প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা আপডেট করা হবে, সর্বোচ্চ সমতা নিশ্চিত করে এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাদশাহ ফয়সল ইনস্টিটিউটে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সকল অংশীজনের সঙ্গে আলাপ করে সরকার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা আপডেট করবে। যার মধ্যে বৃত্তির অর্থের পরিমাণ এবং কত সংখ্যক শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবে তা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। সাংবাদিকদের মতামতও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। সর্বোচ্চ সমতা নিশ্চিত করে আমরা নীতিমালা প্রণয়ন করব।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো বৈষম্য নেই বলেও দাবি করেন ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, বৃত্তি পরীক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি আনুপাতিক হার হিসেবে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য হচ্ছে না। সরকারি স্কুলের আটজনের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছে, আর বেসরকারি স্কুলের পাঁচজনে একজন বৃত্তি পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। বৃত্তির আনুপাতিক হার হিসেবে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরাও সমান সুযোগ পাচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এ বছর বৃত্তি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ৬ লাখ ৪০ হাজার। এর মধ্যে সরকারি সাড়ে ৫ লাখ ৫০ হাজার এবং বেসরকারি ৯০ হাজার। মোট বৃত্তির সংখ্যা ৮২ হাজার ৫০০; এর মধ্যে সরকারি ৬৬ হাজার এবং বেসরকারি ১৬ হাজার ৫০০। বৃত্তির অনুপাত সরকারি ৮: ১ এবং বেসরকারি ৫ দশমিক ৫: ১।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে দেখলাম পরীক্ষা কার্যক্রম সন্তোষজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুকূল পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারছে। এ লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রতিটি কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু পরিবেশ পায় তা নিশ্চিত করা যায়।
এ সময় তিনি জানান, মাননীয় মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সার্বক্ষণিক খেয়াল রাখছেন। আমাদের সচিব সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। প্রাথমিক অধিদপ্তরের ডিজি সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন এবং মাঠপর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেও ইতিবাচক চিত্র পাওয়া গেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাঠ্যক্রমে উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পাঠ্যক্রমের প্রতি উৎসাহিত করার কোনো প্রসেস আমরা বাদ দিতে চাই না, মাইনাস করতে চাই না। তার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে যে পরীক্ষাটা হওয়ার কথা ছিল তারা কোনো কারণে দিতে পারেননি— সেটা আমরা চালু রেখেছি, আমরা পরীক্ষা দিয়েছি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুল ও মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান।