে ভুল ধারণা আছে। অনেকে ভাবেন, রক্ত দিলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়। অথচ সঠিক নিয়মে রক্ত দান করলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না; বরং উপকার হয়।