হোম > শিক্ষা

ঢাবি নিয়ে মন্তব্য: বিতর্কের মুখে বক্তব্য প্রত্যাহার করলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) নিয়ে একটি পডকাস্টের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মুখে নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর অসতর্ক বক্তব্যের কারণে অনেকেই মর্মাহত ও অসন্তুষ্ট হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন।

আজ শুক্রবার তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী এই স্পষ্টীকরণ ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পডকাস্টের অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সেখানে দেশের উচ্চশিক্ষা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান একাডেমিক মানদণ্ড ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে তাঁর করা কিছু মন্তব্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

পডকাস্টের সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়টির ঐতিহ্য ও অবদানের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।

বিতর্ক আরও ছড়িয়ে পড়ার আগেই আজ নিজের ফেসবুক পোস্টে ববি হাজ্জাজ লেখেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে একটি পডকাস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আমার কিছু মন্তব্য নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনে করি, আমার বক্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে বোঝা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তার ভুল ব্যাখ্যাও করা হয়েছে। তাই বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রয়োজন অনুভব করছি।’

তিনি কয়েকটি নির্দিষ্ট পয়েন্টের মাধ্যমে তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করেন:

১. ‘ব্যক্তিগত মতামত, সরকারের নীতি নয়’

প্রতিমন্ত্রী শুরুতেই স্পষ্ট করেন যে, পডকাস্টের আলোচনাটি ছিল সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক ও স্বতঃস্ফূর্ত কথোপকথন। এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা নীতিগত আলোচনা ছিল না। তিনি বলেন, ‘এগুলো সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত চিন্তা ও মতামত; এগুলো কোনোভাবেই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নয়।’

২. পূর্ববর্তী সরকারের আমলে শিক্ষার অবক্ষয়ের সমালোচনা

বিগত শাসনামলে উচ্চশিক্ষা খাতের নানাবিধ সংকটের বিষয়টিও তিনি তাঁর বিবৃতিতে তুলে ধরেন। তিনি লেখেন:

‘গত সতেরো বছরে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। গবেষণার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, একাডেমিক উৎকর্ষের পরিবর্তে স্বৈরাচারী সরকারের রাজনৈতিক বিবেচনা অনেক ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্লেজারিজমের (মেধাসত্ব চুরি) মতো অনৈতিক একাডেমিক চর্চার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।’

প্রতিমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের অনৈতিক চর্চার কোনো স্থান থাকতে পারে না।

৩. ‘উদ্দেশ্য ছিল গবেষণানির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষা’

প্রতিমন্ত্রী তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, তাঁর আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও বেশি বিশ্বমানের একটি গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং দেশের স্বাধীনতা ও জাতি গঠনে এর ঐতিহাসিক অবদানের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।

বিবৃতির শেষ অংশে বিতর্ক এড়াতে ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি শান্ত করতে নিজের বক্তব্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘আমার আংশিক বক্তব্যটি যেহেতু কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করেছে, অনেকেই অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং আমার অনেক প্রিয়জন ও শুভাকাঙ্ক্ষী মর্মাহত হয়েছেন, সেজন্য আমার এই বক্তব্যটি আমি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। আশা করি এরপর এ বিষয়ে আর কোনো বিতর্ক ও ভুল বোঝাবুঝি থাকবে না।’

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও গবেষণানির্ভর একটি শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠে পরিণত হবে।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি ঢাবির বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠনের

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি (পর্ব-২)

মালয়েশিয়ায় সরকারি বৃত্তির সুযোগ

এআইইউবি ও ভারতের চিতকারা ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

জাল সনদে চাকরি: আরও ১৪১ শিক্ষককে শোকজ

পাবিপ্রবি দেশের অন্যতম শীর্ষ গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে

বিশ্বের দক্ষিণ অঞ্চলের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে একত্র করতে চায় চীন

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি (পর্ব-১)

শিক্ষার্থীদের ভাবনায় ঈদুল আজহা

নিউজিল্যান্ডে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মাস্টার্স ও পিএইচডির সুযোগ