হোম > শিক্ষা

‎পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি বন্ধে আইন হালনাগাদ হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

‎পাবলিক পরীক্ষায় নকল ও ডিজিটাল জালিয়াতি ঠেকাতে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন হালনাগাদ করে আরও কঠোর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছে, তবে কিছু দুর্বলতা থাকায় তা পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

‎আজ সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহের অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘একটি আইন ছিল ১৯৮০ পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট। ওই আইন দিয়ে আমি ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত নকল প্রতিরোধ করেছিলাম। ক্লিয়ার? এখন মানুষকে স্মার্ট হয়ে গেছে। এখন ডিজিটাল অনলাইন শুরু হয়ে গেছে। ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন এই আইনটা করেছিলেন তখন কি ডিজিটাল অনলাইন ছিল?’‎

‎মন্ত্রী বলেন, ‘তাহলে ডিজিটাল এটাতে ইনক্লুড করতে হবে। তখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চিন্তা করে নাই যে পলিটিশিয়ানরা আর শিক্ষকরা মিলে এই শিক্ষাব্যবস্থাকে এই অবস্থা করবে। সেই জন্য ওই ধরনের আইন ছিল না। এখন আমি এসেই এই আইন পরিবর্তনের জন্য অলরেডি আমি ক্যাবিনেটে উঠিয়েছি। আইনের ড্রাফটের মধ্যে কিছু দুর্বলতা ছিল বলে এটাকে আবার আইন মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে। এখানে ডিজিটাল অ্যাক্ট ইনক্লুড করা হয়েছে।’‎

‎শিশুদের ডিজিটাল এডুকেশনে অভ্যস্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল এডুকেশনে আমাদেরকে এডমিয়েন্টেড করতে হবে। তাদেরকে অভ্যস্ত বানাতে হবে। এর কোনো বিকল্প নাই। কারণ এডুকেশন যে গ্লোবাল কমিউনিটি।’‎

‎একদিন অনলাইন একদিন অফলাইন ক্লাসের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘একদিন অনলাইনে শিখল, আরেকদিন অফলাইন আপনাকে স্কুলে আসতে হলো। করোনার সময় আমরা দেখেছি বাচ্চারা আন সোশ্যাল হয়ে গিয়েছে। আমরা সেটাও করছি না। আসো স্কুলে একদিন, আরেকদিন তুমি বাসায় থাকো। এইভাবে তাদের আমরা সেটা করছি।’

‎‎নতুন আইনে পাবলিক পরীক্ষার সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এবার আমি পাবলিক পরীক্ষার ডেফিনেশন পাল্টিয়েছি। এনি এক্সামিনেশন কন্ডাক্টেড বাই এনি গভর্নমেন্ট অথোরিটি, এনি পাবলিক অথোরিটি, এনি সিভিল অথোরিটি অল আর পাবলিক এক্সামিনেশন। তার মানে নকল শুধু আমার স্কুলে হবে, কলেজে হবে তা না, কোথাও হতে পারবে না। বুঝতে পেরেছেন তো?’‎

‎‎আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারা দেশে নকলমুক্ত ও স্বচ্ছ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে খাতা মূল্যায়নেও কঠোরভাবে নিয়ম অনুসরণের শিক্ষকদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’‎

‎শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষায় নকল বন্ধ করা যেমন জরুরি, তেমনি খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত নিয়ম না মানলে তা শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে পরীক্ষকদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। কোনো ধরনের গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না।’ শিক্ষার্থীরা যেন নিজ যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হতে পারে, সে পরিবেশ তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা বজায় রাখা এবং প্রতিটি ধাপে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি।‎

‎শিক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, ‘আগে খাতা মূল্যায়নের সময় ভিন্ন রঙের কলম ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে নম্বর বাড়ানোর প্রবণতা ছিল, যা শিক্ষার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ ধরনের অনিয়ম আর চলবে না।’‎

‎সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’‎

‎২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকরাই নকল বন্ধ করেছিলেন উল্লেখ করে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘তাহলে প্রমাণ হলো যে আবার ২০০৬ সালের পরে আস্তে আস্তে আস্তে আস্তে আপনারা নকলে সহজ শুরু করে দিছেন। কেন? বিকজ গভমেন্ট যা চায় আপনারা তা করেছেন। এটা হলো ইন্টেনশন অব গভমেন্ট।’‎

‎ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ ২ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল্লাহ, ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন, ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের রাষ্ট্রপতি মনোনীত বোর্ড সদস্য শফিকুল ইসলাম, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মিয়া নুরুল হক, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কামরুল হাসান, ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান, ময়মনসিংহ জিলা স্কুল প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালামসহ অনেকে। ‎

জিএসটি গুচ্ছের ‘বি’ ইউনিটে প্রথম হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মিজান

শিক্ষকদের জন্য আলাদা একটা পে-স্কেল গঠনের পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী

ইংরেজি চর্চা: ইংরেজিতে কথা এগোবেন যেভাবে (পর্ব-১)

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহে: শিক্ষামন্ত্রী

ইবি কর্মকর্তা সমিতির নির্বাচন: সভাপতি বাবুল, সম্পাদক তোজাম

দেশে সুযোগ না হলেও হার্ভার্ডে সফল আসিফ

১৫৩ বছরের ঐতিহ্যে উজ্জ্বল রাজশাহী কলেজ

পাঠকবন্ধুর বই আড্ডা: বই পড়লে কেউ বিপথে যায় না

পাঠকবন্ধু বরিশাল জেলা শাখা: সমাজকল্যাণে তারুণ্যের অঙ্গীকার

এআই যেন সহায়ক হয়, বিকল্প নয়: মো. সায়েদুর রহমান