এসএসসি পরীক্ষার খাতা পরীক্ষকেরা ঠিকভাবে দেখছেন কি না তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের বোর্ডগুলো যে খাতা দেখার জন্য এক্সামিনারকে সিলেক্ট করে এবং তাদেরকে টাইম কম দেওয়া হয় এর কোনো পরিসংখ্যান নেই। একজন শিক্ষকের ৩০০ খাতা দেখতে তাঁর কতদিন সময় লাগতে পারে...সেগুলি এবার বিবেচনা করে তাদেরকে এনাফ সময় দেওয়া হচ্ছে এবং এক্সামিনার বাড়ানো হচ্ছে। যাতে খাতাগুলো সুন্দরভাবে দেখেন।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘খাতা দেখার পদ্ধতি ঠিক আছে কি না এটা ইতিপূর্বে কখনো এই বিষয়গুলোকে খতিয়ে দেখা হয়নি। কোন শিক্ষক কঠিন মার্ক দিয়েছেন, কোন শিক্ষক ঠিকমতো কাজ করেননি, কোন শিক্ষক হয়তোবা সময়ের অভাবে বর্গা খাতা দেখিয়েছেন। এই সমস্ত বিষয়গুলোকে আমরা আলোচনায় এনেছি। এনে আমরা প্রত্যেকটি বোর্ডের কিছু কিছু খাতা আমরা রেন্ডম স্যাম্পলিং করব যে এক্সামিনাররা ঠিকমতো খাতা দেখছি কি না। বাট ইটস নট এ থ্রেড টু স্টুডেন্ট। এটা এক্সামিনার পরীক্ষা করব আমরা। সেটি একটি বিষয় এবার আমরা করতে যাচ্ছি।’
এবার এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক নম্বর দেওয়ার বিধানও রাখা হচ্ছে না বলে তুলে ধরেন মন্ত্রী। মানবিক নম্বর দেওয়া হবে কি না এমন এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন কোনো ইনস্ট্রাকশন দেইনি এবং খাতা যেইভাবে লিবারেল ওয়েতে দেখতে হবে সেটাই তারা দেখবে।
একটি প্রশ্নের উত্তর যদি ১০টি লাইন থাকে নয়টি যদি ঠিক হয়, যেইভাবে পারশিয়ালি নম্বর দেওয়া সেই সঠিকভাবেই দিতে হবে। এখানে অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এসএসসিতে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এখন আমরা নজরদারি করছি, সাইবার ক্রাইম যারা করবে; যারা প্রশ্নপত্র থানা থেকে বা ট্রেজারি থেকে উত্তোলন করবে তাদের ফোন নম্বর রেখে তারা কোনো ক্রাইম করছে কি না তাদের লিস্ট আমরা নিয়েছি। আমরা প্রত্যেকটা পরীক্ষা কেন্দ্রে তাদের যে সিসি ক্যামেরা রয়েছে, এগুলি সচল না অচল, বাউন্ডারি ক্যামেরাগুলো এগুলি সব আমরা মনিটরিং করার জন্য নিয়েছি এবং আমাদের মনিটরিং সেল এই রুমে থাকবে আমাদের মাদ্রাসার কনফারেন্স রুমে থাকবে। আমাদের প্রাইমারি এডুকেশন কনফারেন্স রুমে থাকবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনিটরিং সেল করেছি। সেখান থেকে মনিটরিং করব...আমরা এখনো খুব সুন্দরভাবে এসব অর্গানাইজ করেছি। ডিস্ট্রিক্ট ওয়েতে আমরা একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ করেছি। ওই গ্রুপে ডিসি ইউনো, এসপি পুলিশ এবং স্কুল কলেজের সচিবদেরকে নিয়ে। হোয়াট নট? উই এড্রেস এভরিথিং। এমনকি সাইবার ক্রাইম কীভাবে কন্ট্রোল করা যায়; এজন্য সাইবার স্পেশালিস্টদের কাছে ওই নম্বরগুলো আমি পাঠিয়ে দিয়েছি।’
পরীক্ষা চলাকালীন লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট যাতে না হয় সেজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও তুলে ধরেন মন্ত্রী।
কোচিং সেন্টারগুলোকে ‘শিক্ষার দুর্বলতা’ হিসাবে আখ্যায়িত করে সেগুলোকে স্বীকৃতি দেন না বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে এ পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। ১৮ লাখ ৫৭ হাজার পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেবেন।