হোম > শিক্ষা
দ্য ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড

ঐতিহ্য, গবেষণা ও বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা

মো. রবিউল আলম

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য দ্য ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড (ইউকিউ)। ব্রিসবেনভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়টি শতবর্ষের ঐতিহ্য, বিশ্বমানের শিক্ষা, গবেষণায় উৎকর্ষ এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধার কারণে সুপরিচিত। পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মজীবনের প্রস্তুতিতেও রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।

পরিচিতি ও ঐতিহ্য

কুইন্সল্যান্ড পার্লামেন্টের ১৯০৯ সালের আইনের ভিত্তিতে ১৯১০ সালের ১৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১১ সালে মাত্র ৮৩ শিক্ষার্থী নিয়ে কলা, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদে পাঠদান শুরু হয়।

বর্তমানে সেন্ট লুসিয়া, গ্যাটন, হারস্টন ও ডাটন পার্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বিস্তৃত। প্রধান ক্যাম্পাস সেন্ট লুসিয়া ব্রিসবেন শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে। ব্রিসবেন নদীর পাশে ১১৪ হেক্টরজুড়ে এর অবস্থান। ঐতিহ্যবাহী গ্রেট কোর্ট, জাকারান্ডাগাছ, জাদুঘর, সবুজ প্রাঙ্গণ, আধুনিক গবেষণাগার ও ক্রীড়া সুবিধা ক্যাম্পাসকে দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্য।

২০২৭ সালের কিউএস বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিংয়ে ইউকিউ যৌথভাবে ৪০তম, অস্ট্রেলিয়ায় ষষ্ঠ। একই বছরের টাইমস হায়ার এডুকেশন র‍্যাঙ্কিংয়ে যৌথভাবে ৭৩তম। ক্রীড়াবিজ্ঞান, খনিজ প্রকৌশল, পরিবেশবিজ্ঞান, শিক্ষা ও ফার্মেসিতেও রয়েছে আন্তর্জাতিক পরিচিতি।

পড়াশোনা ও গবেষণা

ইউকিউতে স্নাতক থেকে পিএইচডি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ডিগ্রি অনুসন্ধানে একক ও যৌথ ডিগ্রিসহ ৩৩৫টি ফল পাওয়া যায়। কৃষি, ব্যবসা, অর্থনীতি, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, আইন, চিকিৎসা, পরিবেশ, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানসহ রয়েছে নানা বিষয়।

প্রোগ্রাম অনুযায়ী শিক্ষার ব্যয় ভিন্ন। ২০২৭ সালে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাচেলর অব সায়েন্সে নির্দেশক বার্ষিক টিউশন ফি ৫৬ হাজার ৮০০ অস্ট্রেলীয় ডলার। মাস্টার অব এডুকেশনাল স্টাডিজে ৪৮ হাজার ৮০ ডলার।

গবেষণায় ইউকিউর বিশেষ সুনাম রয়েছে। মস্তিষ্কবিজ্ঞান, আণবিক জীববিজ্ঞান, জৈবপ্রযুক্তি, কৃষি, স্বাস্থ্য, খনিজ সম্পদ, পরিবেশ ও প্রকৌশলে রয়েছে সমৃদ্ধ গবেষণা অবকাঠামো। পিএইচডি সাধারণত তিন থেকে চার বছরের পূর্ণকালীন গবেষণা। প্রতিবছর প্রায় এক হাজার নতুন পিএইচডি গবেষক এখানে যোগ দেন। গবেষণায় আগ্রহীদের জন্য উপযুক্ত সুপারভাইজার নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।

ইউকিউতে কৃষিবিষয়ে পিএইচডি গবেষক সোহেল রানা বলেন, ‘ইউকিউর গবেষণা পরিবেশের বড় শক্তি হলো উন্নত গবেষণা অবকাঠামো, সুপারভাইজারদের সহযোগিতা এবং বিভিন্ন বিষয়ের গবেষকদের সঙ্গে কাজের সুযোগ। নিজের গবেষণা স্বাধীনভাবে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় একাডেমিক সহায়তাও পাওয়া যায়।’

একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পোল্ট্রি অ্যান্ড নিউট্রিশন বিষয়ে পিএইচডি গবেষক আনজুয়ারা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক গবেষক হিসেবে এখানে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা, একাডেমিক সহযোগিতা এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ খুবই সহায়ক। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের গবেষকদের সঙ্গে কাজ ও মতবিনিময়ের সুযোগ গবেষণার অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে।’

শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসজীবন

২০২৫ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউকিউতে শিক্ষার্থী ৬০ হাজার ১৯৩ জন। তাঁদের ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। ফলে ক্যাম্পাসে গড়ে উঠেছে বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট হালনাগাদ সংখ্যা প্রকাশিত না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের সংগঠিত উপস্থিতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক ছাত্রসংগঠনের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে লাইব্রেরি, জাদুঘর, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন। ইউকিউর প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী পিটার ডোহার্টি, অস্ট্রেলিয়ার প্রথম নারী গভর্নর জেনারেল ডেম কুয়েন্টিন ব্রাইস এবং অস্কারজয়ী অভিনেতা জিওফ্রে রাশের নাম।

ভর্তি ও বৃত্তির সুযোগ

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইউকিউতে আকর্ষণীয় বৃত্তি রয়েছে। ২০২৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স স্কলারশিপে যোগ্য শিক্ষার্থীরা প্রতি সেমিস্টারে টিউশন ফিতে ২৫ শতাংশ ছাড় পান। ইন্টারন্যাশনাল হাই অ্যাচিভার্স স্কলারশিপে ছাড় ২০ শতাংশ। গবেষণা শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে অস্ট্রেলিয়ান গভর্নমেন্ট রিসার্চ ট্রেনিং প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন বৃত্তি। ২০২৬ সালের হিসাবে বার্ষিক করমুক্ত জীবনযাপন ভাতা ৩৯ হাজার ২২০ অস্ট্রেলীয় ডলার। ক্ষেত্রবিশেষে টিউশন ও স্বাস্থ্যবিমার সহায়তাও পাওয়া যায়।

অধিকাংশ প্রোগ্রামে আইইএলটিএসে ন্যূনতম সামগ্রিক স্কোর ৬.৫ এবং প্রতিটি অংশে ৬.০ প্রয়োজন। তবে বিষয়ভেদে শর্ত বেশি হতে পারে। পিএইচডিতে একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি গবেষণার অভিজ্ঞতা, সুপারভাইজার নির্বাচন ও প্রাথমিক এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট গুরুত্বপূর্ণ।

ভর্তির অফার গ্রহণের পর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সাধারণত সাবক্লাস ৫০০ স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ভর্তি নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যবিমা, আর্থিক সক্ষমতা ও প্রকৃত শিক্ষার্থী-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ জরুরি।

কর্মজীবন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মজীবনের প্রস্তুতিতেও সহায়তা দেয় ইউকিউ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক হিসাবে শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ হাজার ২০০টির বেশি চাকরি, ইন্টার্নশিপ ও প্লেসমেন্টের সুযোগ বিজ্ঞাপিত হয়েছে। রয়েছে কর্মমেলা, নেতৃত্ব বিকাশ, স্বেচ্ছাসেবা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ।

স্নাতক শেষে যোগ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাবক্লাস ৪৮৫ টেম্পোরারি গ্র্যাজুয়েট ভিসার সুবিধা পেতে পারেন। সাধারণত স্নাতক ও কোর্সওয়ার্ক মাস্টার্সে দুই বছর এবং গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডিতে তিন বছর পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে অবস্থান ও কাজের সুযোগ থাকতে পারে। তবে বয়সসহ অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম চাকরি কিংবা স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তা নয়। তাই বিষয় নির্বাচন, দক্ষতা, ব্যয়, বৃত্তি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। শতবর্ষের ঐতিহ্য, মনোরম ক্যাম্পাস, গবেষণায় উৎকর্ষ, আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও কর্মজীবনের প্রস্তুতির সমন্বয়ে দ্য ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য।

লেখক: পিএইচডি গবেষক ও ক্যাজুয়াল একাডেমিক, দ্য ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া

লিটারেচার রিভিউর মানচিত্রে স্টোরিবোর্ড

উৎকর্ষের অভিযাত্রায় ইউএসটিসি

ইউরোপে সম্পূর্ণ বৃত্তিতে পড়ার সুযোগ

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অনারারি ফেলোশিপ পেলেন পিটার সিঙ্গার

বিইউএফটিতে ৭ম গবেষণা সম্মেলন

এইচএসসির ফল: ইংরেজি-আইসিটিতেই বিপর্যয়

টানা দুই বছর শূন্য পাসের পর এবার কলেজের ‘মান রাখল’ একজন

বিদ্যুতায়িত হয়ে দুই হাত হারানো সীতাকুণ্ডের রাব্বি এবারও পেলেন জিপিএ-৫

যে কারণে ১৫ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার সর্বনিম্ন

লক্ষ্মীপুরে পাসশূন্য পাঁচ কলেজ, পাসের হার ৪১.২৯ শতাংশ