প্রাণচঞ্চল পরিবেশ, হলভিত্তিক তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর আবহে শেষ হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কেন্দ্রীয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) আয়োজিত এবং শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই আয়োজন ক্যাম্পাসজুড়ে সৃষ্টি করে এক বর্ণিল ক্রীড়া উৎসবের আমেজ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি ছাত্র হল এবং ৫টি ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা প্রথমে নিজ নিজ হলে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। সেখান থেকে সেরা পারফরমাররা জায়গা করে নেন কেন্দ্রীয় আসরে। এবারের ছাত্র হলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল চোখে পড়ার মতো। পয়েন্টের হিসাব বদলেছে বারবার। শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিক সাফল্য, দলগত সমন্বয় ও ব্যক্তিগত কৃতিত্বের সমন্বয়ে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় শহীদ আব্দুর রব হল। ৫০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে রানার্সআপ হয় শাহ আমানত হল। ২১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও ছিল চমক। শহীদ আব্দুর রব হলের হীরক রায় এবং অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের রুমন জয় তঞ্চঙ্গ্যা ২০ পয়েন্ট করে যৌথভাবে ব্যক্তিগত চ্যাম্পিয়ন হন। রুমন জয় তঞ্চঙ্গ্যা অর্জন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘দ্রুততম মানব’ সম্মাননা। ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শাহ আমানত হলের মো. জাকির হোসেন ব্যক্তিগত রানারআপ হন।
ছাত্রী হলগুলোর লড়াইও ছিল সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হল। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ প্রীতিলতা হল, ১০ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয় শামসুন নাহার হল।
ব্যক্তিগত সাফল্যে উজ্জ্বল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলের শিক্ষার্থী তামান্না মাহবুব প্রীতি। চাকসুর সহ-খেলাধুলাবিষয়ক সম্পাদক মাহবুব প্রীতি ২০ পয়েন্ট অর্জন করে ব্যক্তিগত চ্যাম্পিয়ন ও ‘দ্রুততম মানবী’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। একই হলের মিফতা জাহান মীম ১৩ পয়েন্ট পেয়ে ব্যক্তিগত রানারআপ হন।
খেলা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন। এ ছাড়া সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য বলেন, এবারের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া সংস্কৃতিকে নতুন উদ্দীপনায় জাগিয়ে তুলেছে। খেলাধুলা শুধু শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় না; এটি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, সহমর্মিতা এবং দলগত চেতনা গঠনের অন্যতম মাধ্যম।