আন্তর্জাতিক সংগঠন ইয়ুথ হাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা, মালয়েশিয়াপ্রবাসী পাভেল সরওয়ার। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশ-বিদেশে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে কাজ করছেন। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নাদিম মজিদ।
প্রশ্ন: অলাভজনক সংগঠন ‘ইয়ুথ হাব’ কী নিয়ে কাজ করে? বাংলাদেশে এর উল্লেখযোগ্য কাজগুলো কী?
উত্তর: ইয়ুথ হাব একটি যুব নেতৃত্বাধীন অলাভজনক সংস্থা। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সঙ্গে সংগতি রেখে এটি তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, সামাজিক উদ্ভাবন ও যুব উন্নয়নে কাজ করছে। বাংলাদেশে সংগঠনটি বিশেষভাবে এসডিজি ৩ (সুস্বাস্থ্য), ৪ (গুণগত শিক্ষা), ৫ (লিঙ্গসমতা), ৮ (শোভন কর্ম ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি), ৯ (শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো) এবং ১৭ (অংশীদারত্বের মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন)—এ লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছে। ইয়ুথ হাব তরুণদের উৎপাদনশীল ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে। বিশেষ করে মেয়েদের উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা ক্ষেত্রে সক্ষম করে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়। শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সমন্বয়ের মাধ্যমে সংগঠনটি এমন পরিবর্তন আনতে চায়, যাতে প্রতিটি তরুণ জীবনের শুরুতেই সেরা সুযোগ পায় এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
প্রশ্ন: আপনি মালয়েশিয়ায় বসবাস করে কর্মব্যস্ততার মধ্যেও বাংলাদেশকে ধারণ করেন। আপনার অনুপ্রেরণার উৎস কী?
উত্তর: বাংলাদেশ আমার শিকড়, আমার পরিচয়। দেশের মানুষের সম্ভাবনা, বিশেষ করে তরুণদের অদম্য শক্তি আমাকে সব সময় অনুপ্রাণিত করে। প্রবাসে থেকেও যখন দেখি সামান্য সহায়তা বা সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে একজন তরুণ নিজের জীবন ও সমাজ বদলে দিতে পারে, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রেরণা। এ ছাড়া পরিবার, শিক্ষক, সহকর্মী এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা আমাকে সাহস জোগায়। বাংলাদেশকে বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরার অনুপ্রেরণা দেয়।
প্রশ্ন: ইয়ুথ হাব কবে প্রতিষ্ঠিত হয়? উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো কী?
উত্তর: ইয়ুথ হাব প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালে। আমি পাভেল সরওয়ার (বাংলাদেশ), সুমাইয়া জাফরিন চৌধুরী (বাংলাদেশ) এবং নিরাজ ভুসাল (নেপাল) যৌথভাবে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করি। আমাদের লক্ষ্য ছিল, প্রতিটি শিশু ও তরুণ যেন জীবনের শুরুতেই সেরা সুযোগ পায় এবং ভবিষ্যতে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারি।
সংগঠনের উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
প্রশ্ন: বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশি তরুণেরা কেন আন্তর্জাতিক সংগঠন গড়ে তোলার চিন্তা করবে?
উত্তর: আন্তর্জাতিক সংগঠন গড়ে তোলার চিন্তা তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে এবং বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে। শুধু নিজস্ব কমিউনিটিতে সীমাবদ্ধ থাকলে সম্ভাবনা ও প্রভাব—দুটিই সীমিত হয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশি তরুণেরা বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানে অবদান রাখতে পারে, দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে পারে এবং নেতৃত্বের জায়গায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারে। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নতুন পথ তৈরি হয়।
প্রশ্ন: গুগল ম্যাপিং ও কমিউনিটি বিল্ডিংয়ের মতো স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ তরুণদের কেন করা উচিত?
উত্তর: গুগল ম্যাপিং ও কমিউনিটি বিল্ডিং বাস্তব সমস্যার সমাধানে সরাসরি ভূমিকা রাখে। এ ধরনের কাজে যুক্ত হলে তরুণেরা প্রযুক্তিগত দক্ষতা, দলগত কাজ, নেতৃত্ব এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ অর্জন করে।
একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জরুরি সেবাকে আরও সহজলভ্য করা সম্ভব হয়। তরুণ বয়সেই স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে সম্পৃক্ত হলে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও বৈশ্বিক সচেতনতা গড়ে ওঠে।
প্রশ্ন: সামাজিক কাজ ও পেশাগত জীবনের সমন্বয় কীভাবে করেন?
উত্তর: আমি সামাজিক কাজকে পেশাগত জীবনের পরিপূরক হিসেবে দেখি। সময় ব্যবস্থাপনা, সঠিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং দক্ষ টিম গড়ে তোলার মাধ্যমে এ সমন্বয় সম্ভব হয়েছে। পেশাগত জীবনে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সামাজিক কাজে কাজে লাগে, আবার সামাজিক কাজের অভিজ্ঞতা আমাকে আরও পরিণত ও দায়িত্বশীল পেশাজীবী হতে সাহায্য করে। এ সমন্বয়ই আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।