জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) স্টাফ বাসে করে ক্যাম্পাসে আসার সময় তিন শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে চিটাগাং রোড থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়গামী ১৩ নম্বর স্টাফ বাসে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই শিক্ষার্থীরা। তাঁদের মধ্যে দুজন ছাত্রী ও একজন ছাত্র।
অভিযোগে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, সকালে স্টুডেন্ট বাস মিস হওয়ায় তাঁরা বাধ্য হয়ে স্টাফ বাসে ওঠেন। বাসে ওঠার পর হাবিবুর নামের এক কর্মকর্তা তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তাঁদের আইডি কার্ড পরীক্ষা করে কিছুক্ষণের জন্য নিয়ে রাখেন। পরে তাঁরা নেমে যাওয়ার সময় তা ফেরত দিয়ে তাঁদের অপমান করা হয়। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘বাস থেকে নেমে যাও, পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাও। এটা স্টাফদের জন্য, স্টুডেন্টদের জন্য না।’ এতে দুজন শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং পরবর্তী ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
বাসে উপস্থিত কর্মকর্তা ও সহকারী রেজিস্ট্রার হালিম বলেন, ‘ঘটনাটি ঘটেছে সত্য। তবে কেন এমন আচরণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। আমরা প্রায়ই দেখি, স্টুডেন্ট বাস মিস করলে শিক্ষার্থীরা স্টাফ বাসে করে আসে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক বলেন, ‘যেকোনো শিক্ষার্থীর প্রয়োজনকে আমাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। বাস মিস করলে কাজলা বা শনির আখড়া থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। কোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষক এ ধরনের দুর্ব্যবহার করলে তার শাস্তি হওয়া উচিত; আমার ক্ষেত্রে হলেও শাস্তি প্রযোজ্য।’
অভিযোগের বিষয়ে খন্দকার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কি না, তা নিশ্চিত করতেই আমি আইডি কার্ড নিয়েছিলাম। তবে যেভাবে অভিযোগ করা হয়েছে, তার সঙ্গে আমার বক্তব্যের মিল পাচ্ছি না।’
পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাওয়ার কথা বলার অভিযোগ অস্বীকার করে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বাসে আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। চাইলে তাঁদের কাছে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে—আমি এমন কিছু বলেছি কি না।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’