হোম > শিক্ষা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: চরম আবাসন সংকটে ছাত্রীরা

মো. বেলাল হোসেন, ঢাবি

কার্জন হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় । ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার। বাড়ি গাজীপুর। সেখান থেকে প্রতিদিন ক্যাম্পাসে এসে ক্লাস-পরীক্ষা চালানো কঠিন হয়ে যায় তাঁর। চেষ্টা করছেন আবাসিক হলে ওঠার। কিন্তু হলগুলোতে পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় সম্ভব হচ্ছে না।

ফারজানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘প্রতিদিন যাওয়া-আসায় অন্তত পাঁচ ঘণ্টা সময় চলে যায় পথেই। এত দূর থেকে এসে ক্লাস করা, পরীক্ষা দেওয়া ও পড়াশোনা ঠিক রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রী ফারজানা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন শিক্ষার্থী ৪১ হাজারের মতো। এর মধ্যে ছাত্র প্রায় ২২ হাজার এবং ছাত্রীর সংখ্যা ১৯ হাজারের কাছাকাছি। শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য হল আছে ১৮টি। ছাত্রদের হল ১৩টি এবং ছাত্রীদের ৫টি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, বর্তমানে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় অর্ধেক নারী। অনেক অনুষদ ও বিভাগে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা পুরুষদের সমান কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি। কিন্তু আবাসন সুবিধার ক্ষেত্রে সেই অনুপাতে অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ ঘটেনি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন নারী শিক্ষার্থীরাই।

ছাত্রীরা থাকেন পাঁচটি হলে। এগুলো হলো—রোকেয়া হল, শামসুন নাহার হল, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও সুফিয়া কামাল হল। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৮ হাজার ৯০২ নারী শিক্ষার্থীর বিপরীতে এক সিটে দুজন থাকার মাধ্যমে পাঁচটি হলে আবাসিক হতে পেরেছেন ৯ হাজার ৫ জন। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি ছাত্রী ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে এসে প্রতিদিন ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেন। দীর্ঘদিন ধরে এমন আবাসন সংকটে গণরুম এবং গাদাগাদি করে বসবাসের বাস্তবতায় দিন কাটাচ্ছেন নারী শিক্ষার্থীরা।

ছাত্রীদের সবচেয়ে বড় আবাসিক হল রোকেয়া হল। হলটিতে ৫০১টি কক্ষে মোট ২ হাজার ৪টি সিট রয়েছে। এই হলের সঙ্গে সংযুক্ত ছাত্রীর সংখ্যা ৭ হাজার ২৭৮ জন। এর মধ্যে আবাসিক হতে পেরেছেন ৩ হাজার ৫৬ জন।

সংকট সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হলগুলোতে ‘বাঙ্ক বেড সিস্টেম’ বা দোতলা শয্যা চালু করেছে। কিন্তু এতে সংকট কমার বদলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সামিয়া জাহান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাঙ্ক বেড চালুর পর এখন আটজনের একটি রুমে ১৬ জন করে থাকতে হচ্ছে। এত অল্প জায়গায় এত বেশি মানুষ থাকায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পড়াশোনার পরিবেশ থাকে না, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নেই। রাতে ঘুমানো, কাপড়চোপড় রাখা কিংবা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে যায়। অতিরিক্ত মানুষের কারণে গরম, শব্দ ও স্বাস্থ্যগত সমস্যাও বেড়ে যাচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোট ছোট কক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকায় ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক স্বস্তি ও শিক্ষার পরিবেশ—সবকিছুই ব্যাহত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলা বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘হলে উঠতে না পেরে অনেককে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হয়। থাকেন মেস করে। বাইরে থাকার কারণে যেমন অতিরিক্ত খরচ হয়, তেমনি নিরাপত্তা নিয়েও সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।’

অন্যদিকে ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের শিক্ষার্থী মোসা. মিমলা বলেন, ‘আমাদের হলটি মূল ক্যাম্পাস থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় প্রতিদিন ক্লাসে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। আজিমপুর, নিউমার্কেট ও নীলক্ষেতের মতো ব্যস্ত এলাকাগুলো পার হয়ে হলে ফিরতে হয়। যানজট, ভিড় এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ সব সময়ই থাকে।’

নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার বিষয় জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় আবাসন সংকট প্রকট। এ সংকট নিরসনে নতুন ভবন ও নতুন হল নির্মাণের বিকল্প নেই।’

ফরহাদ আরও বলেন, ‘তবে আমরা আমাদের জায়গা থেকে চেষ্টা করছি, বিশেষ করে ক্যাম্পাসের বাইরের হল থেকে শিক্ষার্থীদের আসার জন্য আমরা ইলেকট্রিক কার সার্ভিস চালু করেছি। শিগগির একটি এসি বাস চালু হবে। এটি সার্বক্ষণিক শুধু শিক্ষার্থীদের বাইরের ক্যাম্পাস থেকে আসা-যাওয়ার কাজে ব্যবহার করা হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দিন দিন নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ইতিবাচক। তবে সেই অনুপাতে আবাসন সুবিধা বাড়েনি। আমরা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন হল নির্মাণ এবং আসনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে কাজ করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ছাত্রীদের জন্য চারটি নতুন হল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, ‘এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করছি।’

কর্মজীবী ও নতুনদের প্রস্তুতি

২০২৮ সালের মধ্যে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের কাজ চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যারেজ থেকে শিক্ষার্থীর সাইকেল চুরি, থানায় অভিযোগ

শিক্ষায় নতুন লক্ষ্যের চেয়ে বিদ্যমান সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ: ইউনিসেফের গবেষণা

গবেষণায় অবদানের জন্য সম্মাননা পেলেন আইএসইউর ড. হাকিকুর

প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে পাঠদান করতে দেওয়া হবে না: ববি হাজ্জাজ

শিক্ষার মান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী

ঢাবির নতুন প্রোভিসি আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী

সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ব্যাগ, ড্রেস দ্রুত বিতরণ করা হবে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

পরিবেশ রক্ষায় সহযোগিতা জোরদারে একমত ঢাবি ও সুইডেন দূতাবাস